ICC CWC 2023:ফাইনাল হেরেও হৃদয় জিতলেন কোহলিরা, রোহিতদের পারফরম্যান্সের নেপথ্যেও রয়েছে সৌরভের বিরাট ভূমিকা
আইসিসির ট্রফি হয়ত অধরাই থেকেছে টিম ইন্ডিয়ার। কিন্তু একদিনের বিশ্বকাপে দশে দশ করে মাঠে রোহিতদের বিরাট বিক্রম দেখিয়েছে। সফলভাবে বিশ্বকাপ আয়োজন করে অন্যদিকে আইসিসির খাতায় নম্বর আরও বাড়িয়ে নিলে বিসিসিআই। কাপ জিততে না পারলেও রোহিতদের বর্তমান পারফরম্যান্সের নেপথ্যেও রয়েছে এক বঙ্গ সন্তানের অপরিসীম অবদান। বর্তমান দলে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের অবদানের কাহিনীই তুলে ধরা হল এই প্রতিবেদনে।
বর্তমানে ভারত আইসিসি ট্রফিতে নক আউটে গিয়ে হারছে। ফাইনালেও উঠেও ট্রফি অধরাই থাকছে, কিন্তু আজহারউদ্দিনের আমলে আইসিসি ইভেন্টে ভারতের ফল ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। কিন্তু বদলটা করেন বাংলার মহারাজ। সেই ধারার সফল উত্তরসূরি ধোনি এবং রোহিত। উভয়েই আইসিসি ইভেন্টে ভারতের পারফরম্যান্সকে আরও উন্নত করেন। ইতিহাসের আলোকে ফিরে দেখা বিবর্তনের সেই অধ্যায়গুলি।

একবিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই ক্রমেই শক্তিশালী হয়েছে ভারতীয় দল। আজ ভারতীয় ক্রিকেটের সৌধের ভিতপুজো করেছিলেন বাংলার মহারাজই। একটু পিছিয়ে যাওয়া যাক, সালটা ১৯৯৮-৯৯। বেটিং কেলেঙ্কারিতে জর্জরিত ভারতীয় ক্রিকেট। সচিন তেন্ডুলকর অধিনায়ক হিসাবে ফ্লপ, তাঁর প্রভাব পড়ে ব্যাটিংয়েও। সেভাবে কেউ দায়িত্ব নিতে চাইছেন না, বরং বলা ভালো, ভালো নেতার খোঁজ মিলছিল না।
ভারতীয় ক্রিকেটের চূড়ান্ত অস্থির সময়ে অধিনায়কত্বের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হল বেহালার বাঁ-হাতির কাঁধে, বলা ভালো এক কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়া হল। কিন্তু কঠোর হাতেই হাল ধরলেন দাদা। ভারতীয় ক্রিকেটে দাদাগিগির যুগ। হারার আগে হারব না, শেষ বিন্দু পর্যন্ত লড়াই করব, টিম ইন্ডিয়ার সাজঘরের বোর্ডের এই দুটো লাইনই যেন লিখে দিলেন বাংলার মহারাজ।
আধার কাটিয়ে হালকা আলোর রেখা একটু একটু করে প্রবেশ করতে শুরু করল ভারতীয় ক্রিকেটে। ঘরের মাঠে সেই সময়ের অপ্রতিরোধ্য অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে পরিবর্তনের সফল সূচনার কাণ্ডারী সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। এরপর আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে যুগ্ম বিজয়ী। নাটওয়েস্ট ট্রফির ফাইনালের দাদাগিরির সেই দৃশ্য ভারতীয় ক্রিকেটের এক গর্বের ফ্রেম।
ক্রিকেটের মক্কা লর্ডসে বিজয়কেতন উড়িয়েছে ভারত, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের মাটিতে সিরিজ জিতেছে।দেশের মাটিতে শুধু সাফল্য নয় বিদেশের মাটিতে প্রতিপক্ষ দলগুলির বিরুদ্ধে চোখে চোখ রেখে লড়াই করতে শিখিয়েছেন দাদা।
মাঠের সাফল্যের সঙ্গেই টিম ইন্ডিয়ায় আমদানি করেন তারুণ্যের জোয়ার। সেহওয়াগ, যুবরাজ, হরভজন, ধোনি, জাহির, নেহেরাদের তুলে এনেছিলেন ভারতীয় ক্রিকেটের মঞ্চে। ভারত তার ফল পায় ২০১১ সালের বিশ্বকাপে এই যুব ব্রিগেডই অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করে ২৮ বছর পরে ২০১১ সালে দেশের মাটিতে বিশ্বজয় করেছে।
২০১১ সালে ভারতের বিশ্বকাপ জয়ে যদি থাকে অধিনায়ক সৌরভের ভূমিকা। তবে ২০২৩ সালে রোহিতদের পারফরম্যান্সের নেপথ্যের নায়ক অবশ্যই হবেন প্রশাসক সৌরভ। ২০১৯ সালে বিসিসিআই সভাপতি পদে বসেন সৌরভ। একের পর এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেন। জুনিয়র টিম থেকে রাহুল দ্রাবিড়কে কোচিং করাতে রাজী করান রোহিত-বিরাটদের।
২০২১ সালে অধিনায়কত্বেও আনেন বিরাট বিপ্লব। অধিনায়কত্বের চাপ নিতে গিয়ে ব্যর্থ হচ্ছিলেন কোহলি। সৌরভ যেন বিরাটের মধ্যে খুঁজে পান ১৯৯৯ সালের সচিনকেই। কোহলি অধিনায়কের পদ থেক সরতেই দায়িত্ব তুলে দেন রোহিতের হাতে। এক প্রকার জোর করে। আজ গোটা বিশ্ব দেখছে ক্যাপ্টেন রোহিত আর ব্যাটার বিরাটের যুগলবন্দি। প্রশাসক সৌরভের একের পর চালেই আজ বিশ্বকাপের প্রবল পরাক্রমশালী হয়ে উঠেছে ভারত।
কিন্তু আক্ষেপ একটাই বিগত ৯ বছরে আইসিসি ট্রফি ঢোকেনি বিসিসিআইয়ের সদর দপ্তরে। ২০১৪ সালে টি২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেও শ্রীলঙ্কার কাছে হারতে হয়।২০১৫ সালে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছেই হারতে হয়েছিল ধোনির ভারতকে।
২০১৬ সালে টি২০ বিশ্বকাপের সেমিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হেরে কাপ অভিযান শেষ করে ভারত। ২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে ১৮০ রানে হেরে লজ্জা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় ভারতকে।২০১৯ সালে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের কাছে হারতে হেয়েছিল ভারতকে।২০২১ সালে প্রথম বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনােলে উঠে ভারত-নিউজিল্যান্ড। কিন্তু ট্রফি অধরাই থাকে।
২০২২ সালে টি২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাটলে ভারত ইংল্যান্ডের কাছে ১০ উইকেটে পরাজিত হয়। চলতি বছর বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভারত এই অস্ট্রেলিয়া দলের কাছেই হারে। রবিবার ফাইনালে ফের হার।
ঠোঁট আর কাপের ব্যবধান মুছতে ফের একবার কী দাদাকেই হাল ধরতে হবে? অন্য কোনও ভূমিকায়। সৌরভের জীবনের চিত্রনাট্যতো ঈশ্বর লেখেন।












Click it and Unblock the Notifications