পরের সফরে অ্যাডিলেডে বিরাটরা খেলবেন দিন-রাতের টেস্ট! ক্ষতির মুখে কঠোর হচ্ছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া
চলতি টেস্ট ম্যাচের প্রথম দিনে খুব কম দর্শক হওয়ায় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া অ্যাডিলেডকে স্থায়ীভাবে দিন-রাতের টেস্ট ম্যাচ কেন্দ্রে পরিণত করতে চাইছে।
অ্যাডিলেড ওভালে এরপর থেকে টেস্ট হবে শুধু দিন-রাতেরই। এমনই সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। তারা চাইছে তাদের এই সিদ্ধআন্ত মেনে নিক বিসিসিআই-ও। জানা গিয়েছে বিরাট কোহলিও চলতি টেস্টের প্রথমদিন মাঠে তত লোক টানতে পারেননি, যত লোক হয় দিন রাতের টেস্ট হলে। বস্তুত, এইবারেও ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া অ্যাডিলেডে দিন-রাতেরই টেস্ট চেয়েছিল। কিন্তু ভারত মানেনি।

ভারত এই মুহূর্তে আইসিসির টেস্ট ক্রমতালিকার ১ নম্বর দল। বিশ্বের বেশ কয়েকটি প্রথম সারির টেস্ট দল গদিন-রাতের টেস্ট খেলে ফেললেও, বিরাট কোহলিরা এখনও একটিও দিন-রাতের টেস্ট খেলেনি। এই অবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই অস্ট্রেলিয়ার মতো হাইপ্রোফাইল টেস্ট সিরিজে প্রথম দিন-রাতের টেস্ট খেলতে রাজি হয়নি।
কিন্তু পরের সফর থেকে হয়ত ভারতকে অ্যাডিলেডে দিন-রাতের টেস্টই খেলতে হবে। এর সবচেয়ে বড় কারণ, দর্শক সংখ্য়ার বিরাট ফারাক। চলতি সফরে এই ক্ষতিটা মেনে নিলেও এরপর ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া আর তা মানবে না, এমনই ইঙ্গিত মিলেছে অস্ট্রেলিয় বোর্ডের চিফ এক্সিকিউটিভ কেভিন রবার্টস-এর কথায়।
২০১৫ সাল থেকে প্রতি বছর অ্যাডিলেডে দিন রাতের টেস্ট খেলেছে অস্ট্রেলিয়া। তিনটি টেস্টে প্রথম দিনের দর্শক সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৪৭০০০, ৩২০০০ ও ৫৫০০০। এর পাশাপাশি বৃহস্পতিবার চলতি টেস্টের প্রথম দিনে মাঠে লোক হয় মাত্র ২৪০০০ জন। এরপরই কেভিন রবার্টস জানান, ম্য়াচটি দিন-রাতে খেলা হলে আরও ১৫০০০ জলের মতো বেশি লোক আসতেন মাঠে।
তিনি আরও বলেন দর্শকরা কি চাইছেন, সেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গত কয়েক বছরের দর্শকসংখ্য়া আর চলতি টেস্টের দর্শক সংখ্যার ফারাকটাই তাদের ভোট কোনদিকে তা স্পষ্ট করে দিয়েছে। ভারত এরপর ২০২০-২১ সালে আসবে অস্ট্রেলিয়া সফরে। তার আগে বিসিসিআই-ও বিষয়টি বুঝবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। রবার্ট বলেন, 'আশা করি দর্শকদের আবেগ ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বুঝতে পারবে।'
এর আগে অ্যাডিলেডে তিনটি দিন-রাতের টেস্টেই জয়ী হয়েছে অস্ট্রেলিয়া। তার জন্যই ভারতীয় বোর্ড অ্যাডিলেডে ফ্লাডলাইটে গোলাপী বলে টেস্ট খেলতে ভয় পেয়েছে বলে সিরিজ শুরুর আগে ব্যঙ্গও করেছিল অস্ট্রেলিয় প্রচার মাধ্যম। ভারতীয় দলকে 'ভীতু বাদুড়' বলা হয়েছিল।
অবশ্য অতীতে দেখা গিয়েছে যে কোনও রকম পরিবর্তন মেনে নিতেই ভারতীয় বোর্ডের অনিহা রয়েছে। এর আগে ডিআরএস চালুর ক্ষেত্রেও ভারত বহু টালবাহানা করেছিল। অবশেষে মেনে নিয়েছে। এখন দিন-রাতের টেস্ট খেলার বিষয়টি বিসিসিআই মানে কিনা সেটাই দেখার।












Click it and Unblock the Notifications