কর্নাটক ন্যায়বিচারে সবার উপরে, সেরা পাঁচে স্থান করে নিয়েছে দক্ষিণের ৪ রাজ্য
ন্যায়বিচারে কর্নাটক সেরা। শুধু কর্নাটকই নয়, ইন্ডিয়া জাস্টিস রিপোর্ট জানাচ্ছে ন্যায়বিচারে সেরা পাঁচ রাজ্যের মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ ভারতেরই ৪ রাজ্য! কর্নাটক বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে এই রিপোর্ট সামনে এসেছে। কর্নাটক সেখানে সবার উপরের স্থানে থাকা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।
ইন্ডিয়া জাস্টিস রিপোর্ট ২০২২ অনুসারে ভারতের সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে ন্যাচবিচারের মানদণ্ডে সাজানো হয়েছে। সেই তালিকায় সবার উপরে স্থান করে নিয়েছেন দক্ষিণ ভারতের রাজ্য কর্নাটক। কর্নাটক ছাড়া দক্ষিণের আরও তিনটি রাজ্য সেরা পাঁচে রয়েছে।

২০১৯ চালু হওয়া টাটা ট্রাস্টের একটি সমীক্ষা অনুয়ায়ী ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে প্রতি ১০ লাখ লোকের জন্য ১৯ জন বিচারক এবং ৪.৮ কোটি মামলার ব্যাকলগ রয়েছে। আইন কমিশন ১৯৮৭ সালের প্রথম দিকে পরামর্শ দিয়েছিল, এক দশকের মধ্যে প্রতি ১০ লাখ লোকের জন্য ৫০ জন বিচারক থাকা উচিত।
এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিচার বিভাগের শূন্যপদ, বাজেট বরাদ্দ, পরিকাঠামো, মানবসম্পদ, আইনি সহায়তা, কারাগারের অবস্থা, পুলিশ এবং রাজ্য মানবাধিকার কমিশনের কাজকর্মের মতো বিভিন্ন পরামিতিগুলির উপর রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির মান নির্ধারণ করে।
এই রিপোর্ট জানিয়েছে, কর্নাটক ১৮টি বড় এবং মাঝারি আকারের রাজ্যগুলির মধ্যে তালিকার শীর্ষস্থানে রয়েছে। ১ কোটির বেশি জনসংখ্যা থাকা রাজ্যগুলির মধ্যে কর্নাটক সেরা। তার নীচেই রয়েছে তামিলনাড়ু, তেলেঙ্গানা, গুজরাট এবং অন্ধ্রপ্রদেশ। এই হচ্ছে সেরা পাঁচ রাজ্যের অবস্থান।
এছাড়া সাতটি ছোটো রাজ্যের তালিকাও করেছে ইন্ডিয়া জাস্টিস রিপোর্ট। এক কোটির কম জনসংখ্যা থাকা রাজ্যগুলির মধ্যে শীর্ষে রয়েছে সিকিম, তারপরে রয়েছে অরুণাচলপ্রদেশ ও ত্রিপুরা। এখানে উল্লেখ্য, দেশের মোট ১৪০ কোটি জনসংখ্যার ভারতে প্রায় ২০০৭৬ জন বিচারক রয়েছেন।

ইন্ডিয়া জাস্টিস রিপোর্ট বলছে, প্রায় ২২ শতাংশ অনুমোদিত পদ খালি রয়েছে দেশে। হাইকোর্টের বিচারকদের মধ্যে শূন্যতা ৩০ শতাংশ। পুলিশে মহিলা মাত্র ১১.৭৫ শতাংশ। যদিও তাদের সংখ্যা গত এক দশকে দ্বিগুণ হয়েছে। প্রায় ২৯ শতাংশ পদ খালি রয়েছে। পুলিশের জনসংখ্যার অনুপাত প্রতি লাখে ১৫২.৮। এর আন্তর্জাতিক মান ২২২।
এই রিপোর্টে বলা হয়েছে, কারাগারগুলো ১৩০ শতাংশের বেশি দখলে রয়েছে এবং দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি বন্দি তদন্ত বা বিচার শেষ হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। ইন্ডিয়া জাস্টিস রিপোর্টা বা আইজেআর বলেছে যে, বেশিরভাগ রাজ্য কেন্দ্রের দেওয়া তহবিল পুরোপুরি ব্যবহার করেনি। পুলিশ, কারাগার এবং বিচারব্যবস্থায় তাদের নিজস্ব ব্যয় বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারেনি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্নাটকই একমাত্র রাজ্য যেখানে পুলিশ অফিসার এবং কনস্টেবল উভয়ের মধ্যেই এসসি, এসটি এবং ওবিসি পদের জন্য ধারাবাহিকভাবে কোটা পূরণ করেছে। বিচারব্যবস্থায় কোনো স্তরেই কোনো রাজ্যই তিনটি কোটা পূরণ করেনি।
শুধুমাত্র গুজরাট এবং ছত্তিশগড় তাদের নিজ নিজ এসসি কোটা পূরণ করেছে। অরুণাচল প্রদেশ, তেলেঙ্গানা এবং উত্তরাখণ্ড তাদের নিজ নিজ এসটি কোটা পূরণ করেছে। কেরালা, সিকিম, অন্ধ্রপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, ছত্তিশগড় এবং তেলেঙ্গানা ওবিসি কোটা পূরণ করেছে মাত্র।












Click it and Unblock the Notifications