বিরাটদের জন্য লাভবান কেন দক্ষিণ আফ্রিকা? ভারতের কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে দিয়ে জানালেন এলগার
দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে দুবার টেস্ট সিরিজ হেরে ফিরতে হলো বিরাট কোহলির ভারতকে। অভিজ্ঞতা ও শক্তির নিরিখে এগিয়ে থেকে, এমনকী সিরিজের প্রথম টেস্ট জেতা সত্ত্বেও। ম্যাচের শেষে বিরাট কোহলি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেছেন, কিছু মুহূর্তের সুযোগ হাতছাড়া করাতেই সুবিধা হয়ে গিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার। ডিআরএস বিতর্ক নিয়ে কিছু বলতে না চাইলেও সেটা দিয়েই পাল্টা বিরাটদের কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে দিলেন ডিন এলগার।
|
ভারতের ভূমিকায় লাভবান প্রোটিয়ারা
জোহানেসবার্গ টেস্টে উইকেট আঁকড়ে পড়ে থেকে এলগার কঠিন লড়াই চালিয়ে দলের জয় ও সিরিজে সমতা ফেরানো নিশ্চিত করেছিলেন। কেপ টাউনে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করার সময় বিরাট কোহলির স্লেজিং সামলাতে হয়েছে প্রোটিয়া অধিনায়ককে। বিরাট বলছিলেন, এলগার তাঁকে চুপ করাতে পারবেন না। ২০১৮ সালে জোহানেসবার্গ টেস্ট বন্ধ করতে বলেছিলেন কে? এলগারকে উদ্দেশ করে এ সব কথা বলে তাঁর মনঃসংযোগ ভাঙাই লক্ষ্য ছিল বিরাটের। শেষ হাসি অবশ্য হেসেছেন এলগারই। প্রথম টেস্ট হেরে যাওয়ার পর দক্ষিণ আফ্রিকাকে যখন কেউ ধর্তব্যে রাখছিলেন না, তারপরও যেভাবে দল কামব্যাক করেছে তাতে গর্বিত এলগার। তবে ডিআরএসের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিরাটদের অসন্তোষে তাঁরা কীভাবে লাভবান হয়েছেন সেটা জানিয়েছেন প্রোটিয়াদের টেস্ট অধিনায়ক।
|
বিরাট অসন্তোষ
ঘটনার সূত্রপাত ডিন এলগারের রিভিউ নিয়ে রক্ষা পাওয়াকে কেন্দ্র করে। রবিচন্দ্রন অশ্বিনের বলে লেগ বিফোরের জোরালো আবেদন ওঠে। আম্পায়ার মারাইস এরাসমাস আউট দিলে রিভিউ নেন এলগার। হাঁটুর কাছকাছি বল লাগায় ভারত নিশ্চিত ছিল রিপ্লে দেখে যে এটা আউটই। কিন্তু হক আই তথা বল ট্র্যাকিং টেকনোলজিতে দেখা যায় বল উইকেটের উপর দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। ফলে রিভিউ নিয়ে লাভবান হন এলগার। এরপর বিরাট কোহলি, লোকেশ রাহুল, রবিচন্দ্রন অশ্বিনরা প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। স্টাম্প মাইকের সামনে গিয়ে সম্প্রচারকারী সুপারস্পোর্টের উদ্দেশেও নানা কথা বলেন বিরাটরা। রাহুলকে বলতে শোনা যায়, গোটা দেশ ১১ জনের বিরুদ্ধে! ভারতের এই আচরণ বেশিরভাগ প্রাক্তনই সমর্থন করেননি। এটা মোটেই ভালো উদাহরণ নয় বলে মন্তব্য করেন অনেকে।
|
সুযোগ হাতছাড়া নয়
তার চেয়েও বড় কথা এই ঘটনার পর ডিন এলগার ও কিগান পিটারসেন সাড়ে চারের কাছাকাছি রান রেট রেখে ৪১ রান তুলে ফেলেন। ঘটনার ৯ ওভার পর এলগার ফিরলেও ততক্ষণে প্রোটিয়াদের টার্গেট ১১১-তে নেমে এসেছে! বিরাট মুখে না বললেও তিনিও বুঝছেন, এই মাথা গরম করে ম্যাচ থেকে হারিয়েই গিয়েছিল ভারত। ডিন এলগারও কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে দিয়ে বলেন, ভারতীয়রা যা করেছেন তা ভালোই লাগছিল। তারা কিছুটা চাপে ছিল, সব কিছু তাদের পক্ষে যাচ্ছিল না। টেস্ট ক্রিকেটে কিছু মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করতে হয় যখন সহজে রান আসে। ডিআরএস নিয়ে ওই ঘটনার পর ভারতের খেলায় মনঃসংযোগে ঘাটতি ধরা পড়ে। কিন্তু তার পরের অনেকটা সময় যেভাবে আমাদের পক্ষে গিয়েছে তাতে আমি খুশি।
|
খোঁচা এলগারের
ড্রেসিংরুমে কীভাবে সতীর্থদের উজ্জীবিত করেন তার পুরোটা সামনে আনেননি ডিন এলগার। তবে দ্বিতীয় টেস্টের পর কাগিসো রাবাডার সঙ্গে আলাদা করে কথা হয়েছিল প্রোটিয়া অধিনায়কের। সতীর্থদের তাতিয়ে দিয়ে সেরাটা বের করে আনাই তাঁর লক্ষ্য। মাঠে যা নিয়ন্ত্রণের বাইরে তা নিয়ে বেশি কিছু ভেবে, ক্যামেরায় আবেগ দেখানোয় যে লাভের লাভ কিছু হয় না সেটা বলে কি ফের বিরাটকেই কিছু ফিরিয়ে দিলেন এলগার?












Click it and Unblock the Notifications