ভারতের ভাঙাচোরা দলকে হারিয়ে টি ২০ সিরিজে সমতা ফেরাল শ্রীলঙ্কা
কলম্বোর প্রেমদাসা স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় টি ২০ আন্তর্জাতিকে ভারতকে ৪ উইকেটে হারিয়ে সিরিজে সমতা ফেরাল শ্রীলঙ্কা। ১৩৩ রানের লক্ষ্যমাত্রায় দাসুন শনকার দল পৌঁছে যায় ২ বল বাকি থাকতেই। ৩৪ বলে ৪০ রান করে অপরাজিত থেকে ধনঞ্জয় ডি সিলভা দলের জয় নিশ্চিত করেন। ডাকওয়ার্থ লুইস সিস্টেমের হিসেব মাথায় রেখে চাপের মুখে শ্রীলঙ্কাকে লড়াইয়ে রাখে চামিকা করুণারত্নের বিশাল ছক্কা। ৬ বলে ১২ রানে অপরাজিত থাকেন একদিনের সিরিজেও ব্যাট হাতে ঝোড়ো ইনিংস খেলা শ্রীলঙ্কার এই ক্রিকেটার।

ভারতের ১৩২
ক্রুণাল পাণ্ডিয়া করোনা আক্রান্ত হওয়ায় দ্বিতীয় টি ২০ আন্তর্জাতিক একদিন পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। গতকালের পর আজও দুপুরে ভারতীয় দলের সকলের করোনা পরীক্ষা হয় এবং রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। তবে ক্রুণালের সংস্পর্শে আসা ৮ ক্রিকেটার আইসোলেশনে থাকায় ভারতকে এদিন নামতে হয়েছিল মাত্র পাঁচজন ব্যাটসম্যান নিয়ে। তাঁদের মধ্যে ঋতুরাজ গায়কোয়াড়, দেবদত্ত পাড়িক্কল ও নীতীশ রানা এদিনই দেশের হয়ে প্রথম টি ২০ আন্তর্জাতিক খেললেন। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ভারত তোলে ৫ উইকেটে ১৩২। ৪২ বল খেলে সর্বাধিক ৪০ রান করেন অধিনায়ক শিখর ধাওয়ান। ২৩ বলে ২৯ করেন দেবদত্ত, ওপেনার ঋতুরাজ আউট হন ১৮ বলে ২১ রান করে। সঞ্জু স্যামসন সাত ও নীতীশ রানা ৯ রানে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। ১১ বলে ১৩ করে অপরাজিত থাকেন ছয়ে নামা ভুবনেশ্বর কুমার। আকিলা ধনঞ্জয় ২টি উইকেট পান। শ্রীলঙ্কার ৮ জন এদিন বোলিং করেন। দুষ্মন্ত চামিরা, ওয়ানিন্দু হাসারঙ্গা ও অধিনায়ক দাসুন শনকা একটি করে উইকেট দখল করেন। চামিরা, ধনঞ্জয় ও হাসারঙ্গাই চার ওভারের কোটা পূরণ করেন।

প্রথম একাদশে দুই মালয়ালি
এদিন এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটল ভারতীয় দলে। কেরলে জন্মেছেন এমন দুই ক্রিকেটার রইলেন প্রথম একাদশে। তার মধ্যে পাড়িক্কল কেরলে জন্মালেও খেলেন কর্নাটকের হয়ে এবং আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরের হয়ে। সঞ্জু স্যামসন অবশ্য কেরলের হয়েই খেলেন, আইপিএলে নেতৃত্ব দেন রাজস্থান রয়্যালসকে। এদিন সঞ্জু ব্যাট হাতে হতাশই করলেন। ১৩ বলে ৭-এর বেশি করতে পারেননি। চলতি শতকে জন্মানো প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে আজ ভারতীয় দলে অভিষেক হল দেবদত্ত পাড়িক্কলের।

