Asian Games 2023: পাড়ার পুজোয় তিতাসই স্টার! ফাইনালে ছাত্রীর সাফল্যের রহস্য ফাঁস করলেন কোচ
তিতাস এখন শুধু একটা নদীর নাম নয়। একটা গর্বের নাম, একটা স্বপ্নের নাম। তিতাস মানে এখনও অনুপ্রেরণাও। চুঁচুড়ার কলেজ রোড থেকে এশিয়াডের সোনা জয়। ফাইনালের মঞ্চে দুরন্ত ফারম্যান্স করে দেশকে চ্যাম্পিয়ন করা, স্বভাবতই তিতাসকে নিয়ে গর্বিত তাঁর পাড়া। হবে নাই বা কেন পাড়ার ছোট্ট মেয়েটাই আজ এশিয়াডে মহিলাদের ক্রিকেটে সোনা জয়ের স্থপতি।
চুঁচুড়ার কলেজ রোডের কিছুটা দূরেই রাজেন্দ্র স্মৃতি সংঘের ক্রিকেট ক্যাম্প। সেখানেই ক্রিকেটের হাতেখড়ি। স্কুল, জেলা পেরিয়ে বাংলা দল সেখান থেকে টিম ইন্ডিয়ারা জার্সি। ৮ মাসের মধ্যেই দেশের হয়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্টের ফাইনালে বল হাতে কামাল দেখালেন চুঁচুড়ার এই বঙ্গতনয়া।

অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে যেখানে শেষ করেছিলেন এশিয়ান গেমসের ফাইনালে আজ হাংঝৌয়ে সেখান থেকেই যেন শুরু করলেন। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে তিতাস ১টি মেডেন-সহ ৪ ওভারে ৬ রান দিয়ে নিলেন তিন উইকেট। ফাইনালে ম্যাচেই বার বার জ্বলে উঠেন তিতাস। ছাত্রীর এই সাফল্যের রহস্য পাঁস করলেন কোচ দেবদুলাল রায়চৌধুরি।
টিভিতে দেখেছেন তিতাসের আগুনে বোলিংয়ে পুড়ে ছাই শ্রীলঙ্কা। রাজেন্দ্র স্মৃতি সংঘের ক্যাম্পে কোচিং করানোর ফাঁকেই তিতাসের কোচ ওয়ান ইন্ডিয়াকে বলেন, 'ফাইনালে ম্যাচের টেম্পারমেন্টকে ধরে রাখতে পারে এটাই ওর সব থেকে বড় ইউএসপি। ও খুব দ্রুত ভুল শুধরে নিতে পারে। এটাই বাকি থেকে ওকে এগিয়ে রাখে। কোনও ম্যাচে কিছু ভুল করলে পরের দিনই অনুশীলনে সেটা শুধরে নেয়।'
একইসঙ্গে তিতাসের কোচ উল্লেখ করেছেন, 'অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে ওর পারফরম্যান্স দেখার পর থেকেই আমরা আশা করেছিলাম ও খুব দ্রুত সিনিয়র দলে সুযোগ পাবে। সেটা হয়েছে। আমরা প্রত্যেকেই গর্বিত ওকে নিয়ে।'
তিতাসের বাবা রণদীপ সাধু নিজেও ছিলেন অ্যাথলিট। ক্রীড়াবিদের মেয়ে ক্রিকেটে আগ্রহী। রাজেন্দ্র স্মৃতি সংঘের গন্ডি পেরিয়ে বাংলার রনজি দলের প্রাক্তন ক্রিকেটার প্রিয়ঙ্কর মুখোপাধ্যায়ের কাছে ক্রিকেটের পরবর্তী তামিল নেন। তারপর থেকেই গড়ে তোলার কাজ শুরু করেন তিনি। মহিলা ক্রিকেটার হলেও তিতাসকে নিয়মিত ছেলেদের সঙ্গে খেলাতেন কোচ।
নাতনির এই সাফল্যে দেখে খুশি চেপে রাখতে পারলেন না ঠাকুমা দীপ্তি সাধুও। তিনি বলেন, 'আমি মনে মনে আশাই করেছিলাম ভারত জিতবে। আমি খেলাটা পুরোটা দেখেছি। তবে আরও ভালো খেলবে ও এবং অনেক দূর যাবে।' তিতাসের কাকা রক্তিম সাধু আবার সিএবি তথা বিসিসিআই-র স্কোরার। ভাইঝির সাফল্যে গর্বিত তিনিও। তাঁর কথায়, 'আমাদের গর্ব ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। ছোট থেকে ওকে দেখেছি্। আজ যেটা করেছে তিতাস তা শুধু আমাদের শহর নয় গোটা দেশের কাছে গর্বের।'

পুজো আসছে, অন্য পাড়ার মতোই সেজে উঠছে চুঁচুড়ার চৌমাথার সার্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতিও। পাড়ার মেয়েই এখন সব থেকে বড় স্টার। পুজো আর অন্য কাউকে দিয়ে নয় বাড়ি থাকলে তাঁকে দিয়েই করানো হবে উদ্বোধন। সঙ্গে জমকালো সেলিব্রশন। আড়ম্বরের আতিশয্য নয়, তিতাস মগ্ন সাধনায় আর সৃষ্টি সুখের উল্লাসে।
কমনওয়েলথ গেমসে কাছাকাছি পৌঁছেও সোনা অধরা থেকে গিয়েছিল, রুপো জিতেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল ভারতীয় মহিলা দলকে। চলতি বছর টি ২০ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিতে প্রমিলা বাহিনিকে। সোমবার বেলায় এশিয়ান গেমসে সোনা জয় ভারতীয় দলের আত্মবিশ্বাস বাড়াল। সৌজন্যে বঙ্গ কন্যা তিতাস সাধু।












Click it and Unblock the Notifications