মেঘের কোলে জোড়পোখরি অভয়ারণ্যকে ভরিয়ে রেখেছে বিলুপ্তপ্রায় সালামান্ডার
দার্জিলিংয়ের খুব কাছে জোড়পোখরি অভয়ারণ্যে পাবর্ত্য জন্তুর মেলা
দার্জিলিংয়ের অদূরে জোড়পোখরি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য নিয়ে একটা সময় পর্যটকদের মনে আগ্রহের শেষ ছিল না। পার্বত্য জন্তুতে পরিপূর্ণ এই অরণ্যের পুরনো জৌলুস কিছুটা কমলেও মানুষের আনাগোনায় কমতি নেই। শীতের চাদর ও পাহাড়ি গা ছমছমে পরিবেশকে সঙ্গে নিয়ে সবুজ অরণ্যে হারিয়ে যাওয়া মন আর ব্যস্ত শহুরে জীবনে ফিরে আসতে চাইবে না। এক বেলার এই অভয়ারণ্য দর্শনে পাওয়া যায় পরম তৃপ্তি।

অবস্থিতি
দার্জিলিং থেকে ২০ কিলোমিটার এবং ভারত-নেপাল সীমান্ত থেকে ১৮ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত জোড়পোখরি অভয়ারণ্য। দুই বর্গ কিলোমিটার এলাকায় বিলুপ্তপ্রায় জন্তুদের দর্শন মেলে। দেখা যায় নানা ধরনের বন্য উদ্ভিদ।

কীভাবে যাবেন
কলকাতা থেকে ট্রেনে বা বাসে পৌঁছতে হবে শিলিগুড়ি। সেখান থেকে জোড়পোখরি যাওয়ার সরাসরি গাড়ি পাওয়া যায়। অনেকে আবার দার্জিলিং থেকে এক বেলার জন্য পাহাড়ি অভয়ারণ্যে ঘুরে যান। পাহাড়ি রাস্তা ধরে এক ঘণ্টা চললেই মেলে গহীন অরণ্যের দর্শন।

ইতিহাস
নেপালি ভাষার 'জোড়' শব্দের অর্থ জোড়া বা দুই। তাঁরা লেক বা জলাশয়কে 'পোখরি' বলে সম্বোধন করেন। দুই মিলে এই অভয়ারণ্যের নাম রাখা হয়েছে জোড়পোখরি। অর্থাৎ দুটি লেকের সংযোগস্থলে কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হয়েছে এই অরণ্য। যেখানে ১৯৬৪ সালে প্রথম বিলুপ্তপ্রায় সালামান্ডার্সের দর্শন মেলে। ১৯৮৫ সালে জোড়পোখরিকে অভয়ারণ্যের মর্যাদা দেওয়া হয়।

কী কী দেখবেন
১) জোড়পোখরি অভয়ারণ্যের অন্যতম আকর্ষণ বিলুপ্তপ্রায় টিকটিকি প্রজাতির সালামান্ডারের। পূর্ব হিমালয়ের চার হাজার থেকে আট হাজার ফুট উচ্চতায় যাদের মূল বসতি। ডায়নোসর যুগের আগে থেকে যে সব প্রাণীর রাজত্ব ছিল পৃথিবীর বুকে, তাদের মধ্যে অন্যতম এবং প্রাচীন এই সালামান্ডার। নানা রঙের এই প্রাণীকে দূর থেকেই দেখা শ্রেয়।
২) স্থানীয়দের মতে গোরো (সালামান্ডার) ছাড়াও পাহাড়ের ঢালে বন্য পরিবেশে অন্য জীবজন্তু দেখতে পাওয়া যায়। মেঘের আরাম গায়ে মেখে পাইন, ফারের জঙ্গলে ঘুরে বেড়ানোর মজাই আলাদা। একই সঙ্গে পাহাড়ি ভিউ পর্যটকদের মুগ্ধ করে।

কোথায় থাকবেন
জোড়পোখরি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের আশেপাশে থাকার সেরকম ব্যবস্থা না থাকলেও দার্জিলিংকে বেস পয়েন্ট করে এক বেলা অরণ্যে ঘুরে আসা যায়।
ছবি সৌ:ইউটুউব












Click it and Unblock the Notifications