Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

দেবব্রতর সাসপেনশনের পর বাঙালি ক্রিকেটারকে ফাঁসানোর অপচেষ্টা, সিএবির হাতিয়ার যুক্তি আর বাস্তব তথ্য

সিএবির যুগ্ম সচিব দেবব্রত দাসকে সাসপেন্ড করেছে অ্যাপেক্স কাউন্সিল। কাল তা নিয়ে ওম্বুডসম্যানের শুনানি রয়েছে। তার আগে সোশ্যাল মিডিয়া বা সংবাদমাধ্যমের একাংশ ব্যবহার করে নানা বিষয় গুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। তাকে পাত্তা না দিলেও সিএবিও প্রস্তুত রয়েছে যুক্তিবাণ আর বাস্তব তথ্য নিয়ে। প্রয়োজন হলে যথাযোগ্য জায়গায় তা পেশ করা হবে বলেই সূত্রের খবর।

সৌম্যদীপ মণ্ডল বর্তমানে বাংলা দলের সঙ্গে বুচিবাবু টুর্নামেন্টে খেলতে চেন্নাইয়ে গিয়েছেন। এই সৌম্যদীপের বাবার কাছ থেকে দেবব্রত দাস ৩ কোটি টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ। টাউন ক্লাবের সভাপতি সিএবিকে যে চিঠি দিয়েছিলেন, সেখানে উল্লেখ ছিল সৌম্যদীপ, গীত পুরীদের মতো ক্রিকেটারদের দেবব্রত দাস টাউন ক্লাবে খেলতে বাধ্য করেছেন। তাঁদের অভিভাবকদের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা নিয়েছেন। ক্রিকেটারদের বাংলা দলে সুযোগ পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। শেষ অবধি তা তিনি পারেননি। এমনকী ক্রিকেটারদের খেলিয়েও প্রাপ্য টাকা দেননি বলে টাউন ক্লাবে অভিযোগ জমা পড়ে। যা সেই ক্লাবের সভাপতি নজরে আনেন সিএবির।

কেউ প্রশ্ন তুলছেন, ঘুষ নেওয়াও অপরাধ, দেওয়াও। তাহলে যে ক্রিকেটার বাংলা দলে তাঁর বিরুদ্ধে কেন শাস্তি হবে না? সিএবির অন্দর থেকে পাল্টা প্রশ্ন, যিনি ব্ল্যাকমেল করলেন, আর যাঁকে ব্ল্যাকমেল করা হলো, দুজনে সমান দোষী হতে পারেন? সৌম্যদীপের বাবা কাউকে ছেলেকে খেলানোর জন্য কোনও ক্লাবে টাকা দিয়েছেন। সৌম্যদীপ তো দেননি। তিনি নিজের যোগ্যতায় পরে বাংলা দলে এসেছেন। মনে রাখতে হবে, গত মরশুমে প্রথম ডিভিশনে সর্বাধিক উইকেটশিকারীদের তালিকায় প্রথম পাঁচে ছিলেন এই পেসার। তাছাড়া এই দেবব্রত দাসই কিছু সংবাদমাধ্যমে বলেছেন, কাউকে বাংলা দলে সুযোগ দেওয়ার কথা তিনি বলেননি, নিজে ততটা প্রভাবশালী নন বলেও দাবি করেন দেবব্রত। এই আবহে অনৈতিক উপায়ের কোনও তথ্য ও প্রমাণ পেশ না করে এক প্রতিভাবান ক্রিকেটারের মনোবলে আঘাতের অপচেষ্টার নিন্দা জানিয়েছেন সিএবি কর্তারা। বিশেষ করে যখন বাংলা দলে বাঙালি ক্রিকেটার বেশি করে রাখার দাবিতে সকলে সরব, তখন এক বাঙালি প্রতিভাবান ক্রিকেটারকে অহেতুক টার্গেট অনভিপ্রেত বলেই সকলের অভিমত।

