জামাইষষ্ঠীর তারিখ, কেন পালন করা হয়, ইতিহাস সম্পর্কে জানুন
হিন্দুধর্মে, জামাইষষ্ঠীর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। দেবী ষষ্ঠীদের আরাধনার পাশাপাশি এদিন জামাইকে আদর আপ্যায়ন করে থাকেন শাশুড়িরা। আচার, অনুষ্ঠান মেনেই জামাইষষ্ঠী পালনের রেওয়াজ রয়েছে। মেয়ে, জামাই, নাতি, নাতনিকে সকলকে একসঙ্গে এদিন শ্বশুরবাড়িতে আমন্ত্রণ জানান শাশুড়িরা।
নানান সুস্বাদু খাবার থেকে পোশাক এবং নানান উপহার শাশুড়িরা হাতে তুলে দেন জামাইদের। কম যান না জামাইরাও। মিষ্টির হাঁড়ি থেকে নতুন শাড়ি ও নানান ধরনের নতুন উপহার নিয়ে জামাইরাও হাজির হন শ্বশুরবাড়িতে। এতে জামাই শাশুড়ির সঙ্গে সম্পর্ক কিন্তু আরও সুন্দর ও মধুর হয়ে ওঠে।

- জানুন তারিখ
প্রতিবছর শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে জামাইষষ্ঠী পালন করে থাকেন সকলে। এই দিনকে অরণ্য ষষ্ঠীও বলা হয়। চলতি বছর জুন মাসের ১২ তারিখে পালিত হবে জামাইষষ্ঠী। বাংলায় ২৯ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ সাল।
- কী কী আয়জন করা হয়
এই বিশেষ দিনে শাশুড়িরা তার জামাইয়ের জন্য অনেক আয়োজনই করে থাকেন। কাঁসার থালায় ভাজা থেকে, শুক্তো, মাছ, মাংস, ডাল, তরকারি, মিষ্টি থেকে মৌসুমী ফল দিয়ে শাশুড়িরা সাজিয়ে তাদের জামাইকে খেতে দেন। আর এই রেওয়াজ বহুদিন ধরেই চলে আসছে। তবে এখানেই শেষ নয়, সেই সঙ্গে পাঁচ রকমের ফল, পান, সুপারি, করমচা দিয়ে অরণ্য ষষ্ঠীর ডালা সাজান শাশুড়িরা। দেবী ষষ্ঠীর কাছে গিয়ে জামাইদের নামে পুজো দেন। তাঁদের মঙ্গল কামনায় শাশুড়িরা জামাইদের হাতে হলুদ মাখানো সুতো বেঁধে দেন।
- জানুন, জামাইষষ্ঠীর ইতিহাস সম্পর্কে
কথিত আছে, একই পরিবারের দুইটি বউ ছিলেন। ছোট বউ খেতে ভীষণ ভালোবাসতেন। তাই বাড়িতে যা কিছুই রান্না হতো না কেন তা তিনি প্রায়ই লুকিয়ে আগে থেকে খেয়ে নিতেন। খেতে বসার সময় শাশুড়ি যদি জিজ্ঞাসা করতেন খাবার কোথায় গেল তাহলে সে বলতেন কালো বিড়াল এসে সব খাবার খেয়ে নিয়েছে।
বেড়াল হল মা ষষ্ঠীর বাহন। নিজের সম্পর্কে এমন কথা শুনে বেড়াল মা ষষ্ঠীর কাছে নালিশ জানান। যা শুনে বেজায় রেখে যান দেবী। এরপর ছোট বউয়ের একটি সন্তান জন্মায়, কিন্তু কিছুদিন পরেই তার মৃত্যু হয়। তারপর তার কন্যা সন্তানও হয়। কিন্তু তারাও মারা যায়। সাত পুত্র ও এক কন্যা সন্তান মারা যাওয়ার কারণে স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকেরা তাঁকে বাড়ি থেকে বার করে দেন। কোথাও যাওয়ার জায়গা না পেয়ে তিনি মনের দুঃখে বনে চলে যান। একদিন তার দুঃখ সইতে পারেন না মা ষষ্ঠী। তাই দেবী বৃদ্ধার ছদ্মবেশে তার কাছে আসেন। দেবী বউটিকে জিজ্ঞাসা করেন কেন তিনি কাঁদছেন? তখন তিনি দেবীকে সব কথা খুলে বলেন।
তখন বৃদ্ধা তাঁকে বলেন, ষষ্ঠী দেবীর কাছে ক্ষমা চেয়ে ভক্তি ভরে মায়ের পুজো করলে তিনি ফল পাবেন। বউটি তার বাড়িতে ফিরে যান, এবং দেবীর কথা মতো সব কাজ করেন। তার পরেই মা ষষ্ঠীর কৃপায় তিনি সন্তানদের ফিরে পান। তারপর থেকেই দেবীর মাহাত্ম্য চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে।












Click it and Unblock the Notifications