কৌরব-পাণ্ডবদের একমাত্র বোন ছিলেন রাজকুমারী দুঃশলা, তাঁর কাহিনি মহাভারতে বড়ই করুণ
কৌরব-পাণ্ডবদের একমাত্র বোন ছিলেন রাজকুমারী দুঃশলা, তাঁর কাহিনি মহাভারতে বড়ই করুণ
মহাভারতের মূল উপজীব্য বিষয় হল কৌরব ও পাণ্ডবদের গৃহবিবাদ। কুরু বংশের সদস্যদের মধ্যে অন্তর্ঘাতের পরিণামে হয়েছিল কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ। সেই যুদ্ধে প্রায় নিঃশেষ হয়ে গিয়েছে গোটা বংশই। একমাত্র বংশধর হিসেবে রয়েছে গিয়েছে পরীক্ষিত। কিন্তু একটা সময়ে কৌরবা ছিলেন ১০১ ভাই। আর পাণ্ডবরা ছিলেন পাঁচ ভাই। কিন্তু জানেন কি কৌরব-পাণ্ডবদের ১০৬ ভাইয়ের মাত্র একমাত্র বোন ছিল?

রূপকথার গল্পে সাতভাই চম্পার মাত্র এক বোন ছিল পারুল। তেমনই মহাভারতের কৌরব-পাণ্ডবদের ১০৬ ভাইয়ের এক মাত্র বোন ছিলেন দুঃশলা। তাঁর কাহিনিও কম বেদনার নয়। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে শুধু বেঁচেছিলেন পঞ্চপাণ্ডব। দুর্যোধনরা ১০১ ভাই প্রাণ হারিয়েছিলেন। একইসঙ্গে প্রাণ হারিয়েছিলেন দুর্যোধনের একমাত্র বোন দুঃশলার স্বামীও।
দুঃশলার বিয়ে হয়েছিল সিন্ধুরাজ জয়দ্রথের সঙ্গে। কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে জয়দ্রথ ছিলেন কৌরবপক্ষে। তাঁর নজর ছিল দ্রৌপদীর দিকে। দ্রৌপদীকে অপহরণ করার সময় অর্জুন আর ভীম তাঁকে ধরে ন্যাড়া করে মুখে কালি মাখিয়ে ছেড়ে দিয়েছিলেন। নিজের বোনের স্বামী বলে তাঁকে প্রাণে মারেননি তাঁরা। তবে সেই অপমানের বদলা নীতে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে অভিমন্যুকে সপ্তরথী মিলে হত্যা করার সময় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন।
পুত্র অভিমন্যুকে হারিয়ে অর্জুন তারপর জয়দ্রথকে সূর্য অস্ত যাওয়ার আগে হত্যা করার প্রতিজ্ঞা করেছিলেন। না পারলে তিনি জ্বলন্ত চিতায় নিজেকে উৎসর্গ করবেন বলেও জানিয়েছিলেন। তারপর কৃষ্ণের সহায়তায় জয়দ্রথকে সূর্য অস্ত যাওয়ার আগে হত্যা করে তিনি প্রতিজ্ঞাপূরণ করেছিলেন। একইসঙ্গে একমাত্র বোন দুঃশলা বিধবা হয়েছিলেন।

এই দুঃশলা ছিলেন হস্তিনাপুরের খুব আদরের। ১০৬ ভাইয়ের একমাত্র বোন বলে কথা। তিনি ধৃতরাষ্ট্র ও গান্ধারীর একমাত্র কন্যা। কৌরবদের বোন। পাণ্ডবরা তাঁর খুড়তুতো ভাই। অর্থাৎ কাকার ছেলে ছিলেন। দুঃশলা জন্মগ্রহণ করেছিলেন ১০০ কৌরব ভাই ও পৈতৃক সৎ ভাই যুযুৎসুর পরে। পাণ্ডব পাঁচ ভাইয়ের পরেও তাঁর জন্ম। অর্থাৎ বাড়ির সবথেকে ছোটো ছিলেন দুঃশলা।
দুঃশলার বিয়ে হয়েছি সিন্ধুরাজ জয়দ্রথের সঙ্গে। তাঁর ছেলের নাম ছিল সুরথ। এর এক কন্যা ছিল তাঁর, নাম রোশনি। পাণ্ডবরা যখন বনবাসী হয়ে দিন কাটাচ্ছেন, তখন দ্রৌপদীকে অপহরণ করতে গিয়েছিলেন জয়দ্রথ। ধরা পড়ার পরে তাঁকে হত্যা করতেই সহমত হয়েছিলেন ভীম, নকুল ও সহদেব। কিন্তু অর্জুন বাধা দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, জয়দ্রথকে হত্যা করলে তাঁদের বোন বিধবা হবে। কিন্তু ভাগ্যের এমন নিষ্ঠুর পরিহাস যে অর্জুনের তিরই জীবনে যবনিকা পড়েঠিল দুঃশলার স্বামীর জয়দ্রথের।
শুধু স্বামী জয়দ্রথ নয়, ছেলে সুরথও নিহত হয়েছিলেন অর্জুনের সঙ্গে যুদ্ধে। সেটা ঘটেছিল কুরুক্ষেত্র যুদ্ধের পরে। জয়দ্রথের পর সিন্ধুরাজ্যের শাসনভার ছিল ছেলে সুরথরে উপর। যুধিষ্ঠির যখন হস্তিনাপুরের রাজা হয়ে অশ্বমেধ যজ্ঞ করেছিলেন, তখন পাণ্ডবদের ঘোড়াটি আটকে ছিলেন সুরথ। তার ফলে অর্জুনের সঙ্গে যুদ্ধ হয়েছিল সুরথের। সেই যুদ্ধে সুরথ নিহত হয়েছিলেন। দুঃশলা তখন সুরথের শিশুপুত্রকে নিয়ে কাঁদতে কাঁদতে যুদ্ধক্ষেত্রে এসেছিলেন। দুঃশলার কান্না অর্জুনকে ব্যথিত করে তুলেছিলেন। তারপর অর্জুন সুরথের শিশুপুত্রকে সিন্ধুর রাজা ঘোষণা করেছিলেন।












Click it and Unblock the Notifications