ইউনিয়ন বাজেট ২০২৬ নিয়ে তীব্র আক্রমণ বিরোধীদের, নারী, কৃষক ও শিক্ষা বিরোধী বলে কটাক্ষ মমতার
নির্মলা সীতারমনের উপস্থাপিত ইউনিয়ন বাজেট ২০২৬-২৭ নিয়ে শুরু থেকেই তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার কলকাতা বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, এই বাজেটে বাংলার জন্য "কিছুই নেই"।
দিল্লি যাওয়ার আগে মুখ্যমন্ত্রী বাজেটকে আখ্যা দেন 'নারী বিরোধী, কৃষক বিরোধী ও শিক্ষা বিরোধী' হিসেবে। তাঁর অভিযোগ, এই বাজেটে সাধারণ মানুষের স্বার্থ সম্পূর্ণ উপেক্ষিত। পাশাপাশি তিনি একে "দিশাহীন" ও "দূরদর্শিতাহীন" বলেও কটাক্ষ করেন। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপির বিরুদ্ধে এই বাজেটকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবেও দেখছেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

শুধু বাংলা নয়, বাজেট নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছে দেশের অন্যান্য বিরোধী রাজ্যগুলিও। দিল্লিতে বিরোধী শিবির থেকে কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর জানান, নির্বাচনমুখী কেরালাও বাজেটে কার্যত উপেক্ষিত। তাঁর কথায়, "আমরা বহুদিন ধরে কেরালায় অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ আয়ুর্বেদ চেয়েছিলাম। কিন্তু বাজেট বক্তৃতায় কেরালার নামই শোনা গেল না।"
থারুর আরও বলেন, "মৎস্যজীবী ও নারকেলের প্রসঙ্গ উঠেছে যা কেরালার সঙ্গেই যুক্ত। অথচ জাহাজ মেরামতির ক্ষেত্রে বারাণসী ও পাটনার নাম উল্লেখ করা হলো, কেরালার নয়। বিষয়টি কিছুটা বিস্ময়কর।" তবে তিনি এটাও জানান, বাজেট নথি এখনও সম্পূর্ণ পড়া হয়নি ও বক্তৃতায় বিস্তারিত তথ্যের অভাব ছিল।
এদিকে, লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বাজেট নিয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, "সংসদের মঞ্চে কাল এ বিষয়ে বলব।"
কংগ্রেস দল সামগ্রিকভাবে বাজেটকে 'নিষ্প্রভ' বলে অভিহিত করেছে। দলের জ্যেষ্ঠ সাংসদ জয়রাম রমেশ বলেন, "৯০ মিনিটের বক্তৃতার পরেই স্পষ্ট, বাজেট ২০২৬-২৭ নিয়ে যে বড় প্রত্যাশা তৈরি করা হয়েছিল, তা পূরণ হয়নি। এটি সম্পূর্ণরূপে অনুজ্জ্বল।" তাঁর আরও অভিযোগ, বাজেট বক্তৃতায় গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ও কর্মসূচির জন্য কত টাকা বরাদ্দ হয়েছে, সে বিষয়ে কোনও স্বচ্ছতা নেই।
তবে ইউনিয়ন বাজেট ২০২৬ নিয়ে বিরোধী শিবিরের অসন্তোষ ক্রমশই জোরালো হচ্ছে, যা আগামী দিনে সংসদের ভিতরে ও বাইরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র করবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।












Click it and Unblock the Notifications