মহাবিতর্কে মহারাজ! সৌরভ নিয়ম ভেঙে থাকেন ভারতের দল নির্বাচনের সভায়, দাবি নির্বাচকদের
বিসিসিআই সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় নতুন বিতর্কে জড়়ালেন। এবারের অভিযোগটি বেশ গুরুতরও বটে। সব কিছু ঠিকঠাক চললে বোর্ডের মসনদে সৌরভের এটাই শেষ বছর। কিন্তু তারই আগে তাঁকে ঘিরে একের পর এক বিতর্ক। বিরাট কোহলির সঙ্গে সংঘাত নিয়ে যখন বোর্ডের অন্দরে চলছে নানা জল্পনা, সমীকরণ, তখনই সৌরভের বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি নাকি ভারতের দল নির্বাচনের সভায় নিয়মিত হাজির থাকেন।

নয়া বিতর্কে সৌরভ
এই অভিযোগ কানাঘুষো কয়েক মাস ধরেই শোনা যাচ্ছিল। বিশেষ করে সামনে এসেছিল বিরাট কোহলির থেকে একদিনের নেতৃত্ব কেড়ে নেওয়ার পর। এবার একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন সেই বিস্ফোরক অভিযোগকেই সামনে এনেছে। নিয়ম অনুযায়ী বিসিসিআই সভাপতি ভারতের দল নির্বাচনী সভায় যোগ দিতে পারেন না। দল নির্বাচন করে থাকে জাতীয় নির্বাচকমণ্ডলী, যার একজন প্রধান থাকেন। দল নির্বাচনের পর তা ঘোষণা করতে পারেন আহ্বায়ক তথা বোর্ডের সচিব। কিন্তু সৌরভ নিয়মিত দল নির্বাচনী সভায় হাজির থাকেন বলে অভিযোগ। সম্প্রতি, ঋদ্ধিমান সাহা টেস্ট দল থেকে বাদ পড়ে বলেছিলেন, কানপুর টেস্টে লড়াকু ইনিংস খেলে দলের পরাজয় এড়ানোর পর সৌরভ তাঁকে আশ্বাস দিয়েছিলেন, তিনি যতদিন বোর্ডে আছেন ঋদ্ধির চিন্তার কারণ নেই। তারপরও কোনও কারণ না দেখিয়ে ঋদ্ধিকে বাদ দেওয়া হয়। স্বাভাবিকভাবেই তিনি যে অবাক তা প্রকাশ করেন। যদিও তা জনসমক্ষে আনা উচিত হয়নি বলে মন্তব্য করেন সিএবি সচিব তথা সৌরভের দাদা স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায়। সৌরভ-ঘনিষ্ঠ সিএবি কর্তারাও তীব্র কটাক্ষে বিদ্ধ করেন নম্র, ভদ্র ঋদ্ধিকে।

দল নির্বাচনী সভায় নিয়মিত!
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তারা প্রাক্তন ও বর্তমান কয়েকজন নির্বাচকের কাছে এ ব্যাপারে জানতে চেয়েছিল। সকলেই সৌরভ বোর্ড সভাপতি হওয়ার পর নির্বাচকের দায়িত্ব সামলেছেন বা সামলাচ্ছেন। তাঁদের দুজনের দাবি, সৌরভ অনলাইন দল নির্বাচনী সভাতেও যোগ দেন। তাঁর মতো ব্যক্তিত্ব এভাবে যোগ দেওয়ায় কারও কিছু বলার থাকে না। ফলে মতপ্রকাশে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েন অনেক নির্বাচকই। প্রবল অস্বস্তি নিয়ে অনেকে বক্তব্য পেশ করা থেকেও বিরত থাকেন। বিসিসিআইয়ের এক আধিকারিকের দাবি, সৌরভ সব কটি দল নির্বাচনী বৈঠকেই উপস্থিত থাকেন ২০১৯ সালের অক্টোবরে বোর্ড সভাপতি হওয়ার পর থেকে। উল্লেখ্য, সৌরভের জমানায় সবচেয়ে বড় বিতর্কটি হয়েছে বিরাট কোহলিকে অধিনায়কত্ব থেকে সরানো নিয়ে।

মুখ খোলার সাহস নেই
সৌরভ নিজে ১১৩টি টেস্ট ও ৩১১টি একদিনের আন্তর্জাতিক খেলেছেন। বর্তমান নির্বাচকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান চেতন শর্মা খেলেছেন ২৩টি টেস্ট ও ৬৫টি একদিনের আন্তর্জাতিক। প্রাক্তন নির্বাচকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান এমএসকে প্রসাদ ৬টি টেস্ট ও ১৭টি একদিনের আন্তর্জাতিক খেলার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। দুজনের খেলা আন্তর্জাতিক ম্যাচ যোগ করলেও সৌরভের ধারেকাছে পৌঁছায় না। বর্তমান নির্বাচকমণ্ডলীতে থাকা দেবাশিস মোহান্তি, সুনীল যোশী ও হরবিন্দর সিংয়ের খেলা আন্তর্জাতিক ম্যাচ ধরলে দাঁড়ায় ৪৩টি টেস্ট ও ১৯৫টি একদিনের আন্তর্জাতিক। আগের প্যানেলের নির্বাচকরা নিজেদের কেরিয়ারে সম্মিলিতভাবে ৯টি টেস্ট ও ২৮টি ওয়ান ডে ইন্টারন্যাশনাল খেলেছিলেন। ফলে সৌরভ নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নির্বাচনী সভায় হাজির থাকলেও কেউ মুখ খোলার সাহস পান না বলে অভিযোগ।

সৌরভ কেন নীরব?
২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর সৌরভকে দল নির্বাচনী সভায় দেখা গিয়েছিল এমএসকে প্রসাদ, জয় শাহ, বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা ও অন্যান্য নির্বাচকদের সঙ্গে। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে টি ২০ ও টেস্ট সিরিজের দল নির্বাচনী সভা ছিল সেটি। যদিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ছবিটিকে সৌরভ দল নির্বাচনী সভা বলে মানতে চাননি। সৌরভ পিটিআইকে বলেছিলেন, আমি কারও কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য নই। এই ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগকে গুরুত্বও দিচ্ছি না। বিসিসিআই সভাপতি হিসেবে কী করা উচিত তা সম্পর্কে তিনি যে ওয়াকিবহাল, নিজের ৪২৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে তিনি তা জানিয়ে দেন। এরপর সৌরভ এখনও মুখ খোলেননি বলে জানিয়েছে ওই সংবাদমাধ্যম।












Click it and Unblock the Notifications