আইপিএলের মধ্যেই বাংলা ছাড়ার ভাবনা ক্ষুব্ধ ঋদ্ধিমান সাহার, সিএবিকে দিলেন কোন শর্ত?
ঋদ্ধিমান সাহা এবার বাংলা ছাড়ার ভাবনাচিন্তা করছেন। গতকাল এই মুহূর্তে গুজরাত টাইটান্সে থাকা ঋদ্ধিমান সাহা ও মহম্মদ শামিকে রেখেই রঞ্জি কোয়ার্টার ফাইনালের বাংলা দল ঘোষণা করা হয়। শামির খেলার বিষয়টি নির্ভর করছে বিসিসিআইয়ের সম্মতির উপর। তবে শামিকে ফোন করা হলেও ঋদ্ধিমানকে সিএবি কর্তা থেকে নির্বাচক, এমনকী টিম ম্যানেজমেন্টের কেউ ফোন করেননি। এতেই ক্ষুব্ধ এবং অপমানিত ঋদ্ধিমান।

ক্ষুব্ধ ঋদ্ধিমান
তাঁকে না জানিয়েই দল ঘোষণা করে দেওয়ায় ক্ষুব্ধ ঋদ্ধিমান। তিনি আইপিএলের জৈব সুরক্ষা বলয়ে রয়েছেন। রঞ্জি খেললে সেখানেও জৈব সুরক্ষা বলয়। ঋদ্ধিকে ইংল্যান্ড সফরের টেস্ট দলেও রাখা হবে কিনা তা স্পষ্ট নয়। সেক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হবে বোর্ডের ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট পলিসি। এই আবহে ঋদ্ধির সঙ্গে আজ কথা হয় সিএবি সভাপতি অভিষেক ডালমিয়ার। সিএবি সূত্রে খবর, গতকাল রাতে বাংলা দলে নিজের নাম দেখে সিএবি সভাপতির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন ঋদ্ধি। কিন্তু যোগাযোগ করতে পারেননি। কথা হয় আজ দুপুর নাগাদ।

ক্ষমা চাইতে হবে
সূত্রের খবর, তাঁর দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে যে মন্তব্য সিএবি যুগ্ম সচিব দেবব্রত দাস করেছিলেন, সেজন্য তাঁকে ক্ষমা চাইতে হবে বলে শর্ত দেন ঋদ্ধি। এমনকী গোটা বিষয়টি সুষ্ঠুভাবে না মেটালে ঋদ্ধি অন্য রাজ্যের হয়েও খেলতে পারেন বলেও জল্পনা চলছে। তিনি সিএবির কাছে মৌখিকভাবে এনওসি চেয়েছেন বলেও খবর। তবে লিখিতভাবে আবেদন করেননি। ফলে ঋদ্ধি কোন পদক্ষেপ করবেন তা স্পষ্ট নয়। গুজরাত টাইটান্সের হয়ে আইপিএলের প্রথম কোয়ালিফায়ার খেলতে চলতি সপ্তাহেই কলকাতায় পা রাখার কথা পাপালির।

ঝড় সামলাচ্ছেন পাপালি
বিগত কয়েক মাস ধরেই ঋদ্ধিকে নানা ঝড়ঝাপটা সামলাতে হচ্ছে। ঋদ্ধি জানিয়েছিলেন, দক্ষিণ আফ্রিকা সফরেই হেড কোচ রাহুল দ্রাবিড়কে দিয়ে তাঁকে বলানো হচ্ছিল ভারতীয় দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় তিনি আপাতত নেই। বিসিসিআই সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় আশ্বাস দেওয়ার পরেও এমনটা কেন হলো তা নিয়ে ঋদ্ধি সংশয় প্রকাশ করতেই তাঁকে সিএবির দুই কর্তা আক্রমণ করেন। ঋদ্ধি সিএবি সভাপতি অভিষেক ডালমিয়াকে জানিয়ে এসেছিলেন, পারিবারিক কারণে তিনি বিশ্রাম চান। সে কারণে রঞ্জি ট্রফির লিগ পর্ব খেলতে পারবেন না। এরই মধ্যে দেবব্রত দাস ঋদ্ধিকে রুচিহীন আক্রমণ করেন। যা ক্ষোভের আগুন জ্বালায় ঋদ্ধিমানের মধ্যে। এরই মধ্যে সাক্ষাৎকার না দেওয়ায় বোরিয়া মজুমদার ঋদ্ধিকে হুমকি দেন। বিসিসিআইয়ের তদন্তের শেষে ঋদ্ধিরই জয় হয়েছে। নির্বাসিত হয়েছেন বোরিয়া।

আইপিএলে দুরন্ত ছন্দে
আইপিএলে সুযোগ পেয়েও দারুণ ছন্দে রয়েছেন ঋদ্ধিমান। চেন্নাই সুপার কিংসের বিরুদ্ধে ম্য়াচের সেরা হয়েছে। তাঁর শর্ট বল খেলার দক্ষতার প্রশংসা করে দলে তাঁর কতটা গুরুত্ব তাও বুঝিয়ে দেন ভারতকে ২০১১ সালে বিশ্বকাপ জেতানো কোচ, বর্তমানে গুজরাতের মেন্টর গ্যারি কার্স্টেন। এরই মধ্যে গতকাল দল নির্বাচনী বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সেই দেবব্রত দাসও। দল গঠনের আগে শামির সঙ্গে কথা বললেও ঋদ্ধিকে কেন ফোন করলেন না সিএবি কর্তারা, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই যাচ্ছে। জানা যাচ্ছে, ঋদ্ধিকে বুঝিয়ে খেলানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন খোদ অভিষেক ডালমিয়া। তবে দেবব্রত দাসের বক্তব্য়ের দায় সিএবি নিতে নারাজ। এই পরিস্থিতিতে ঝাড়খণ্ডের বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে বাংলা দল নিয়ে ফের বিতর্ক তৈরি হলো। উল্লেখ্য, এর আগে বাংলার টিম ম্যানেজমেন্টের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে অশোক দিন্দাও বাংলা ছেড়েছিলেন।

অভিষেকের বক্তব্য
সংবাদমাধ্যমে ঋদ্ধিমানের ক্ষোভের বিষয়টি সামনে আসতেই চাঞ্চল্য পড়ে গিয়েছে। রাতে সভাপতি অভিষেক ডালমিয়ার বিবৃতি পাঠানো হয়। তাতে অভিষেক বলেন, কোনও সংস্থা ও ক্রিকেটারের মধ্যে কোন বিষয় নিয়ে কথা হলে তা একান্তই এই দুই পক্ষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। এই পর্যায়ে আমি আর কোনও মন্তব্যে নারাজ।
(ছবি- ঋদ্ধিমান সাহার ইনস্টাগ্রাম)












Click it and Unblock the Notifications