মমতা দিল্লিতে থেকেও বিরোধী ঐক্যে নেই! কী ছবি প্রকট হচ্ছে ২০২৪-এর আগে
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নীতি আয়োগের বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লি গিয়েছেন তিনদিন আগেই। ৭ অগাস্ট নীতি আয়োগের বৈঠক। তার আগে ৪ অগাস্টই তিনি পৌঁছে গিয়েছেন দিল্লিতে। ইতিমধ্যে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে একপ্রস্থ বৈঠক সেরেছেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নীতি আয়োগের বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লি গিয়েছেন তিনদিন আগেই। ৭ অগাস্ট নীতি আয়োগের বৈঠক। তার আগে ৪ অগাস্টই তিনি পৌঁছে গিয়েছেন দিল্লিতে। ইতিমধ্যে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে একপ্রস্থ বৈঠক সেরেছেন। এই চারদিনে তিনবার সাক্ষাৎ হবে উভয়ের। কিন্তু দিল্লিতে থেকেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গরহাজির থাকলেন বিরোধীদের নৈশভোজে। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অনুপস্থিতি ২০২৪-এর বিরোধী ঐক্যেফাটল ধরাবে।

মমতার দিল্লি সফরে মোদীর সঙ্গে তিন বৈঠক
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এবারের দিল্লি সফরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ অগ্রাধিকার পাচ্ছে। চারদিনের সফরে তিনদিন প্রধানমন্ত্রী-মুখ্যমন্ত্রী সাক্ষাৎ করবেন। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে গিয়ে একান্ত সাক্ষাৎকার দিয়ে শুরু হয়েছিল এবারের দিল্লি সফরে মমতার কর্মসূচি। এদিন একটি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী-মুখ্যমন্ত্রী সাক্ষাৎ করেন। স্বাধীনতার অমৃত মহোৎসব উপলক্ষে মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। আবার ৭ অগাস্ট নীতি আয়োগের বৈঠক হবে। এই বৈঠকেও সমস্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা উপস্থিত থাকবেন।

বিরোধী-সঙ্গে না মমতার, ঐক্য ধাক্কা খেতে বাধ্য
এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারি অনুষ্ঠানে ব্যস্ত থাকছেন। কিন্তু সেই ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি ইচ্ছা করলেই বিরোধীদের সমবেত নৈশভোজে অংশ নিতে পারতেন। কিন্তু কোনও বিশেষ কারণে তিনি বিরোধীদের নৈশভোজে গেলেন না। দিল্লিতে গিয়েও বিরোধী নেতৃত্বের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন না। এর ফলে ২০২৪-এর লোকসভা ভোটের আগে বিরোধী ঐক্য ধাক্কা খেতে বাধ্য।

বিরোধী ঐক্য ফেলে মোদীর সঙ্গে সেটিং-ই অগ্রাধিকার!
বিরোধীদের একাংশের অভিযোগ, দুর্নীতি ধামাচাপা দিতে দিল্লি গিয়েছেন। এবার দিল্লিতে গিয়ে তাই বিরোধী ঐক্যে শান দেবেন না তিনি। সলতে পাকানোর কাজ বাকি রেখেই তিনি ফিরে আসবেন। এবার লক্ষ্য হল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ম্যানেজ করে দুর্নীতি চাপা দেওয়া। সিপিএমের পক্ষ থেকে সুজন চক্রবর্তীর অভিযোগ, তিনি অফিসিয়ালি কোনও বৈঠকে যাচ্ছেন না বা কোনও মন্ত্রীকে পাঠাচ্ছেন না। স্বার্থ চরিতার্থ করতে তিনি চারদিনে তিনবার কেন পাঁচবার-ছবারও বৈঠকে বসবেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনায় অধীর
শুধু সিপিএম নয়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অবস্থানের কড়া সমালোচনা করেছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরীও। তাঁর অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী দিল্লি এসেছেন প্রধানমন্ত্রীকে ম্যানেজ করতে। প্রধানমন্ত্রী যা বলবেন, যেমনটা করতে বলবেন, এবার তিনি তাই করবেন। করবেন নিজে বাঁচতে, দলকে বাঁচাতে। তাই এবার বিরোধী ঐক্যের জলাঞ্জলি দিতেও তিনি পিছপা হবেন না।

