Oneindia থেকে ব্রেকিং নিউজের আপডেট পেতে

সারাদিন ধরে চটজলটি নিউজ আপডেট পান

You can manage them any time in browser settings

পশ্চিমবঙ্গের উপনির্বাচনের ফলাফল: মমতা-বিজেপির লড়াই আরও তীব্র হল

  • By: SHUBHAM GHOSH
Subscribe to Oneindia News

আজকাল পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জয় আর নতুন কোনও সংবাদ নয়। মঙ্গলবার (নভেম্বর ২২) রাজ্যের তিনটি উপনির্বাচনের ফলেও কোনও অন্যথা হয়নি। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস তিনটি আসনই বগলদাবা করেছে এবং প্রত্যেকটিতেই জয়ের ব্যবধান বিরাট ভাবে বাড়িয়েছে। মাত্র ছয়-সাত মাস সময়ের মধ্যে মন্তেশ্বর বিধানসভা আসনে ৭০৬-র ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ১ লক্ষ ২৭ হাজারেরও বেশিতে। অন্যদিকে, বাম এবং কংগ্রেসের পতন হয়েছে বিপুল হারে এবং তাদের জায়গাটা নিয়েছে বিজেপি। এই তিনটি আসনেই (তমলুক এবং কোচবিহার অন্য দু'টি) বিজেপির ভোট বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে।

এ পর্যন্ত ঠিকই আছে। মমতা জিতবেন, বাম-কংগ্রেস মুখ থুবড়ে পড়বে, বিজেপি নিজেদের রানরেট বাড়াবে -- এত পশ্চিমবঙ্গের বেশ কয়েকটি নির্বাচনেই দেখা গিয়েছে গত কয়েক বছরে। কিনতু যেটা তাৎপর্যপূর্ণ সেটা হচ্ছে এই ফল ঘোষণার পরে মমতা এবং বিজেপি কী বললেন।

পশ্চিমবঙ্গের উপনির্বাচনের ফলাফল: মমতা-বিজেপির লড়াই আরও তীব্র হল

মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমোর মতে, এই ফলাফল কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের নোট বাতিলের নীতির বিরুদ্ধে গণবিদ্রোহ। ভবিষ্যতে বিজেপি আরও কোনঠাসা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন মমতা। অপরদিকে, একটিও আসন না পেলেও বিজেপি এই ফলাফলে খুশি। তাদের মতে, নোট বাতিলের পক্ষেই রায় দিয়েছে বাংলার মানুষ।

এই ব্যাপারটা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। একটি রাজ্যের উপনির্বাচনের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির সঙ্গে যোগাযোগ বিশেষ দেখা যায় না কিনতু মোদী এবং মমতার দৌলতে এই ঘটনাও এবার ঘটতে দেখা যাচ্ছে। উপনির্বাচনের অন্যান্য যাবতীয় কার্যকারণ বাদ দিয়ে এখন মমতা এবং বিজেপির কাছে নোট বাতিলের সিদ্ধান্তটাই বড়। মেরুকরণ-এর রাজনীতিতে এর চেয়ে বড় উদাহরণ আর কী হতে পারে?

এর মধ্যে দিয়ে দুটি উপসংহার টানা যায়। এক, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বাম এবং কংগ্রেসের যেটুকু বা সাইনবোর্ড ছিল, আজ তাও আর নেই। ১৯৪৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত কোনও না কোনও সময়ে সরকারে থাকা এই দলদুটি আজ কবরে চলে গিয়েছে। এবং তার কারণ তাদের নিজেদের কান্ডজ্ঞানহীনতা এবং হঠকারিতা।

এবছরের বিধানসভা নির্বাচনে এই দু'টি দল মমতাকে হারাতে একে ওপরের হাত ধরার এক দুঃসাহসী পরিকল্পনা নেয়। কিনতু সেই পরিকল্পনা মুখ থুবড়ে পড়ে প্রত্যাশিতভাবেই। আর তার পর থেকে দুই দলের মধ্যে চলতে থাকে ক্রমাগত ক্ষয়। চাপের মুখে উপনির্বাচনগুলির মুখে বাম এবং কংগ্রেস দু'পক্ষই ঠিক করে আলাদা আলাদা ভাবে লড়বে কিনতু ততক্ষণে যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে গিয়েছে।

জৌলুসহীন নেতৃত্বের হাতে পড়ে জ্যোতি বসু এবং সিদ্ধার্থশংকর রায়ের দলগুলির আজকের হাল দেখলে সত্যি করুণা হয়। অবিশ্বাস্য মনে হয় যে এরাই নাকি এককালে বঙ্গ শাসন করেছে দশকের পর দশক।

দ্বিতীয়ত, রাজ্যের নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ। সাম্প্রতিককালে বিজেপি বেশ কয়েকটি নির্বাচনে মমতার তৃণমূলকে বেশ ভালো রকম চ্যালেঞ্জ করেছে যার থেকে প্রমাণিত যে বর্তমান শাসকদলকে তারা ছেড়ে কথা বলবে না।

বিশেষ করে সংখ্যালঘু তোষণ, অর্থনৈতিক স্থবিরতা বা দুর্নীতি ইত্যাদি প্রশ্নে তৃণমূল সুপ্রিমোর বিরুদ্ধে সুর চড়াতে বিজেপি বাড়তি উদ্যোগ নেবেই। তাদের লক্ষ্য ২০২১ সালে (আর তা না হলে ২০২৬-এ তো বটেই) পশ্চিমবঙ্গের তখ্ত দখল করা। যদিও মমতা যতদিন সক্রিয় রাজনীতিতে আছেন সেটা কতটা সম্ভব হবে বলা কঠিন কিনতু এই নোট বাতিলের বিতর্ককে কেন্দ্র করে মমতা এবং মোদীর মধ্যে পারস্পরিক আক্রমণ যে তীব্র আকার ধারণ করেছে, তাতে তাঁরা যে সহজে একে অপরকে ছেড়ে দেবেন না তা সহজেই অনুমেয়।

আসলে প্রায় একই সঙ্গে তাঁরা দুজনে একে অন্যের গদি লক্ষ্য করে এগোচ্ছেন। পর পর দু'বার বঙ্গজয়ের পর মমতার এখন স্বাভাবিকভাবেই লক্ষ্য দিল্লি। আর অন্যদিকে, তাঁকে কলকাতায় গদিচ্যুত করে প্রথমবার এই রাজ্যে নিজেদের শাসন প্রতিষ্ঠা করাও বিজেপির অন্যতম বড় পরিকল্পনা। এই দুই লক্ষ্যই সংঘাতকে অনিবার্য করে আর বাস্তবে হচ্ছেও তাই।

পশ্চিমবঙ্গের এই তিনটি উপনির্বাচনের ফলাফল আগামীদিনের এই লড়াইয়ের ভিতটাকেই আরও শক্ত করল।

English summary
Bengal byelection results show BJP is Mamata's main enemy
Please Wait while comments are loading...