Exclusive: নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে ফাইনাল দেখলেন তৃণমূল বিধায়ক! দিলীপের সঙ্গে তুলনা টেনে ঠেস ববি-শুভেন্দুকে?
ICC World Cup 2023: কত কী বিচিত্র ঘটনাই ঘটে! আমেদাবাদে গতকাল অস্ট্রেলিয়ার কাছে ভারত বিশ্বকাপ ফাইনালে পরাস্ত হতেই তৃণমূল কংগ্রেসের জনপ্রতিনিধিরা কটাক্ষ করেছেন নরেন্দ্র মোদীকে।
মোদীকে নিয়ে কটাক্ষ ও মিম যাঁরা ছড়াচ্ছেন তাঁদের কাজকে রাষ্ট্রবিরোধী বলে মনে করছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এ সবেরই মধ্যেই তৃণমূল কংগ্রেসের এক বিধায়ক জমিয়ে খেলা দেখে এলেন আমেদাবাদ থেকে।

বিধানসভার উপ মুখ্য সচেতক তথা বরানগরের বিধায়ক তাপস রায় ক্রীড়াপ্রেমী বলেও পরিচিত। ইডেনেও তিনি বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখতে হাজির থেকেছেন। এমনকী ফিরহাদ হাকিম, দিলীপ ঘোষ থেকে অরূপ বিশ্বাস, সুজন চক্রবর্তীদের সঙ্গে তাপস রায়কেও ইডেনের ভিআইপি বক্সে দেখা গিয়েছে। ম্যাচের ফাঁকে চা চক্রেও সকলকে দেখা গিয়েছে খোশমেজাজে।
সকলের মুখেই এক কথা। রাজনীতির ময়দানে আক্রমণ, প্রতি আক্রমণ চললেও খেলা-মেলায় রাজনীতিকে দূরে সরিয়ে প্রাধান্য পায় সৌজন্য। তাপস রায় এখন আর মন্ত্রী নন। তবে রাজ্যের পুরমন্ত্রী তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক। ফিরহাদ হাকিমের কথায়, নরেন্দ্র মোদীর নামাঙ্কিত স্টেডিয়াম না হয়ে অন্য কোথাও খেলা হলে ভারত জিতত।
ফলে বোঝাই যাচ্ছে নরেন্দ্র মোদী নামেই অ্যালার্জি তৃণমূলের। সংস্কারের বশে ভারতের পরাজয়ে তাই মোদীকে নিশানা করেছেন ফিরহাদ। শুভেন্দু অধিকারী এই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। এ দেশে থেকে রাষ্ট্রবিরোধী কথা বলা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে সমূলে উৎখাতের ডাক দিয়েছেন তিনি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যেই অনেকে প্রশ্রয় পেয়ে নরেন্দ্র মোদীর নামে মিম ছড়াচ্ছেন, ভারতের হারের জন্য সরকারকে দায়ী করছেন বলে দাবি শুভেন্দুর। উল্লেখ্য, ভারতীয় দলের প্র্যাকটিস জার্সির রং বদলানো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতার বক্তব্যে সমর্থন করলেও তাপস রায় যা বললেন তাতে একযোগে ববি-শুভেন্দুকে ঠেস দেওয়ার কথা মনে হতেই পারে।
তাপস রায় গতকাল ভোরের বিমানে আমেদাবাদে গিয়েছিলেন। আজ সকালের বিমান ধরে ফিরেছেন দুপুরে। তিনিই তৃণমূলের একমাত্র জনপ্রতিনিধি যিনি হাজির ছিলেন নরেন্দ্র মোদীর নামাঙ্কিত ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। তাঁর পর্যায়ের কোনও তৃণমূলী কাল ফাইনাল মাঠে বসে খেলা দেখেননি।
