Strange Village: ভারতেই এমন গ্রাম আছে যেখানে সবাই শক্তিশালী, জানেন সেই গ্রামের ঠিকানা
ভারতের বুকেই এমন গ্রাম রয়েছে, যেখানে সবাই শক্তিশালী। সেই গ্রামে আট থেকে আশি সবাই নিজেকে শক্তিশালী করে তোলার কসরতে মত্ত। সকাল থেকে শুরু হয় শরীর চর্চা। সবাই তাই এই গ্রামে পালোয়ান। আখড়ায় আখড়ায় ছেয়ে আছে গোটা গ্রামই।
পাখি বাসা ছেড়ে বেরনোর আগেই সবাই শারীরিক কসরত শুরু করে। সবারই একটাই মন্ত্র- শরীরখানা গড়ো/আগে শরীর গড়ো/নইলে পরে সব ভণ্ডুল/আর যা কিছু করো। তাই শরীর গডতে সকাল থেকেই ডন-বৈঠক, কুস্তি, মুগুর ভাঁজার অভ্যাস গ্রামের মানুষের।

এই গ্রাম ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির পার্শ্ববর্তী এলাকায়। গ্রামের নামটি অসোলা-ফতেহপুর। এ গ্রামের প্রাণ হল যুবশক্তি। এ গ্রামের বেশিরভাগ মানুষই বাউন্সার হিসেবে কাজ করেন। তবে শুধু বাউন্সারই নন, রাজনীতিক থেকে অভিনেতা বেশিরভাগের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকেন এ গ্রামের যুবকরা।
এ গ্রামের যুব সম্প্রদায়ের প্রায় প্রত্যেকেরই পেশিবহুল শরীর। ঘণ্টা দুয়েক শারীরিক কসরত দিয়ে শুরু হয় দিন, আবার বিকেলে দু-ঘণ্টা ঘাম ঝরান। বড়োদের দেখে শেখে ছোটোরাও। তাঁরাও আখড়ামুখী হয় সকাল থেকে বিকেল। দিল্লির এই গ্রামের যুবকরা হতে চান ভারোত্তোলক, কুস্তিগির, ব্যায়ামবীর। বক্সিংয়ের প্তিও অনেকে আগ্রহী।
সবাই প্রায় স্বাস্য্ে সচেতন। সুস্বাস্থ্য অর্জন করাই এ গ্রামের রীতি। আর সুস্বাস্থ্য অর্জনের ইচ্ছায় এ গ্রাম তামাকবর্জিত। কোনো ধরনের নেশায় আশক্ত নন এ গ্রামের বাসিন্দারা। সবাই ব্যায়ামকেই নেশায় পরিণত করেছেন। আর অসোলা-ফতেহপুর গ্রামের সবাই নিরামিষাশী।

অসোলা-ফতেহপুর গ্রামের বাসিন্দারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছেন ভারতের বিভিন্ন নাইটক্লাবে। বাউ্সার হিসেবে তাঁরা কাজ করনে। এই গ্রামের বাসিন্দাদের দায়িত্ববোধ, নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন ও নিয়মানুবর্তিতা সবাই পছন্দ করেন। আর এই গ্রামের বাসিন্দারা স্বপ্ন দেখেন অলিম্পিকের। অলিম্পিক থেকে কুস্তি, বক্সিং-সহ অ্যাথলিটে পদক আনাই লক্ষ্য।
এছাড়া সেনাবাহিনীতে এ গ্রামের যুব সম্প্রদায়ের ঝোঁক রয়েছে। দেশকে সুরক্ষিত রাখা তাঁদের দায়িত্ববোধের পরিচয়। কঠোর পরিশ্রম করে তাঁরা নিজেদেরকে তৈরি করছেন দেশের কাজে লাগার জন্যই। তাই নিয়ম মেনে তাঁরা প্রতিটি পদক্ষেপ করেন। তাঁরা মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন স্বাস্থ্যই সম্পদ।

এ গ্রামের ঐতিহ্যই হয়ে গিয়েছে সুস্বাস্থ্য। সুস্থ ও সবলভাবে বাঁচাই তাঁদের উদ্দেশ্য। তাঁরা বিশ্বাস করেন শরীর চর্চা করলে মন ভালো থাকে, শরীর ভালো থাকে। ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে সবাই ব্যায়াম করেন। এ গ্রামের মানুষের শরীর চর্চাই স্বতন্ত্র করেছে অসোলা-ফতেহপুরকে।












Click it and Unblock the Notifications