Lok Sabha Election 2024: বহরমপুরে তৃণমূলের ইউসুফ পাঠানের মুখে মোদীর কথা, 'দুই বিজেপি প্রার্থী' দেখছেন অধীর
Lok Sabha Election 2024: বহরমপুরে লোকসভা নির্বাচনের প্রচার শুরু করে দিলেন ইউসুফ পাঠান। বহিরাগত খোঁচা প্রসঙ্গে তাঁর মুখে উঠে এলো নরেন্দ্র মোদীর কথা।
পাঠানের এই বক্তব্যকে প্রথম বলেই ছক্কা হিসেবে দেখছে তৃণমূল। বহরমপুরের বিদায়ী সাংসদ তথা লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী তাঁর বিরুদ্ধে দুই বিজেপি প্রার্থীকে দেখছেন।

আজ বহরমপুরে জেলা তৃণমূলের কার্যালয়ে যান ইউসুফ পাঠান। টেক্সটাইল মোড়ের মঞ্চে পাঠানের হাত ধরে মঞ্চে ওঠেন জেলা তৃণমূল সভাপতি অপূর্ব সরকার। এই অপূর্বই একদা ছিলেন অধীরের ছায়াসঙ্গী। গত লোকসভা নির্বাচনে অধীরের বিরুদ্ধে তৃণমূলের টিকিটে লড়়েন। হেরে গেলেও অধীরের জয়ের মার্জিন নামিয়ে ৮০ হাজারের কাছাকাছি নিয়ে আসেন।
তৃণমূল কংগ্রেস অধীর-গড় বলে বহরমপুর আসনটি দখলে নিতে মরিয়া। সে কারণে ইউসুফ পাঠানকে দলে নিয়ে তাঁকেই এখানে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। আজকের মঞ্চে বহরমপুরের সাংসদ, বিধায়ক, বহরমপুর পুরসভার চেয়ারম্যান-সহ দলীয় নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন। বিদ্রোহী বিধায়ক হুমায়ুন কবীরও ছিলেন মঞ্চে।
হুমায়ুন সংবাদমাধ্যমকে জানান, এই জেলার অন্য দুই আসনের সাংসদদেরই প্রার্থী করেছে দল। তাই বহরমপুর আসন নিয়ে আমার অভিমান হয়েছিল। আলোচনা করে প্রার্থী দিলে ভালো হতো। তবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসে তিনি আমাকে বলেছেন, দলের প্রার্থীর হয়ে প্রচারে নামতে। প্রার্থী ঠিক করার দায়িত্ব রাজ্য নেতৃত্বের। আমি সেই নির্দেশ মানব।
মুর্শিদাবাদ জেলার কাউকে না পেয়ে বাইরে থেকে প্রার্থী আনার জন্য তৃণমূলকে খোঁচা দিচ্ছে কংগ্রেস, বিজেপি। বহিরাগত প্রসঙ্গে ইউসুফ বলেন, আমাকে দেখে কি বহিরাগত মনে হয়? আমি কেকেআরে খেলেছি। আপনাদের ভালোবাসা পেয়েছি। এখানে থাকতেই এসেছি।
নরেন্দ্র মোদীর জন্ম গুজরাতে, কিন্তু তিনি যে বারাণসী কেন্দ্র থেকে লড়েন, সে কথা মনে করিয়ে দেন ইউসুফ। ফলে এই অস্ত্রেই বিজেপি আক্রমণকে ভোঁতা করেছেন ইউসুফ। কংগ্রেস কর্মীরা তখন চেঁচিয়ে বলে ওঠেন, রাহুল গান্ধীও তো অন্য রাজ্য থেকে জিতে সাংসদ হন, এবারও দাঁড়িয়েছেন কেরলে গিয়ে।
আত্মবিশ্বাসী ইউসুফ বলেন, ক্রিকেট খেলায় দলে ১১ জন থাকেন। এখানেও আমাদের সঙ্গে যাঁরা রয়েছেন তাঁদের নিয়ে বলা যায় দল ভালোই। দলের প্রয়োজনে ঝোড়োগতিতে রান তুলতে হতো। ফলে রাজনীতির পিচে তিনি যে বড় ইনিংস খেলে ম্যাচ বের করার লক্ষ্যেই এসেছেন তা বোঝান ইউসুফ।
অধীর রঞ্জন চৌধুরীর নাম বহরমপুর থেকে এখনও প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেনি কংগ্রেস। তবে অধীর নিজেই বলে দিয়েছেন তিনিই প্রার্থী। এদিন বলেন, আইপিএল, টি২০ কী সব হয় আজকাল। ক্রিকেটাররা টাকার বিনিময়ে খেলতে আসেন। আজ আছেন কাল, নেই। আমরা হৃদয় দিয়ে খেলা পছন্দ করি।
অধীরের মতে, টাকার বিনিময়ে খেলতে খেলতে মানুষের ভাবাবেগকে গুরুত্ব দিতে পারেন না অনেকেই। অধীরের কথায়, বলা হয় খেলা হবে! কীসের খেলা হবে? মানুষের মতামতকে নিয়ে খেলা হবে? আমি বলি, মানুষকে সম্মান দিতে শেখো। সাধ্যমতো মানুষের সেবা, সহযোগিতা করাই আমার রাজনৈতিক ধর্ম।
অধীর আরও বলেন, যে কেউ প্রার্থী দিতেই পারে। মাঠের গল্প মাঠে। নির্বাচন মানুষের সমর্থনের গল্প। দোয়া-আশীর্বাদের বিষয়। স্বাধীনভাবে মানুষ মত প্রকাশ করবেন, তাতে যে জেতার জিতবে। আমার মতো পাড়ার ছেলেকে মানুষ জিতিয়েছেন। সম্প্রতি দিল্লিতে এক সাংবাদিক আমাকে বললেন, আপনার ওখানে তো বিজেপির দুই প্রার্থী। এখন দেখছি, তৃণমূল জিততে চাইছে না, আমাকে হারানোই লক্ষ্য। আর এই মওকায় বিজেপির ভোট বাড়ানো লক্ষ্য।












Click it and Unblock the Notifications