বাবরি মসজিদ বিতর্কে হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে এফআইআর করার আর্জি বিশ্ব হিন্দু পরিষদের
পশ্চিমবঙ্গে নতুন এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (VHP)। এই সংগঠন প্রাক্তন তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে অবিলম্বে একটি FIR নথিভুক্ত করার দাবি জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, হুমায়ুন কবীর ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়াচ্ছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, রাজ্যে একটি "বাবরি মসজিদ" নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে হুমায়ুন কবীরের ভূমিকার পরই এই দাবি উঠেছে। ভিএইচপি ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) এর ১৯৬ এবং ২৯৯ ধারা সহ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক ধারায় কবীরের বিরুদ্ধে মামলা করার দাবি জানিয়েছে।

ভিএইচপির সভাপতি অলোক কুমার মুখ্যমন্ত্রীর কাছে লেখা চিঠিতে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করেছেন যে, এই ঘটনার নামকরণ এবং সময় অত্যন্ত উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ভিএইচপি মনে করে, অযোধ্যা বিবাদের সঙ্গে যুক্ত মুঘল শাসক বাবরের নামে মসজিদের নামকরণ কোনও 'নির্দোষ কাজ’ নয়, বরং এটি একটি 'পরিকল্পিত রাজনৈতিক বার্তা’।
অলোক কুমার তাঁর চিঠিতে লিখেছেন, "আমাদের ধারণায়, বাবরের নামে একটি মসজিদের প্রস্তাবিত নামকরণ একটি সুচিন্তিত প্রতীকী কাজ। এটি হিন্দুদের কাছে চরম আপত্তিকর এবং সরাসরি ধর্মীয় শত্রুতা ছড়ানোর প্রবণতা রয়েছে।"
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লেখা চিঠিতে বাবরের "জুলুমের" কথা স্মরণ করিয়ে অলোক কুমার আরও বলেন, "হিন্দুদের মধ্যে বাবরকে ব্যাপকভাবে কেবল একজন ঐতিহাসিক শাসক হিসেবে নয়, বরং নিষ্ঠুরতা, ধর্মীয় নিপীড়ন এবং হিন্দু ধর্মীয় স্থান ধ্বংসের সঙ্গে যুক্ত একজন বিদেশি আক্রমণকারী হিসাবে দেখা হয়। বিশেষভাবে অযোধ্যায় তাঁর শাসনকালে নির্মিত মসজিদের ঘটনাটি এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ।"
এই বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের তারিখকে ঘিরে—ডিসেম্বর ৬। ১৯৯২ সালে অযোধ্যায় বাবরি কাঠামো ভাঙার বার্ষিকী দিনেই এই অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। ভিএইচপি যুক্তি দেয় যে, এই বিশেষ তারিখ বেছে নেওয়া কেবল একটি ধর্মীয় কার্যকলাপ নয়, বরং এর পিছনে একটি রাজনৈতিক উস্কানির উদ্দেশ্য রয়েছে।
রাজনৈতিক জটিলতা আরও বাড়িয়ে, এই ঘটনাটি ঘটেছে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) থেকে হুমায়ুন কবীরের সাসপেন্ড হওয়ার মাত্র দু'দিন পর। কবীরের এই রাজনৈতিক পদক্ষেপ ইঙ্গিত দেয় যে তিনি শীঘ্রই একটি নতুন রাজনৈতিক সংগঠন তৈরি করে স্বাধীন অবস্থান ঘোষণা করতে চলেছেন।
ভিএইচপি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তারা সতর্ক করেছে যে, পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হলে রাজ্যে সাম্প্রদায়িক বিবাদকে আরও উস্কে দিতে পারে, যা অনুরূপ কাজকে উৎসাহিত করবে। সংগঠনটির মত, এটি ধর্মীয় অনুশীলনের বিরোধিতার বিষয় নয়, বরং প্রতীকী পদক্ষেপগুলো রোধ করা, যা তাদের মতে, ভারতের অন্যতম বিতর্কিত ধর্মীয় বিবাদের পুরোনো ক্ষতস্থান পুনরায় খুলে দিচ্ছে।
এখনও পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ সরকার ভিএইচপির চিঠির কোনও জনসমক্ষে জবাব দেয়নি, এবং ভিএইচপির চিঠির জবাবে কোনও এফআইআর দায়ের হয়েছে কিনা, সে সম্পর্কেও কোনও নিশ্চিত খবর নেই। এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করে যে, অযোধ্যা-যুগের প্রতীকগুলো কীভাবে উত্তরপ্রদেশের বাইরেও সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলছে। পশ্চিমবঙ্গ এখন এই বিতর্কের সর্বশেষ ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে, যেখানে নতুন বছরের শুরুতেই বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে।












Click it and Unblock the Notifications