এ এক অনন্য মন্দির জাপানে! দেবতার উদ্দেশে নিবেদন করা হয় আঙুর ও মদ

এ এক অনন্য মন্দির জাপানে! দেবতার উদ্দেশে নিবেদন করা হয় আঙুর ও মদ

এক অনন্য মন্দির। যে মন্দিরে দেবতার উদ্দেশে নিবেদন করা হয় আঙুর ও মদ। সরকারিভাবে এই মন্দিরের নাম ডাইজেনজি। কিন্তু দেশের আঙুর উৎপাদনের ইতিহাসের সঙ্গে সংযোগের কারণে এটিকে আঙুর মন্দির নামে ডাকা হয়। তবে এই মন্দিরের নৈবেদ্য ও প্রসাদে অভিনবত্বই আলাদা করেছে অন্য মন্দিরের থেকে।

জাপানে পাহাড়ের ধারে কাঠের তৈরি এই বৌদ্ধ মন্দির

জাপানে পাহাড়ের ধারে কাঠের তৈরি এই বৌদ্ধ মন্দির

জাপানে পাহাড়ের ধারে কাঠের তৈরি এই বৌদ্ধ মন্দিরটির অবস্থান। এখানে যেমন দেবতার উদ্দেশে আঙুর ও মদ নিবেদন করা হয়, এখানকার প্রধান সন্ন্যাসী একটি দ্রাক্ষাক্ষেত্র সমবায়ের সভাপতি। টোকিও থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পশ্চিমে ডাইজেনজি ইয়ামানাশি অঞ্চলে অবস্থিত মন্দিরটি। মাউন্ট ফুজির বাড়ি হিসেবেও বিখ্যাত এই মন্দিরটি। সম্প্রতি জাপানের ওয়াইন তৈরির মূল ঘাঁটি এখানে।

বৌদ্ধ মন্দিরটির পৌরাণিক কাহিনি বর্ণনায় প্রধান সন্ন্যাসী

বৌদ্ধ মন্দিরটির পৌরাণিক কাহিনি বর্ণনায় প্রধান সন্ন্যাসী

এই বৌদ্ধ মন্দিরের প্রধান সন্ন্যাসী তেশু ইনোউ পৌরাণিক কাহিনি বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, অন্যান্য মন্দিরে যেমন সেক (জাপানি ধেনো মদ) নিবেদন করে, আমরা নিবেদন করি ওয়াইন। ৭১৮ খ্রিস্টাব্দে এক বিখ্যাত জাপানি বৌদ্ধ সন্ন্যাসী ইয়াকুশি নয়োরাই ভ্রমণকারী গিয়োকি নামক বুদ্ধের সঙ্গে দেখা করেন। যে স্থানে দেখা হয়েছিল তাঁদের সেখানেই গড়ে ওঠে ওই মন্দিরটি।

মন্দির তৈরির নেপথ্যে ঔষধির উদ্দেশে ওয়াইন তৈরির কাহিনি

মন্দির তৈরির নেপথ্যে ঔষধির উদ্দেশে ওয়াইন তৈরির কাহিনি

ওই বৌদ্ধ সন্ন্যাসীর হাতে নয়োরাই এক থোকা আঙুর ধরিয়েছিল এবং গিয়োকিকে ডাইজেনজি খুঁজে পেতে এবং স্থানীয় দ্রাক্ষাক্ষেত্রের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে অনুপ্রাণিত করেন। একইসঙ্গে ইয়ামানশির বাসিন্দাদের শেখান কীভাবে ঔষধির উদ্দেশে ওয়াইন তৈরি করতে হয়। অপরপক্ষে দাবি করা হয়েছিল, কৃষক কাগেইউ আমেমিয়াই প্রথম জাপানে আঙুল চাষ শুরু করেছিলেন। একই এলাকায় ৪৫০ বছর পরে ১১৮৬ সালে তা হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।

পার্বত্য অঞ্চলে জন্মানো প্রাচীনতম আঙুরের জাত

পার্বত্য অঞ্চলে জন্মানো প্রাচীনতম আঙুরের জাত

ডিএনএ বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছে যে কোশু পার্বত্য অঞ্চলে জন্মানো প্রাচীনতম আঙুরের জাত। একটি লতা প্রজাতির উদ্ভিদ যা ইউরোপে চাষ করা হয় এবং এটি একটি বন্য চিনা লতা হিসেবে গণ্য হয়। স্থানীয় চেম্বার অফ কমার্স দ্বারা সমর্থিত ইয়ামানাশির কোশু উপত্যকার ওয়েবসাইটি প্রস্তাব করে যে, চিন থেকে আগত বীজ ও লতাগুলি মন্দিরের মাটিতে রোপণ করা হয়েছিল। অনেক পরে তা দৈবক্রমে পুনরায় আবিষ্কৃত হয়েছিল।

মন্দিরের বেদিতে আঙুর এবং মদের বোতলগুলিই নৈবেদ্য

মন্দিরের বেদিতে আঙুর এবং মদের বোতলগুলিই নৈবেদ্য

এটি মেইজি যুগে ১৮৬৮ থেকে ১৯১২ সালের মধ্যে পশ্চিমা বিশ্বে আলোড়ন তৈরি করেছিল। ওয়াইন উৎপাদন শুরু হয়েছিল জাপানে। উর্বর মাটি এবং আঙুর জন্মানোর দীর্ঘ ইতিহাসের কারণে ইয়ামানাশি প্রথম দ্রাক্ষাক্ষেত্রের জন্য সুস্পষ্ট পছন্দ ছিল। আজও ডাইজেনজি পের্গোলা কাঠামোতে আঙুল চাষ হয়ে আসছে। মন্দিরের বেদিতে আঙুর এবং মদের বোতলগুলি নৈবেদ্য হিসেবে রাখা আছে প্রাচীন চেরি-কাঠের মূর্তির সামনে।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+