দুর্গাপুজো ২০২১: কোন শক্তিতে তৈরি হয়েছিল মহামায়ার রূপ, জেনে নিন মহিষাসুরমর্দিনীর উৎপত্তি রহস্য
দুর্গাপুজো ২০২১: কোন শক্তিতে তৈরি হয়েছিল মহামায়ার রূপ, জেনে নিন মহিষাসুরমর্দিনীর উৎপত্তি রহস্য
নবরাত্রি থেকে মহিষাসুরমর্দিনী দুর্গার একাধিক কাহিনী বর্নিত রয়েছে পুরানে। দুর্গার মহিষাসুর মর্দিনী হয়ে ওঠার নেপথ্যে রয়েছে মহিষাসুর বধের পরিকল্পিত সমীকরণ। মহিষাসুরের অত্যাচার দিনদিন বেড়েই চলেছিল স্বর্গে। তাঁকে বধ করতেই পরিকল্পনা করেছিলেন তাঁরা। পুরানে আছে দেবতাদের সঙ্গে যুদ্ধ চলছিল। ১০০বছর ধরে চলে সেই যুদ্ধ। কিছুতেই মহিষাসুরকে পরাস্ত করতে না পেরে শেষে এক নারী মূর্তি তৈরিকরেছিলেন তাঁরা। তিনিই মহামায়া,দুর্গতিনাশিনী দুর্গা।

দুর্গার পৌরানিক কাহিনী
মার্কণ্ডেয় পুরাণে রয়েছে, ১০০ বছর ধরে অসুরদের সঙ্গে যুদ্ধ করতে করতে দেবতারা পরাস্ত হয়েছিলেন। শেষে স্বর্গ বিতাড়িত হয়ে ব্রহ্মলোকে যান দেবতারা। মহিষাসুর তখন নিজেকে স্বর্গের অধিপতি হিসেবে ঘোষণা করে। অবস্থা ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বর যথেষ্ট উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। শিব রুদ্রুমূর্তি ধারণ করেন। বিষ্ণুর শরীর থেকে তেজশ্মী বেরোতে শুরু করে। একে একে সব দেবতাদের শরীর থেকে তেজ বেরোতে শুরু করে। তার থেকেই তৈরি হন মহামায়া।

দুর্গার উৎপত্তি রহস্য
শিবের তেজ থেকে তৈরি হয় মহামায়ার মুখ। বিষ্ণুর তেজ থেকে ৈতরি হয় মহামায়ার বাহু। যমের তেজে তৈরি হয় কেশরাশি। চন্দ্রের তেজ থেকে স্তন যুগল, ইন্দ্রের তেজ থেকে দেহের মধ্যভাগ, বরুণের তেজে জঙ্ঘা ও উরুদ্বয়, পৃথিবীর তেজে নিতম্ব, ব্রহ্মার তেজে পদযুগল, সূর্যের তেজে পদাঙ্গুলি, অষ্টবসুর তেজে হাতের আঙুল, কুবেরের তেজে নাক, এবং প্রজাপতিগণের তেজে দাঁত। তারপরেই তৈরি হয় মহিষাসুর মর্দিনীর এই রুদ্রমূর্তি।

অস্ত্রে সজ্জিত দুর্গা
মহিষাসুরের সঙ্গে লড়বেন সেই নারী মূর্তিকে সুসজ্জিত করা অস্ত্রে। দেবতারা অস্ত্র দিতে থাকেন দশভুজাকে। শিব দিলেন ত্রিশূল, বিষ্ণু দিলেন চক্র, বরুণ দিলেন শঙ্খ, অগ্নি দিলেন শক্তি, পবনদেব দিলেন একটা ধনুক আর দুটি তীর, দেবরাজ দিলেন বজ্র, ব্রহ্মা দিলেন মালা আর কমণ্ডল। অস্ত্রের সঙ্গে তাঁকে অলঙ্কারেও ভূষিত করা হল। ক্ষীরোদ সাগর দিলেন বস্ত্র ও অলঙ্কার, কণ্ঠের মুক্তাহার, হাতে বাজু ও বলয়, পায়ের নূপুর, আঙুলগুলিতে অঙ্গুরীয়। বিশ্বকর্মা দিলেন কুঠার ও অভেদ্য কবচ।

মহিষাসুর বধ
রণসাজে সাজে সজ্জিত মহামায়াকে সিংহ দেন গিরিরাজ হিমালয়। তারপরেই অসুর নিধনে প্রস্তুত করে দুর্গাকে পাঠানো হয় মহিষাসুর বধ করতে। মহিষাসুর প্রথমে নারীকে দেখে মোহিত হয়ে পড়েন। তাঁকে কটূক্তি করেন। তারপরেই রুদ্রমূর্তি ধারন করেন দুর্গা। দেবী রেগে গিয়ে মহাপাশ ছুড়ে মারেন মহিষাসুরকে। তার পরেই মহিষাসুর মহিষ রূপে ফিরে গিয়ে দেবীর সঙ্গে লড়াই করতে থাকেন। তারপরে একাধিক ছলনার পর ঠিক সন্ধিক্ষণে বধ করা হয় মহিষাসুর মর্দিনীকে।












Click it and Unblock the Notifications