IND vs ENG: সরফরাজের সাফল্যের পিছনে দৈনিক ৫০০ বলের অনুশীলন! কোন ভারতীয় তারকাদের কোচেরা পাশে থেকেছেন?
IND vs ENG: ঘরোয়া ক্রিকেটে ঝুড়ি ঝুড়ি রান করেও বারবার ব্রাত্য থাকছিলেন সরফরাজ খান। সোশ্যাল মিডিয়ায় তা নিয়ে ঝড় উঠত দল ঘোষণার পর, মিলিয়েও যেত।
যদিও তাঁকে বাইরে রাখা যে এতদিন ঠিক হয়নি রাজকোটে অভিষেক টেস্টে তা বুঝিয়ে দিয়েছেন সরফরাজ খান। যিনি অভিষেক টেস্টের দুটি ইনিংসেই হাফ সেঞ্চুরি করে ভরসা দিয়েছেন।

সরফরাজের সামনে যেভাবে অসহায় দেখিয়েছে ইংল্যান্ডের বোলারদের, বিশেষ করে স্পিনারদের, এটা কোনও অবাক করার মতো বিষয় নয়। এর পিছনে রয়েছে নিরলস সাধনা। বাবা নৌসাদ খান নিজেও ক্রিকেট খেলতেন। তবে জাতীয় দলে সুযোগ পাননি। যদিও গর্বিত পিতার এক পুত্রের টেস্ট অভিষেক হয়েছে, ছোট ছেলে মুশির অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপ খেলে ফিরেছেন।
বাবার তত্ত্বাবধানে ১৫ বছর ধরে তিল তিল করে নিজেকে গড়ে তুলেছেন সরফরাজ। প্রতিদিন ৫০০টি ডেলিভারি সামলানো নিয়ম হয়ে গিয়েছিল। ২৬ বছর বয়সে এসে টেস্ট অভিষেক হলো। আগেও হতে পারতো। অন্তত যেভাবে তিনি ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা দেখিয়েছেন।
বাবার মাচো ক্রিকেট ক্লাবেও খেলেছেন সরফরাজ। তাঁর উত্থান খুব কাছ থেকে দেখেছেন এমন এক কোচ বলেছেন, অফ ও লেগ সাইডের বল সামলানোর পাশাপাশি মুম্বইয়ে ওভাল, ক্রস ও আজাদ ময়দানে বাঁহাতি স্পিনারদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অনুশীলন চালিয়ে গিয়েছেন সরফরাজ।
কোভিড-১৯ লকডাউনের জেরে ক্রিকেট যখন স্তব্ধ তখনও প্রায় ১৬০০ কিলোমিটার গাড়ি নিয়ে পাড়ি দিয়েছেন সরফরাজ। স্পিন খেলার দক্ষতা বৃদ্ধিতে। উত্তরপ্রদেশের একাধিক আখড়ায় দিয়ে প্র্যাকটিস সেরেছেন। মুম্বই থেকে আমরোহা, মোরাদাবাদ, মেরঠ, কানপুর, মথুরা, দেরাদুনে গিয়েছেন।
সরফরাজের ব্যাটিং দক্ষতা বৃদ্ধির পিছনে অবদান রয়েছে ভুবনেশ্বর কুমারের কোচ সঞ্জয় রাস্তোগি, মহম্মদ শামির কোচ বদরুদ্দিন শেখ, কুলদীপ যাদবের কোচ কপিল দেও পাণ্ডে, গৌতম গম্ভীরের কোচ সঞ্জয় ভরদ্বাজ ও অভিমন্যু ঈশ্বরণের বাবা আরপি ঈশ্বরণের। তাঁরাই করোনাকালে সরফরাজের অনুশীলনের বন্দোবস্ত করেছিলেন।
কপিল দেও পাণ্ডে বলেছেন, আমি ও নৌসাদ দুজনেই আজমগড়ের। লকডাউনের সময় নৌসাদের ফোন পাই। আমি ভারতীয় নৌবাহিনীতে থাকাকালীন আমরা একসঙ্গে ক্লাব ক্রিকেটে খেলেছি মুম্বইয়ে। নৌসাদ তাঁর পুত্রের অনুশীলনের বন্দোবস্ত করা সম্ভব কিনা জানতে চান, এটা আমারও কর্তব্য ছিল।
কানপুরের আকাদেমিতে লকডাউনের সময় কুলদীপ যাদবের বিরুদ্ধে ব্যাটিং প্র্যাকটিস করেছেন সরফরাজ। মুম্বইয়ের লাল মাটির পিচে খেলায় সরফরাজ স্পিন খেলতে দক্ষ, পায়ের ব্যবহার ভালোই করতে পারেন। সরফরাজ ও তাঁর বাবার একটি হোস্টেলে থাকার বন্দোবস্ত করে সরফরাজের অনুশীলন নিশ্চিত করেছিলেন শামির কোচ বদরুদ্দিন।
ম্যাচ না থাকলে সরফরাজ ও মুশিরকে নিয়ে পড়ে থাকেন তাঁর বাবা নৌসাদ। রোজ কয়েকশো বল খেলান। বাড়িতে অ্যাস্ট্রো টার্ফ উইকেট বানিয়েছেন। সেখানে পেসারদের বিরুদ্ধে অনুশীলন চলে। তবে স্পিন অনুশীলন চলে মুম্বইয়ের খোলা মাঠেই। লাল বলে খেলার জন্যও বিশেষ অনুশীলন করিয়েছেন নৌসাদ। এমনও হয়েছে পিচে ক্ষত তৈরি করে চতুর্থ দিনের উইকেটের মতো করা হয়েছে। ফাটল ধরা পিচে চলেছে প্র্যাকটিস। পরিকল্পনামাফিক সেই অনুশীলনের সুফল পেতে শুরু করেছেন সরফরাজ।












Click it and Unblock the Notifications