সমতা ফেরাল শ্রীলঙ্কা
জয়ের জন্য ১৩৩ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে ভারতের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে খুব স্বস্তিতে ছিল না শ্রীলঙ্কা। তবে চাপ সামলে শ্রীলঙ্কা লড়াইয়ে থাকে মিনোদ ভানুকা, ধনঞ্জয় ডি সিলভাদের ব্যাটিংয়ে। যখন খেলার ২ ওভার বাকি তখন কয়েক মিনিটের জন্য বৃষ্টি নামে। ড্রেসিংরুম থেকে কাগজ হাতে ডাগআউটে নেমে এসে ডাকওয়ার্থ লুইসের নিয়ম অনুযায়ী কত বলে কত রান দরকার সেই হিসেব মাঠে পাঠান। শ্রীলঙ্কা দলের তরফেও বার্তা পাঠানো হয়। সেই সময় খেলা বন্ধ হলে প্রয়োজনীয় রানের চেয়ে ৩ রান কম ছিল শ্রীলঙ্কার। কিন্তু বৃষ্টি হঠাৎ থামতেই খেলা ফের চালু হয়ে যায়। ১৯তম ওভারে ভুবনেশ্বর কুমারের বলে ছক্কা হাঁকিয়েই শ্রীলঙ্কাকে এগিয়ে দেন চামিকা করুণারত্নে। শেষ ওভারে দরকার ছিল ৮। অভিষেক ম্যাচে অবশ্য শেষ ওভারে ভারতকে জেতাতে পারেননি চেতন সাকারিয়া। ১টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে ৩৪ বলে ৪০ রান করে অপরাজিত থেকে ম্যাচের সেরা হন ধনঞ্জয় ডি সিলভা। মিনোদ ভানুকা করেন ৩৬। ৩০ রানের বিনিময়ে কুলদীপ যাদব নেন ২টি উইকেট। ভুবনেশ্বর কুমার, সাকারিয়া, বরুণ চক্রবর্তী ও রাহুল চাহার একটি করে উইকেট নেন।

কাল সিরিজের ফয়সালা
ক্রুণাল ও হার্দিক পাণ্ডিয়া, পৃথ্বী শ, সূর্যকুমার যাদব, মণীশ পাণ্ডে, ঈশান কিষাণ, যুজবেন্দ্র চাহাল, দীপক চাহার , কৃষ্ণাপ্পা গৌতম ছিটকে গিয়েছেন সিরিজ থেকে। ঈশান পোড়েল-সহ পাঁচ নেট বোলারকে মূল দলে নেওয়া হয়েছে। আজ ফিল্ডিংয়ের সময় চোট পাওয়া নভদীপ সাইনিও কাল খেলতে পারবেন কিনা স্পষ্ট নয়। সেক্ষেত্রে আরও কারও অভিষেক হতেই পারে। ভাঙাচোরা দলও যে লড়াই করেছে, এমনকী ১৩২ রানের পুঁজি নিয়েও শেষ ওভার অবধি লড়াই নিয়ে গিয়েছেন বোলাররা তাতে খুশি ভারত অধিনায়ক শিখর ধাওয়ান। তিনি বলেন, একজন ব্যাটসম্যান কম ছিল। সেইমতোই পরিকল্পনা অনুযায়ী ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকি। বল ঘুরছিল এবং থমকে ব্যাটে আসছিল। আরও ১০-১৫ রান হলে ভালো হতো। কিন্তু শেষ অবধি সকলেই যে হার না মানা মনোভাব দেখিয়ে লড়াই করেছেন, তাতে আমি গর্বিত। বোলার, ব্যাটসম্যান সকলেই ভালো খেলেছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় অবশ্য উঠেছে মজার দাবিও। বলা হচ্ছে, ভারতীয় দলে যখন আর ব্যাটসম্যান নেই তখন রাহুল দ্রাবিড় বরং শেষ ম্যাচে ব্যাট হাতে নেমে পড়ুন।

মূল দলে নেট বোলাররা
ক্রুণাল পাণ্ডিয়ার করোনা ধরা পড়ার পর তাঁর সংস্পর্শে আসা আরও ৮ জন ক্রিকেটার আইসোলেশনে রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে পাঁচজন নেট বোলার ঈশান পোড়েল, সন্দীপ ওয়ারিয়ার, অর্শদীপ সিং, আর সাই কিশোর ও সিমরজিৎ সিংকে টি ২০-র মূল দলে নেওয়া হয়েছে। তবে তাঁরা এদিন খেলেননি। কাল কেউ খেলবেন কিনা সেটাও এখনই বলা যাচ্ছে না। তবে ভারতীয় দলের কোচ রাহুল দ্রাবিড় বলেন, দেশে নিভৃতবাসে কাটিয়ে এখানে জৈব সুরক্ষা বলয়ে থাকা আমার জীবনেও প্রথম অভিজ্ঞতা। এটা বড় চ্যাসেঞ্জ। তবে করোনার কথা মাথায় রেখেই ২০ জনের দল পাঠানো হয়। প্রত্যেকে ভালো ক্রিকেটার বলেই সুযোগ দিয়েছেন নির্বাচকরা। সকলকে প্রথম একাদশে সুযোগ দেওয়াও সম্ভব নয়। তবে প্রথম ১৫ বা ২০-তে থাকলে তাঁকে যে কোনও সময় খেলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হয়। আমাদের হাতে অপশন কম, সেই মতোই ভারসাম্য বজায় রেখে দল গড়া হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications