সূর্যগ্রহণে সাবধানে থাকুন গর্ভবতীরা, নাহলে হবে বিপদ!
সূর্যগ্রহণে সাবধানে থাকুন গর্ভবতীরা, নাহলে হবে বিপদ!
প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকেই এই বিশ্ব সাক্ষী থেকে গ্রহণের। মূলত সূর্য এবং চন্দ্র এই দুই গ্রহণ হয়ে থাকে। কিন্তু আসলে তা হল ছায়া। অর্থাৎ যখন সূর্য, চন্দ্র ও পৃথিবী একই সরলরেখায় অবস্থান করে তখন চন্দ্র বা পৃথিবীর ছায়া একে অপরের উপর পড়ে। তাই একাংশ আমরা দেখতে পাই না, এই মহাজাগতিক ঘটনাকেই গ্রহণ আখ্যা দেওয়া হয়েছে। তবে জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে এই ঘটনার পিছনে ছায়া গ্রহ রাহুকে দায়ী করা হয়েছে। মনে করা হয় সূর্য ও চন্দ্রকে গ্রাস করেন রাহু। আর যার ফলে এই গ্রহণগুলি হয়। জ্যোতিষ মতে গ্রহণের তাৎপর্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত সূর্যগ্রহণকে জ্যোতিষ মতে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জীব জগত, প্রাণী ও জীবনধারার শক্তির মূল উৎস হলেন সূর্যদেব। আর তাই সূর্যগ্রহণ সরাসরি প্রভাব ফেলে থাকে জীবনচর্চা ও বিভিন্ন রাশির জাতক জাতিকাদের উপর। কিন্তু এই গ্রহণের সময় সবথেকে সাবধান থাকতে হয় গর্ভবতী সেইসব মহিলাদের। জেনে নেওয়া যাক সূর্যগ্রহণের সময় কীভাবে সাবধানতা অবলম্বন করবেন তাঁরা।

প্রথম সূর্যগ্রহণের নির্ঘণ্ট
হিন্দু ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, আগামী ৩০ এপ্রিল শনিবার ভারতীয় সময় রাত ১২টা ১৫ মিনিট থেকে শুরু হতে চলেছে ২০২২ সালের প্রথম সূর্যগ্রহণ। যা চলবে ভোর ৪টে ৭ মিনিট পর্যন্ত। ইংরাজি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এই সূর্যগ্রহণ গঠিত হচ্ছে ১মে সকালে। তবে যেহেতু এই সূর্যগ্রহণ ভারত থেকে দৃশ্যমান হবে না তাই সূতক সময়ও বৈধ হবে না। তবে এই গ্রহণের প্রভাব সরাসরি পড়বে সকল জাতক জাতিকাদের জীবনের উপর।

ঘরের বাইরে যাওয়া
সূর্যগ্রহণের সময় গর্ভবতী মহিলাদের উপর বিশেষ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়ে থাকে। এই সময় তাঁদের বাইরে যেতে নিষেধ করা হয়। কারণ জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে এটি শিশুর শারীরিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্বাস করা হয় যে বাইরে যাওয়ার পর গ্রহণের সময় সূর্যের অশুভ বিকিরণের কারণে গর্ভস্থ শিশুর শরীরে লাল দাগ বা ত্বক সংক্রান্ত কোনও সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে এবং এই সমস্যা শিশুর সারাজীবন থাকতে পারে।

সাবধানে ওঠা বসা
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে, সূর্যগ্রহণের সময় গর্ভবতী মহিলাদের ওঠা এবং বসার সময়ও বিশেষ যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বলা হয় যে এই সময় পা বাঁকিয়ে বসে থাকা বা ভুলভাবে বসে থাকা গর্ভস্থ শিশুর স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলে। সন্তান জন্মের পর প্রতিবন্ধীও হতে পারে। তাই জ্যোতিষীদের মতে, এই গ্রহণের সময়ে মহিলাদের খুব সাবধানে উঠতে বসতে হবে।

বিশেষ নিয়মবিধি
জ্যোতিষ শাস্ত্র মতে, সূর্যগ্রহণের পুরো সময়কালে গর্ভবতী মহিলাদের খাবার খাওয়া একদন উচিত নয়। মনে করা হয় এই সময় খাবার খেলে শিশুর শরীরের বিকাশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলে সেই শিশুর স্বাভাবিক জীবনধারা ব্যহত হতে পারে। বলা হয় এই সময় জল ও খাবারের মধ্যে তুলসী পাতা দিয়ে রাখলে অশুভ প্রভাব কেটে যায়। এছাড়াও এই সময় তীক্ষ্ণ বা ধারালো বস্তু থেকে দূরে থাকতে বা ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এ সময় গর্ভবতী নারীদের কাঁচি, ছুরি, ছুরি ইত্যাদি ব্যবহার এড়িয়ে চলতে বলা হয়।












Click it and Unblock the Notifications