রাবণ ও কুম্ভকর্ণ পূর্বজন্মে ছিলেন বিষ্ণুদেবের পরম ভক্ত, কী করে রামের শত্রু হলেন তাঁরা
দুরাচারী রাবণের বিনাশ করতেই বিষ্ণু-অবতার রামকে জন্ম নিতে হয়েছিল ধরায়। অথচ এই রাবণ ওবং তাঁর ভাই কুম্ভকর্ণ ছিলেন বিষ্ণুর পরম ভক্ত। বৈকুণ্ঠের দ্বাররক্ষী ছিলেন তাঁরা। নাম ছিল জয় আর বিজয়। বিষ্ণুদেব ও লক্ষ্মীদেবীর আজ্ঞা ভিন্ন তাঁরা কিছুই জানতেন না।
পরজন্মে তাঁরাই বিষ্ণুর শত্রু হয়ে জন্মগ্রহণ করেন। বিষ্ণুর অবতার রাম তাঁদের শত্রু হয়ে গেল কী করে, সেটাই বিস্ময়ের। এর নেপথ্যে রয়েছে এক করুণ কাহিনি। একদিন বৈকুণ্ঠে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন বিষ্ণু। তখন লক্ষ্মী এসে জয়-বিজয়কে জানান, প্রভু বিশ্রাম নিচ্ছেন, কেউ যেন না এ সময় তাঁকে বিরক্ত করেন।

তখন দ্বারে প্রহরারত জয়-বিজয়ের কাছে এসে ব্রহ্মার মানসপুত্র চার ঋ্ষি বিষ্ণুর সঙ্গে দেখা করার ইচ্ছাপ্রকাশ করেন। জয় ও বিজয় চার ঋষিকুমারকে চিনতে পারেননি। জয় ও বিজয় তাঁদের ঢুকতে বাধা দেওয়ায় ব্রহ্মার মানসপুত্ররা অভিশাপ দেন। সেই অভিশাপ শুনে জয় ও বিজয় কাতর হয়ে পড়েন দুঃখে।
অতঃপর বিষ্ণু সব জানতে পারেন। তিনি এসে দেখেন, তাঁর সাক্ষাৎপ্রার্থী হয়ে এসেছেন ব্রহ্মার চার মানসপুত্র সনক, সদানন্দ, সনাতন, সনৎকুমার। এদিকে তাঁদের দ্বারা শাপভ্রষ্ট হয়ে কাঁদছেন জয় ও বিজয়। বিষ্ণু বলেন, ঋষিকুমারদের সেই অভিশাপ খণ্ডনের কোনো উপায় নেই। তাদের রাক্ষসকুলে জন্মাতেই হবে।
তবে ঋষিবাক্য খণ্ডন না হলেও তাঁদেপর শাস্তি কমানো যেতে পারে। এরপর বিষ্ণুদেবের আদেশমতো ঋষিকুমাররা বলেন, দুটি উপায় রয়েছে। হয় তাঁদের সাত জন্ম মর্ত্যে জন্মাতে হবে এবং তারা বিষ্ণুর উপাসক হয়েই থাকবেন। নতুবা তাঁদের তিন জন্ম মর্ত্যে জন্মাতে হবে বিষ্ণুর শত্রুরূপে।

বিষ্ণুর অবতারের হাতে বদ্ধ হয়ে তাঁদের মুক্তি ঘটবে। অর্থাৎ পর পর তিন জন্ম তাঁদের বিষ্ণুর শত্রু হতে হবে। বিষ্ণর অবতারের হাতে বদ্দ হলেই মুক্তি। সেইমতো জয় ও বিজয় বেছে নিলেন দ্বিতীয় শর্তটি। ভাগবত পুরাণ অনুসারে তারা পরপর তিন প্রজন্ম তারা নারায়ণের শত্রু রূপে জন্মগ্রহণ করেন।
জয় ও বিজয় প্রথম জন্মে হিরণ্যকশিপু ও হিরণ্যক্ষ নামে দু-ভাই হিসেবে জন্মগ্রহণ করেন। বিষ্ণু বরাহ অবতারে হিরণ্যক্ষকে এবং নৃসিংহ অবতার হিসেবে বধ করেছিলেন হিরণ্যকশিপুকে। দ্বিতীয় জন্মে রাবণ ও কুম্ভকর্ণ হিসেবে জন্ম নিয়েছিলেন জয় ও বিজয়। বিষ্ণুর রাম অবতার রূপে মর্ত্যে আসার পর রাবণ ও কুম্ভকর্ণ বধ্য হন।
আর তৃতীয় জন্মে জয় ও বিজয় শিশুপাল ও দন্তবক্র নামে জন্ম নিয়েছিলেন। কৃষ্ণের হাতে তাঁরা দুই ভাই নিহত হন। তারপরই মুক্তিলাভ করেন জয় ও বিজয়। পুনরায় তারা ফিরে যান বিষ্ণুলোকে। বৈকুণ্ঠের দ্বাররক্ষী হিসেবে নিযুক্ত হন। এটাই ছিল বিষ্ণুর পরম ভক্তের শত্রুরূপে অবতীর্ণ হওয়ার কাহিনি।
-
হরমুজ পার হতে জাহাজপিছু ১৮ কোটি টাকা নিচ্ছে ইরান? মন্তব্য ঘিরে নতুন বিতর্ক, ভারতকেও কী অর্থ দিতে হয়েছে? -
সুপার এমার্জেন্সি বিতর্কে তোলপাড় আদালত! কমিশনের ক্ষমতা নিয়ে প্রশ্নে সরব কল্যাণ, পাল্টা আক্রমণে নির্বাচন কমিশন -
ভোটের আগে বড় ইঙ্গিত! জনমত সমীক্ষায় এগিয়ে তৃণমূল, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতাই প্রথম পছন্দ -
চিংড়িঘাটা মেট্রো নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের কড়া বার্তা, মামলা তুলুন, নয়তো খারিজ, উন্নয়ন আটকে রাখা চলবে না -
ভোটের দামামা বাজতেই ময়দানে মমতা! ভবানীপুর থেকে নির্বাচনী লড়াই শুরু, কবে কোথায় প্রচার করবেন মুখ্যমন্ত্রী? -
ভবানীপুরে অদৃশ্য নজরদারি! মমতা ও অভিষেকের কড়া বার্তা, ঢিলেমি নয়, বাড়াতে হবে জয়ের ব্যবধান -
SIR: রাতে সাপ্লিমেন্টারি ভোটার লিস্ট প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন, কীভাবে দেখতে পাবেন অনলাইনে? -
জ্বালানি নিরাপত্তায় নতুন দিগন্ত, তেলের মজুত বাড়াচ্ছে ভারত, সংসদে বড় ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর -
সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় বড় কাটছাঁটের আশঙ্কা! নাম বাদ গেলে কী করবেন? কীভাবে আবেদন করবেন? জেনে নিন -
ভোটার তালিকায় বড় আপডেট আজই! প্রকাশ হবে সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট, জানুন বিস্তারিত -
কলম্বিয়া বিমান দুর্ঘটনা: উদ্ধার ৭৭, এখনও নিখোঁজ বহু, হত আপাতত ১ -
মধ্যপ্রাচ্যে সঙ্কট! অবশেষে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে ফোন করলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প












Click it and Unblock the Notifications