বিরাট কোহলির না থাকাতেও বিচলিত নয় ভারত! আত্মবিশ্বাসের কারণ জানালেন চেতেশ্বর পূজারা
জোহানেসবার্গ টেস্টে নেই বিরাট কোহলি। কিন্তু তাঁর অভাব ততটা অনুভূত যে হয়নি ভারতের ড্রেসিংরুমে, সেই ইঙ্গিতই মিলল চেতেশ্বর পূজারার কথায়। ভারতের শক্তিশালী রিজার্ভ বেঞ্চের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন পূজারা। যদিও বাস্তব বলছে, এই ইতিবাচক দিকটিই যে কোনও মুহূর্তে যবনিকা টানতেই পারে পূজারা ও রাহানের কেরিয়ারে। দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়াতেই কি তাহলে ব্যাটিং-কৌশলে বদল? এই প্রশ্নও ঘুরপাক খাচ্ছে।
|
নজির পূজারা-রাহানের
২৭ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমেছিল ভারত। ৪৪ রানের মধ্যে ফিরে যান দুই ওপেনার লোকেশ রাহুল ও ময়াঙ্ক আগরওয়াল। ভারতের লিড তখন ১৭। সুনীল গাভাসকর আগেই ধারাভাষ্য দিতে গিয়ে বলেছিলেন, এই ইনিংসটিই পূজারা ও রাহানের টেস্ট দলে জায়গা ধরে রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। পূজারা ও রাহানের জুটিতে ওঠে ১১১ রান, তবে উল্লেখযোগ্য ব্যাপার হলে এই জুটির ব্যাটিং গড় দাঁড়ায় ৪.৭৫! চেতেশ্বর পূজারা এশিয়ার বাইরে দ্রুততম টেস্ট অর্ধশতরানের নজির গড়েন ৬২ বলে হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করে। সচিন তেন্ডুলকর ও মহম্মদ আজহারউদ্দিন কেপ টাউন টেস্টে ১৯৯৭ সালে ২২২ রানের পার্টনারশিপ গড়েছিলেন। সেই জুটির ব্যাটিং গড়ের তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে মনে করা হচ্ছে, পূজারা-রাহানের শতরানের পার্টনারশিপে রান ওঠার গতি দক্ষিণ আফ্রিকায় দ্রুততম।
|
কৌশল বদল
চেতেশ্বর পূজারা বলেন, এই ধরনের পিচে সুযোগ হাতছাড়া করা উচিত নয়। বাউন্সের তারতম্য ছিল। রান পেতে লুজ বলের জন্য শুধু অপেক্ষা করলে হয় না। স্কোরবোর্ডকে সচল রাখাও জরুরি। সেটাই আমার গেমপ্ল্যান ছিল। আমি নিজের ব্যাটিংয়ে সন্তুষ্ট। পরিকল্পনা অনুযায়ী সব কিছু ঠিকঠাকভাবেই চলেছে। খারাপ বলে রান তোলার লক্ষ্যপূরণ করতে পারাতেও তৃপ্ত। উল্লেখ্য, গৌতম গম্ভীরও গতকাল বলেছেন, পূজারা এই টেস্টে যে মানসিকতা নিয়ে ব্যাটিং করেছেন, রক্ষণাত্মক ব্যাটিং না করে টেস্টে পরিবেশ ও পরিস্থিতি বুঝে এরকমই খেলা উচিত।
|
সমালোচনা নিয়ে
গাভাসকরের মন্তব্য প্রসঙ্গে পূজারা বলেন, অজিঙ্কর সঙ্গে আমার জুটিটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কেন না, তখন আমাদের বড় রান তোলা প্রয়োজন ছিল। নিজের স্কোরের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল দলের মোট কত রান তোলা যাচ্ছে। টিম ম্যানেজমেন্ট আমাদের পাশে রয়েছে। এটা ঠিক, বাইরে কিছু কথাবার্তা হচ্ছে। তবে কোচিং স্টাফ, অধিনায়ক, সতীর্থ সকলেই একে অপরের পাশে রয়েছেন। আমরা কঠোর পরিশ্রমও করছি অনুশীলনে। অনেক সময় রান আসে না, কিন্তু একজন ক্রিকেটার সঠিক রুটিন মেনে চলছেন কিনা সেটা দেখা জরুরি। সঠিক পথে চলে রান ঠিক আসবে। ফলে আমাদের এই ফর্ম ধরে রাখতে পারলেই বড় রান আসবে। আর সানি ভাইয়ের থেকে সব সময়ই শেখার চেষ্টা করি। যখনই তাঁর কাছে যাই তিনি মূল্যবান পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেন। খারাপ ফর্মে থাকলে কথা উঠবেই। তবে আমি ও অজিঙ্কা যথেষ্টই আত্নবিশ্বাসী। ফর্ম ইজ টেম্পোরারি, ক্লাস ইজ পার্মানেন্ট, এটাই আমাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।

শক্তিশালী রিজার্ভ বেঞ্চ
পূজারা আরও বলেন, আমরা আগেও দেশের হয়ে ভালো খেলেছি। নিজেদের খেলায় আরও উন্নতিও আমরা করতে পারব নিশ্চিতভাবেই। ম্যানেজমেন্টের আস্থার মর্যাদা দেব। তবে একজন ব্যাটার হিসেবে বলতে পারি, রান পেলেই সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে যা করার আমরা করব। ভারতীয় দলের রিজার্ভ বেঞ্চের শক্তি সম্পর্কে পূজারা বলেন, বিরাট ম্যাচের দিন সকালে ব্যাক স্প্যাজমের কারণে ছিটকে যান। এই সিদ্ধান্ত মোটেই সহজ ছিল না। তবে আমাদের বেঞ্চ স্ট্রেংথ যথেষ্টই ভালো। যাঁরা দলে নিয়মিত সুযোগ পাচ্ছেন না, তাঁরা সুযোগ পেলেই দারুণভাবে নিজেদের মেলে ধরছেন। তাঁদেরও কৃতিত্ব দিতেই হবে, সকলেই কঠোর পরিশ্রম করছেন।












Click it and Unblock the Notifications