২০২৪-এর আগে অধীরের তিরে বিদ্ধ মমতা
অধীর চৌধুরীর আরও অভিযোগ, শুধু এবারই নয়, যখনই প্রয়োজন হয়েছে, তখনই তিনি দিল্লি ছুটে এসেছেন। সামলেছেন বিপদ। এবারও তার অন্যথা হয়নি। কারণ এখন রাজ্যে দুর্নীতি-কাণ্ডে মহাবিপাকে পড়েছে তৃণমূল। সেই বিপদের হাত থেকে বাঁচা এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লক্ষ্য। এর আগেও দেখা গিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর দল তৃণমূল কংগ্রেস বিভিন্ন রাজ্যে ইউনিট খুলে কংগ্রেসকে ভেঙে বিজেপিকে সাহায্য করার খেলা শুরু করেছেন। এবং বিজেপিকে সুবিধা পাইয়েও দিয়েছেন।

দুর্নীতি ধামাচাপা পড়ে যাবে, আশঙ্কা বিরোধীদের
রাজনৈতিক মহলের একটা বড় অংশ মনে করছে, এবারও এমনই কোনও একটা ব্যবস্থা হবে যাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ধামাচাপা পড়ে যাবে। ঠিক যেমন সারদা ও নারদ মামলার সময় হয়েছিল, এবারও শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তও সেই পথে হাঁটতে পারে অদূর ভবিষ্যতে। বিনিময়ে বিজেপিকে বেশ কিছু সুবিধা পাইয়ে দেবে তৃণমূল। ২০২৪-এ জেতার রাস্তা মসৃণ করবে। ঠিক যেমন মসৃণ হয়েছে গোয়া, ত্রিপুরা, মেঘালয়-সহ বিভিন্ন রাজ্যে।

মোদী-মমতা সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে বিজেপি
শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনে গিয়ে একান্তে বৈঠক করে আসেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রায় ৪০ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের পাওনা টাকা ও জিএসটি বাবদ বকেয়া টাকার দাবি জানান তিনি। রাজ্যের জন্য দাবি-দাওয়া জানাতেই তাঁর এই বৈঠক বলে জানানো হয় দলের তরফে। বিজেপিও জানায়, একজন প্রধানমন্ত্রী সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী সাক্ষাৎ করতেই পারেন, তাঁদের সঙ্গে আলাপচারিতা হতেই পারে যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোয়।

মোদী-মমতার বৈঠককে সেটিং বলে কটাক্ষ কংগ্রেস-সিপিএমের
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নীতি আয়োগের বৈঠকে যোগ দিতে দিল্লি সফরে গেলেও, প্রধানমন্ত্রী বাসভবন সেভেন রেসকোর্সের বৈঠকে এদিন আলোচনার বিষয়বস্তুতে আরও অনেক কিছু ছিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। এই বৈঠকে রাজ্য রাজনীতির বিভিন্ন বিষয় দুই জননেতা-নেত্রীর আলোচনা করবেন, এটাও খুব স্বাভাবিক। ইডি-সিবিআইয়ের মতো কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে দিয়ে হেনস্থা করার বার্তা মুখ্যমন্ত্রী প্রকাশ্যে অনেকবার বলেছেন, এবার মুখোমুখ সাক্ষাতে তিনি বলবেন, সেটাও স্বাভাবিক। তবে রাজ্যের বিরোধী সিপিএম এবং কংগ্রেসও মোদী-মমতার বৈঠককে সেটিং বলে কটাক্ষ করতে ছাড়ছেন না।












Click it and Unblock the Notifications