IPL 2025: পুলিশ খেলা দেখে, মোবাইলে ছবিও তোলে! বিরাট-ভক্তের কীর্তিতে বেআব্রু ইডেনে নিরাপত্তাহীনতার চেহারা
IPL 2025: ইডেনে বিরাট কোহলির পা ছুঁয়ে, তাঁকে আলিঙ্গন করায় গ্রেফতার হয়েছেন পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরের বাসিন্দা বছর আঠারোর ঋতুপর্ণ পাখিরা।
সওয়াল-জবাবের শেষে ঋতুপর্ণকে একদিনের পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে ব্য়াঙ্কশাল আদালত। ঋতুপর্ণ জানিয়েছেন, বিরাট কোহলি তাঁর কাছে ভগবান। বিরাটের জন্য যা খুশি করতে পারেন।

ঋতুপর্ণকে গ্রেফতার করা বা আইনি পদক্ষেপ নিয়ে সত্যিই কিছু বলার নেই। তাঁর পরিবার, প্রতিবেশীদের আর্জি, লঘু পাপে যেন গুরুদণ্ড দেওয়া না হয়। এই ধরনের ঘটনায় বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা, মহেন্দ্র সিং ধোনিরাও অনুরোধ করে থাকেন কোনও কড়া পদক্ষেপ না করতে।
কিন্তু ঋতুপর্ণ যেমন দোষী, তেমনই ভাইরাল ভিডিও স্পষ্ট করে দিচ্ছে ইডেনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কলকাতা পুলিশের বিভিন্ন স্তরের পদাধিকারীদের ভূমিকা নিয়েই। দেশে-বিদেশে নিয়ম হলো পুলিশ নজর রাখবে দর্শকদের দিকে তাকিয়ে থেকে। খেলার মাঠে তাকিয়ে খেলা উপভোগ করা যায় না। এই দায়িত্ব পালনের জন্য তাঁরা বেতনও পান।
কলকাতা নাইট রাইডার্স বনাম রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ম্যাচের সময় জি ব্লকের ফেন্সিং টপকে যখন ঋতুপর্ণ মাঠে ঢোকেন তার নাকের ডগায় ছিল পুলিশ। কিন্তু সেই পুলিশকর্মীরা ব্যস্ত ছিলেন খেলা দেখায়। দর্শকদের দিকে তাকিয়ে থাকলে ফেন্সিং টপকানোর আগেই বাধা দেওয়া যেত ঋতুপর্ণকে। তাছাড়া সংশ্লিষ্ট ব্লকে বাকি পুলিশকর্মীরাই কী করছিলেন?
রামনবমীতে ইডেনে কলকাতা-লখনউ ম্যাচ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে কলকাতা পুলিশের আপত্তিতেই। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেওয়া যাবে না বলে সিএবিকে মেল পাঠিয়েছে কলকাতা পুলিশ। কিন্তু গত শনিবার তো প্রচুর পুলিশকর্মী মোতায়েন ছিলেন। তারপরও কেন ঘটল এমন ঘটনা?
বিভাগীয় তদন্ত চলছে কিনা, কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে কোনও পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিনা তা কলকাতা পুলিশের সোশ্যাল মিডিয়ায় জানানো হয়নি। যেখানে মাঝেমধ্যেই ইমেজ বিল্ডিংয়ের চেষ্টা হয় নানা গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট করে। কর্তব্য নিষ্ঠাভরে পালনের যেমন প্রশংসা থাকা উচিত, তেমনই গাফিলতি ঢাকতে এমন লুকোছাপা কেন?
কলকাতার নগরপাল কেকেআর-আরসিবি ম্যাচের আগের দিন ইডেন পরিদর্শনের পর নিরাপত্তা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। রামনবমীর ম্যাচের দিন সকলের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতেই যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে সে কথাও জানান। কিন্তু প্রথম ম্যাচেই বেআব্রু ইডেনে নিরাপত্তাহীনতার চেহারা।
বিরাট কোহলি এ যাত্রায় রক্ষা পেলেন। কিন্তু এখনও মহেন্দ্র সিং ধোনি, রোহিত শর্মাদের খেলা বাকি ইডেনে। এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে? পুলিশকর্মীদের কি শেখানো হবে খেলা দেখা আপনাদের কাজ নয়। দর্শকদের দিকে সতর্ক নজর রাখা আপনাদের কাজ। এভাবে যদি মাঠে লোকজন ঢুকে পড়েন, তাহলে তো ইডেনে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবেন ক্রিকেটাররাই।
ম্যাচের আগের দিনও দুই দলের ড্রেসিংরুমের সামনেটা হয়ে দাঁড়িয়েছিল মাছের বাজারের মতো। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় পর্যন্ত ভিড়ের মাঝে আটকে পড়েন। যদিও সেখানে হাজির ছিলেন পুলিশকর্মীরা। ভিড় নিয়ন্ত্রণ করে ফাঁক গলে ঢুকে পড়া লোকজনকে হঠানোর তৎপরতা চোখে পড়েনি।
পুলিশের খেলা দেখার ঘটনার পাশাপাশি বিরাট কোহলিদের ছবি মোবাইলে তুলতেও দেখা গিয়েছে পুলিশকর্মীদের। ইডেনে টিম বাস ঢোকার সময় সেখানে কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদেরই দেখা গিয়েছে হাসিমুখে সবটা নিজেদের মোবাইলে ক্যামেরাবন্দি করে রাখতে। অনেকে কটাক্ষ করে বলছেন, যেভাবে ছেলেটা ফেন্সিং টপকেছেন, তাতে তাঁর ফিটনেস দেখে অবিলম্বে পুলিশে চাকরি দেওয়া উচিত।
তবে তার মধ্যেই দেখা গিয়েছে কর্তব্যপরায়ণ পুলিশকর্মীদের। যেমন- কেকেআর যখন ড্রেসিংরুম থেকে বেরিয়ে টিম বাসের দিকে যাচ্ছে তখন এক পুলিশকর্মী দাঁড়িয়ে ছবি তুলছিলেন। চিত্র সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়িয়ে। তখন এক পুলিশকর্মী এসে তাঁকে বলেন, ছবি না তুলে সঠিকভাবে ডিউটি পালন করতে। তখন ছবি তোলা বন্ধ করেন ওই পুলিশকর্মী।
আশা করা হচ্ছে, কলকাতা পুলিশ কেকেআর-আরসিবি ম্যাচের ঘটনা থেকে শিক্ষা নেবে। পুলিশকর্মীদের হয়তো নির্দেশও দেওয়া হবে। তারপরও পুলিশ খেলা দেখলে নজর থাকবে সাংবাদিকদের। ওয়ানইন্ডিয়া তা তুলেও ধরবে। ঋতুপর্ণর মতিগতি বুঝতে তদন্ত হোক আপত্তি নেই। কর্তব্যে গাফিলতির দায়ে পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ করা হলো তা অন্তত জানাক কলকাতা পুলিশ। কখন তা হবে? থাকবে সকলের নজর।












Click it and Unblock the Notifications