অ্যাপেক্স কাউন্সিল দেবব্রত দাসকে সাসপেন্ড করলেও কোষাধ্যক্ষ প্রবীর চক্রবর্তীর বহাল তবিয়তে থাকা নিয়ে কেউ সংবাদমাধ্যম বা সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা লেখালেখি করছেন। সিএবি সূত্রে খবর, এ ক্ষেত্রেও রাজ্য ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা সঠিক অবস্থান নিয়েছে। দেবব্রত আর প্রবীরের বিষয়ে মিল নেই। সিএবির কোষাধ্যক্ষর বিরুদ্ধে তাঁর ক্লাব উয়াড়ির অভিযোগ রয়েছে। সিএবির কোনও ক্ষতি তিনি করেননি। বাকিটা যে আর্থিক বিষয়ক অভিযোগ তা উয়াড়ি আর প্রবীর চক্রবর্তীর, এতে সিএবি ঢুকবে না। ক্লাবের একাংশ মামলা করেছেন প্রবীর চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে। তিনি তা সামলাবেন। তিনি উয়াড়ির পদও ছেড়ে দিয়েছেন। ফলে কোনও সমস্যা নেই। বরাদ্দ অর্থের আয়-ব্য়য়ের হিসেব সিএবিতে না জমা দেওয়া অবধি উয়াড়ি আর সিএবির বরাদ্দ অর্থ পাবে না বলেও স্থির হয়েছে। কিন্তু দেবব্রত দাস চেয়ারে বসে ক্ষমতার যে অপব্যবহার করেছেন, তেমন কিছু করেননি প্রবীর।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিএবির এক কর্তা বললেন, দেবব্রত দাস নিজের ক্লাব বা বাংলা দলে খেলানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্রিকেটারদের থেকে টাকা তুলেছেন। এখানেই শেষ নয়, বিশ্বকাপ-সহ বিভিন্ন ইভেন্টের টিকিট তুলে সিএবিকে ৮ লক্ষ টাকা মেটাননি। সিংহভাগ মেটাতে পারেননি নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেও। এ ছাড়া খান পনেরো ব্যক্তি পাওয়া যাবে যাঁদের ক্লাবকে সিএবির অনুমোদিত করে বিভিন্ন টুর্নামেন্টে খেলানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা তুলেছেন। অ্যাপেক্স কাউন্সিলে ১৯ সদস্যের মধ্যে মাত্র তিনজনের সমর্থন দেবব্রত দাস পান। সেই তিনজন কারা, সেটাও সকলেই বুঝতে পারছেন। ১৬ জন ছিলেন দেবব্রতর বিরুদ্ধে। সে কারণেই তিনি সাসপেন্ড হয়েছেন। চেয়ারে বসে অপকর্মের যথোচিত শাস্তিই তিনি পেয়েছেন। বাকিটা দেখবেন ওম্বুডসম্যান।

সিএবির সাব কমিটির সদস্য অম্বরীশ মিত্রর বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছিল তা কিন্তু সেই ক্লাবের সভাপতি তোলেননি টাউনের মতো। ক্যানিংয়ের জনৈক কীর্তনিয়া আইনজীবী অভিযোগপত্র জমা করেছিলেন, পরে সেই কীর্তনিয়া অভিযোগ তুলেও নেন। সিএবির এক কর্তা মজা করে বললেন, বিষয়টি অনেকটা সেই 'দীপুবাবু'দের মতো কেস, যাঁরা সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখালেখি করেন বিশেষ কিছুর বিনিময়ে! সিএবির অন্দরে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, অভিযোগ করতেও নাকি ওই আইনজীবী চার লাখ টাকা নিয়েছেন, অভিযোগ তুলতেও (এই দাবির সত্যতা যাচাই করেনি ওয়ানইন্ডিয়া)।

কোনও কোনও মহল থেকে বলা হচ্ছে, লুকিয়ে-চুরিয়ে নাকি বাংলা দল বেছে নেওয়া হয়েছে। এটাও বোকা বোকা কথা। দল ঘোষণার পরের দিন কলকাতার ক্লাব ক্রিকেট সংক্রান্ত ফেসবুক গ্রুপেও টিম সংক্রান্ত পোস্ট দেখা গিয়েছে। তবে এটি সত্যি সিএবির মিডিয়া গ্রুপে তা পোস্ট হয়নি। সেখানে অনেক সময় অনেক কিছু দেওয়া হয়নিয কিন্তু দুটি টুর্নামেন্টের দল নির্বাচকরা লুকিয়ে-চুরিয়ে বেছে নিতে পারেন নাকি?

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+