স্মৃতিচারণায় শশীর 'বাব্বুয়া' অমিতাভ, উঠে এল তাঁদের 'হেয়ারস্টাইল' থেকে নানা অজানা ঘটনার প্রসঙ্গ
এককালের সহ অভিনেতার মৃত্যু যে তাঁর কাছে কতটা যন্ত্রণাদায়ক তা নিজের ব্লগে প্রকাশ করেছেন অমিতাভ বচ্চন। শশী কাপুরের মৃত্যুতে নিজের মতো করে শ্রদ্ধার্ঘ্য জ্ঞাপন করেছেন বিগ বি অমিতাভ বচ্চন।
একটা ফ্রেম। একটা বজ্রকঠিন কন্ঠস্বর, আর সেই কন্ঠস্বর দিয়ে অনর্গল বেরিয়ে চলেছে অগ্নিগর্ভ সংলাপের একের পর এক লাইন ,"আজ মেরে পাস ...বিল্ডিং হ্যায়, প্রপার্টি হ্যায়,ব্যাঙ্ক ব্যালেন্স হ্যায়, বাংলা হ্যায়, গাড়ি হ্যায় ... ক্যায়া হ্যায় ,ক্যায়া হ্যায় তুমহারে পাস?".... আর এই কঠিন কণ্ঠের পাশে একটি হালকা কন্ঠস্বর, আর একটা ক্ষণের 'পজ'। এরপর পাল্টা উঠে এল একটি সংলাপ- 'মেরে পাস মা হ্যায়'।
ফিল্মের নাম 'দিওয়ার'। আর কালজয়ী এই বলিউড ফিল্মের এই দৃশ্যেই তৈরি হয়ে যায় একাটা ইতিহাস। ভারতীয় চলচ্চিত্রের একটা অধ্যায়। যে অধ্যায়ে ধরা দেয় দুই কিংবদন্তী অভিনেতার অভিনয় দক্ষতা। একদিকে অমিতাভ বচ্চন অন্যদিকে শশী কাপুর। এককালের এই সহ অভিনেতার মৃত্যু যে তাঁর কাছে কতটা যন্ত্রণাদায়ক তা নিজের ব্লগে প্রকাশ করেছেন অমিতাভ বচ্চন। শশী কাপুরের মৃত্যুতে নিজের মতো করে শ্রদ্ধার্ঘ্য জ্ঞাপন করেছেন বিগ বি অমিতাভ বচ্চন।

শশী কাপুরের 'বাব্বুয়া'-র লেখা
অমিতাভ বচ্চন এদিন শশী কাপুরের স্মৃতি চারণায় লেখা শুরুই করেছেন, একটি ছবির দৃশ্যের বর্ণনা দিয়ে। এক ম্যাগাজিনের ছবিতে শশী কাপুরকে দেখা গিয়েছিল মার্সিডিজ গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। কামানো দাড়ি, গোঁফে অসামান্য হ্যান্ডসাম লাগছিলেন তিনি। সারা ম্যাগাজিনের পাতা জুড়ে ছিলেন শশী। ক্যাপশানে লেখাছিল...'শশী কাপুর , পৃথ্বীরাজ কাপুরের সন্তান, রাজ ও শম্মী কাপুরের ভাই অভিষেক করতে চলেছেন ফিল্মে'।

কী মনে হয়েছিল অমিতাভের
অমিতাভ লিখেছেন ,'বলিউডে পা রাখার আগে মনে হয়েছিল,যেখানে ইন্ডাস্ট্রিতে এত সুদর্শন সব পুরুষ রয়েছেন,সেখানে কোনওভাবেই আমার পক্ষে দর্শকের মনে দাগ কাটা সম্ভব নয়।

' তাঁর পাশে আমার কোনও চান্সই নেই '
শশী কাপুরের চেহারা নিয়ে অমিতাভের বর্ণনা, দুনিয়াকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে, একটি মার্সিডিজ স্পোটর্স গাড়ির গায়ে হেলান দেওয়া সুদর্শন পুরুষটি যেন সকলের থেকে আলাদা। তিনি পৃথ্বীরাজ কপূরের ছেলে,রাজ এবং শাম্মি কপূরের ছোট ভাই। এরকম একজন ব্যক্তিত্বের পাশে আমার নিজেকে নেহাতই নগণ্য মনে হয়েছিল।

শশী কাপুরের সঙ্গে বিগ বি-র প্রথম দেখা
অমিতাভ লেখেন, এরপরও বহুবার শশী কাপুরের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়েছে বহু পার্টিতে। ইন্ডাস্ট্রির কিছু বন্ধুবান্ধবের মাধ্যমে শশী কাপুরের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ হয়। অত্যন্ত ভদ্র, নম্র স্বভাবের একজন মানুষ ছিলেন শশী কাপুর, এমনই আখ্যাই শশী সম্পর্কে উঠে এসেছে বেদনাহত অমিতাভের লেখা থেকে।

স্মৃতি চারণা
অমিতাভ বচ্চন তাঁর লেখায় জানিয়েছেন , যখনই শশী কাপুরের সঙ্গে দেখা হত , তিনি সবসময়ে মনে করিয়ে দিতেন শেষবার কোথায় কীভাবে দেখা হয়েছে। আর কেইই বা ভুলতে পারে শশী কাপুরের মতো তারকার সঙ্গে দেখা হওয়ার সেই দুরন্ত মুহুর্ত। তবে তারকাচিত কোনও মনোভাবই ছিল না কাপুর পরিবারের এই সদস্যর। নিজেকে খুবই মাটির কাছের মানুষ করে রাখতেন শশী কাপুর।

শশী কাপুরের মতো চুল কাটতে চাওয়া
শশী কাপুরের কোঁচকানো হেয়ার স্টাইলের ভক্ত ছিলেন অমিতাভও। একবার নিজের হেয়ার ড্রেসারকে শশী কাপুরের মতো করে তাঁর চুল কেটে দেওয়ার জন্য বলেছিলেন অমিতাভ। আর তখন থেকেই সেই কান ঢাকা চুলের স্টাইল রপ্ত করেছেন অমিতাভ। এই তথ্য উঠে এসেছে অমিতাভের স্মৃতি চারণায়।

কেন হাসপাতালে শশী কাপুরকে দেখতে যাননি অমিতাভ?
কোনও দিনও নিজের ভালো বন্ধু শশী কাপুরকে অসুস্থতার মধ্যে আর দেখতে চাননি অমিতাভ। আগে অনেকবার শশী কাপুরকে হাসপাতালে তিনি দেখে এলেও পরে আর তাঁকে অসুস্থতার মধ্যে দেখতে চাননি তিনি।

আদরের 'বাব্বুয়া'...
খুব আদর করে শশী কাপুর তাঁকে বাব্বুয়া বলে ডাকতেন । লেখার শেষে অমিতাভের শেষকথা , শশী তাঁর শেষযাত্রায় 'বাব্বুয়া'কে এক বিশাল স্মৃতির সমুদ্রে ফেলে রেখে জীবনের অনেক অজানা, অদেখা মুহূর্তকে নিজের সঙ্গে নিয়ে চলে গেলেন।












Click it and Unblock the Notifications