ফিরহাদ হাকিম ও শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য নিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করা হলে তাপস রায় বলেন, ভুলভাল কথার কী প্রতিক্রিয়া দেব? সব কিছুর মধ্যে রাজনীতি খুঁজলে চলে না, চলবেও না। এমন কথাগুলো দিলীপ ঘোষের মতো ভুলভাল কথাবার্তার অনুকরণ, অনুসরণ বলেই দেখছেন তাপস রায়। এ ক্ষেত্রে সরাসরি ফিরহাদের নাম না করলেও শুভেন্দুর পাশাপাশি রাজ্যের পুরমন্ত্রীকেও দিলীপ ঘোষের সঙ্গে তুলনা করলেন কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শুরু হয়েছে চর্চা।
তাপস রায় আরও বলেন, বিজেপির কেউ নেতা বলে মনে করি না। নতুন, পুরানো সমস্ত পদাধিকারী যথেচ্ছভাবে যে কথা, শব্দ, বাক্য প্রয়োগ করেন তা মানুষ পছন্দ করেন না। তবু তাঁরা এ সব বলেন জনপ্রিয় হওয়ার বাসনা থেকেই। এ সব ভুলভাল কথার জবাব তাঁরা আগেও পেয়েছেন, ভোটবাক্সে আগামী দিনেও পাবেন। পরে বিধায়কের মন্তব্য নিয়ে শোরগোল হলে তাপস রায়ের সাফাই, তিনি ফিরহাদকে ঠেস দেওয়ার কথা ভাবতেই পারেন না। বিজেপি নেতাদের নিয়েই বলেছেন।
এখানেই বোঝা যাচ্ছে অস্বস্তি! ফিরহাদ হাকিম রাজ্যের হেভিওয়েট মন্ত্রী। নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়াম নিয়ে তাঁর কটাক্ষের কথাও জানানো হয়েছিল তাপস রায়কে। তার সঙ্গেই উল্লেখ করা হয় শুভেন্দুর পাল্টা কথা। এরপরই নিজের মতামত জানাতে গিয়ে দিলীপ ঘোষের তত্ত্ব টানেন তাপস। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধায়ক নিজে বলছেন ক্রিকেটকে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত না করার কথা। আবার নিজের দল ও বিরোধী দল নিয়ে ভিন্ন অবস্থান নিচ্ছেন কি অস্বস্তি বোধ করেই?
মুখ্যমন্ত্রী ভারতের টিম জার্সি নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন তাকে সমর্থন করে তাপসের দাবি, গেরুয়া নিয়ে বিরোধ নেই। গেরুয়া আমাদের দলের পতাকাতেও আছে, রাষ্ট্রীয় পতাকাতেও আছে। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী পরম্পরার কথা বলেছেন। মোদীজি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে বিজেপি পরম্পরা-বিরোধী কাজ করছে। কখনও নাম বদলে দিচ্ছে, পরম্পরা বদলাচ্ছে, পারলে সংবিধানটাও বদলে দেয়।
রাজনীতিবিদ হলেও ক্রীড়াপ্রেমী হিসেবে তাপস রায়ের পরিচিতি রয়েছে ময়দানে। ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান- দু-দলেরই বার্ষিক অনুষ্ঠানে নিয়মিত হাজির থাকেন রাজনীতিতে হাফ সেঞ্চুরি করে ফেলা বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ। ফাইনালেও টিম ইন্ডিয়ার খেলা মিস করতে চাননি। ২০ বছর আগেও ২০০৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে ভারত-অস্ট্রেলিয়ার ফাইনালে উপস্থিত ছিলেন। ভবিষ্যতেও ক্রিকেট বা ফুটবলের বড় ইভেন্ট থাকলে পৃথিবীর যে কোনও প্রান্তে উপস্থিত হবেন বলেও জানান বর্ষীয়ান বিধায়ক।
(ছবি ও তথ্য সহায়তা- অনির্বাণ গঙ্গোপাধ্যায়)












Click it and Unblock the Notifications