Paribari: সিরাজদৌল্লা শিবির করেছিলেন এখানে, ইতিহাস আর বনেদিয়ানায় ভরা নবাবগঞ্জে কাটিয়ে আসুন সপ্তাহান্তের ছুটি
বাংলার নবাবে পদধুলি পড়েছিল এখানে। এই বৈষ্ণবতীর্থ এখনো সমান ভাবে মানুষের কাছে জনপ্রিয়। কিন্তু অনেকেই জানেন না কলকাতা থেকে মাত্র কয়েক ঘণ্টার দূরত্বের মধ্যেই রয়েছে এমন একটি ঐতিহাসিক এবং বনেদিয়ানায় ভরা জায়গা।
উত্তর ব্যারাকপুর কমিশনারেটের মধ্যে পড়ে জায়গাটি। এইখানেই রয়েছে নবাবগঞ্জের সেই ঐতিহাসিক জায়গা পরীবাড়ি। যার জন্য জড়িয়ে রয়েছে ইতিহাস আর বনেদিয়ানা। গঙ্গার তীরে দাঁড়িয়ে রয়েছে সুবিশাল অট্টালিকা। যার মাথায় রয়েছে তিনটি পরী। সম্ভবত সেই কারণেই বাড়িটির নাম হয়েছে পরীবাড়ি।

বাড়িটিতে ব্রিটিশ স্থাপত্যের নিদর্শণ রয়েছে। কিন্তু ইতিহাসের পাতা ওল্টালে জানা এই পরীবাড়ির কাছেই একটা সময়ে আস্তানা গেরেছিলেন বাংলার নবাব সিরাজদৌল্লা। গঙ্গার পাড়ে যাতায়াতের সুবিধার কথা জেনেই নবাব এখানে শিবির তৈরির পরিকল্পনা করেছিলেন। সেই থেকে জায়গাটির নাম হয়ে যায় নবাব গঞ্জ। কিন্তু যে বাড়িটি েখন প্রধান আকর্ষণের কেন্দ্রে রয়েছে সেই বাড়িটি তৈরি করেছিলেন শ্রীধর ও বংশীধর মণ্ডল নামে দুই ব্যক্তি। তাঁরা বৈষ্ণব ছিলেন। সেকারণে বাড়িটিতে ঠাকুরদালান তৈরি করেন।
১৮৪৫ সালে তাঁরা গোপীনাথ জিউ ও ঠাকুরানি মন্দির তৈরি করেছিলেন এই নবাব গঞ্জে। সেখানে ঘটা করে উদযাপন করা হয় দোল, রাজযাত্রা, ঝুলনযাত্রা। ঝুলনযাত্রার স ময় এখানে বিশাল মেলা বসে। প্রায় ১ মাস ধরে চলে সেই মেলা। অন্যান্য সময়েও এখানে আসা য়ায়। প্রায় ৩০০ বছর ধরে এই বাড়িটিতে দুর্গাপুজো হয়ে আসছে। কাজেই যাঁরা বনেদি বাড়ির পুজো দেখতে পছন্দ করেন তাঁদের পক্ষে এই জায়গা আদর্শ হতে পারে।

যদিও বাড়ির অন্তঃপুরে এখনও পর্যটকদের প্রবেশাধিকার নেই। কারণ এখনও এই বাড়িতে বাস করেন পরিবারের লোকেরা। তবে বাইরে থেকে এই বাড়িটি দেখা যায়। গঙ্গার একেবারে পাড়ে এতোটাই অসাধারণ বাড়িটির অবস্থান যে পর্যটকদের মুগ্ধ করবেই। বিশেষ করে বিকেল থেকে আরও মোহময়ী হয়ে ওঠে জায়গািট। গঙ্গার পাড় ধরে বাড়িটির সামনে যে রাস্তা রয়েছে সেটি দিয়ে হেঁটে যেতে অসাধারণ লাগে।












Click it and Unblock the Notifications