কোচ আমরের শর্তপূরণ কানপুরে! এবার কোন স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যে শ্রেয়স আইয়ার?

গুরুর নজির স্পর্শ করলেন শিষ্য। কোচ প্রবীণ আমরে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে ১৯৯২ সালে অভিষেক টেস্টে শতরান পেয়েছিলেন। কানপুরে অভিষেক টেস্টে শতরান করলেন আমরের ছাত্র শ্রেয়স আইয়ার। খেললেন ১০৫ রানের ইনিংস। বিরাট কোহলি প্রথম টেস্টে না খেলার কারণেই কানপুরে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে শ্রেয়সের টেস্ট অভিষেক হয়। তাতে দুরন্ত শতরান করে তিনি সচিন তেন্ডুলকর, ভিভিএস লক্ষ্মণ, বিরাট কোহলিদের প্রশংসা আদায় করে নিলেন।

কোচ আমরের শর্তপূরণ কানপুরে! এবার স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যে শ্রেয়স

সচিনের সঙ্গে আমরে, বিনোদ কাম্বলি রমাকান্ত আচরেকরের কাছে ক্রিকেটের পাঠ নিয়েছেন। সেই আমরের ছাত্রই এবার গর্বিত করলেন। অভিষেক টেস্টে শ্রেয়সকে নিয়ে ভারতের শেষ তিনজন যাঁরা শতরান পেলেন তাঁরা সকলেই মুম্বইয়ের। শ্রেয়সের আগে এই নজির রয়েছে রোহিত শর্মা ও পৃথ্বী শ-র। দ্বিতীয় দিনের শেষে শ্রেয়স আইয়ার জানান, তাঁর বাড়িতে ডিনারের আমন্ত্রণ রক্ষার জন্য কোন শর্তটি দিয়েছিলেন কোচ আমরে। শ্রেয়সের কথায়, প্রবীণ স্যর (প্রবীণ আমরে) আমাকে বলেছিলেন যদি আমি টেস্ট শতরান করতে পারি তবেই তিনি আমার বাড়িতে ডিনারে আসবেন বলে কথা দিয়েছিলেন। ফলে আজই তাঁকে মেসেজ করে আমন্ত্রণ জানাব। আমি যখনই তাঁর কাছে ট্রেনিংয়ের জন্য যেতাম তিনি আমাকে বলতেন, "তুমি জীবনে অনেক কিছু অর্জন করেছো। আইপিএল দলের অধিনায়ক হয়েছো, অনেক রান করেছো, এটা-ওটা করেছো, কিন্তু সবটাই সাদা বলের ক্রিকেটে। তোমার সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব হবে যখন তুমি টেস্ট ক্যাপ পাবে।" আইয়ার নিশ্চিত, তিনি যখন টেস্ট ক্যাপ পেয়েছিলেন তখন খুশিই হয়েছেন তাঁর প্রবীণ স্যর।

কোচ আমরের শর্তপূরণ কানপুরে! এবার স্বপ্নপূরণের লক্ষ্যে শ্রেয়স

শ্রেয়স আইয়ার বলেন, আমি কখনও ভাবিনি যে কোনও সুযোগ আমি হাতছাড়া করেছি। আমি মনে করে এসেছি যে, সুযোগ আমার কাছে আসেনি। এমনকী আমি যখন চোট পাই তখনও ভালো ছন্দেই ছিলাম। অনূর্ধ্ব ১৯-এও ভালোই খেলে এই জায়গায় পৌঁছেছি। টেস্টে সুযোগ পেয়ে প্রথম টেস্টেই শতরান পাওয়ার তৃপ্তি, অনুভূতি আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারব না। এটা সব কিছুর থেকেই আলাদা। সকলে যখন শতরানের জন্য মেসেজ পাঠিয়ে বলছেন, এটা একটা দারুণ কীর্তি, তখন আমার মনে পড়ছে মুম্বইয়ে ক্রিকেট খেলার দিনের কথা। এটা দারুণ এক অনুভূতি।

বাবা-মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে শ্রেয়স বলেন, আমার বাবা সব সময় টেস্ট ক্রিকেটকে প্রাধান্য দেন। ফলে টেস্ট অভিষেকে শতরান করতে পেরে তাঁকে আনন্দ দিতে পেরেও খুব ভালো লাগছে। উল্লেখ্য, শ্রেয়সের পিতা সন্তোষ আইয়ার জানিয়েছিলেন, তাঁর অন্যতম পছন্দের ক্রিকেটার সুনীল গাভাসকর যখন শ্রেয়সের হাতে টেস্ট ক্যাপ তুলে দিচ্ছিলেন, সেটা তাঁর গর্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

শ্রেয়সের সঙ্গে দলে সুযোগ পাওয়ার লড়াইয়ে ছিলেন সূর্যকুমার যাদব। যাঁর নেতৃত্বে অভিষেকে রঞ্জি মরশুম খেলেছিলেন। সূর্যকে এদিন বিসিসিআইয়ের জন্য ইন্টারভিউ দিতে গিয়ে শ্রেয়স বলেন, টেস্ট ক্রিকেট খেলার স্বপ্ন দেখতাম। অভিষেকে শতরান করতে পারার থেকে ভালো কিছুই হয় না। কানপুর সব সময়ই আমার কাছে লাকি। প্রথম চারটি ইনিংসে ভালো কিছু করতে না পারলেও সূর্য আমাকে সুযোগ দিয়েছিলেন। কারণ, গ্রিন পার্কে উত্তরপ্রদেশের বিরুদ্ধে রান না পেলে আমার বাদ পড়া নিশ্চিতই ছিল। তাই সূর্যকে ধন্যবাদ জানাই। আইপিএলেও এখানে আমি ৯৩ রান করেছিলাম। আমার কাছে অন্যতম লাকি মাঠ কানপুরের গ্রিন পার্ক। শ্রেয়স আরও জানান, গতকাল রাতে ভালো ঘুমোতে পারেননি। ভোর পাঁচটাতেই উঠে পড়েছিলেন।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+