সংগঠনের সর্বক্ষেত্রে বিচ্যুতি! সরে গিয়েছে সমর্থনের প্রধান ভিত্তি, স্বীকার সিপিএম-এর পার্টি চিঠিতে
সংগঠনের সর্বক্ষেত্রে বিচ্যুতি! সরে গিয়েছে সমর্থনের প্রধান ভিত্তি, স্বীকার সিপিএম-এর পার্টি চিঠিতে
স্বাধীনতার পরে ১৯৫২ সালে প্রথম নির্বাচনে রাজ্যে বামেদের আসন ২৬ থেকে ৭০ বছর পরে শূন্য। পর্যালোচনার পরে সিপিএম স্বীকার করে নিয়েছে শ্রেণিগত অবস্থান থেকে বিচ্যুতি ঘটেছে দলের। সর্বক্ষেত্রেই এই বিচ্যুতি। যার জেরেই এই পরিস্থিতি। প্রধান ভিতই দল থেকে দূরে সরে গিয়েছে বলেও স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে দুনম্বর পার্টি চিঠিতে। বিধানসভা নির্বাচনে পর্যুদস্ত হওয়ার কারণ অনুসন্ধানের পরে তা কেন্দ্রীয় কমিটিতে গৃহীত হয়।

সমাজে শ্রেণিগত পরিবর্তন হয়েছে
কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে পর্যালোচনায় বলা হয়েছে নয়া উদারবাদী সংস্কারে আগ্রাসী আক্রমণ ভারতীয় সমাজের ওপরে প্রভাব ফেলেছে। সমাজে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বদল হয়েছে। যা চিহ্নিত করতে সিপিএম-এর কেন্দ্রীয় কমিটির তরফে একাধিক কমিশন গঠন করা হয়েছিল বলেও জানানো হয়েছে। সেইসব রিপোর্ট নিয়ে সম্প্রতি হয়ে যাওয়া কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে আলোচনা করা হয়েছে।

কারণ অনুসন্ধান রাজ্য কমিটির
অন্য রাজ্য কমিটিগুলির মতো পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য কমিটিও দলের সমর্থনের ভিত্তি কমার কারণ অনুসন্ধান করেছে। সমাজে ঘটে যাওয়া পরিবর্তন এবং তার জন্য দলের সংগঠন, স্লোগান, কৌশল হওয়া উচিত হয় তা হয়নি। সেই কারণে একটা সময়ে দলের সমর্থনের প্রধান ভিত গ্রামীণ জনগণ বিশেষ করে গ্রামের গরিম মানুষ দূরে সরে গিয়েছে। নির্বাচনের ফলাফলেই বোঝা যাচ্ছে গ্রামের গরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষগুলো আর দলের পিছনে নেই। পার্টি চিঠিতে বলা হয়েছে, দুর্বলতা নিয়ে অবিলম্বে চিন্তা করতে হবে। রাজনৈতিক এবং সাংগঠনিক পরিবর্তনের মাধ্যমে এইসব মানুষগুলোর জন্য অভিমুখ গড়ে তুলতে হবে বলেও বলা হয়েছে পার্টি চিঠিতে।

স্লোগানেই বিচ্ছিন্ন মানুষ
এবারের নির্বাচনেও সিপিএম প্রচার করেছিল কৃষি আমাদের ভিত্তি, শিল্প আমাদের ভবিষ্যত, যা ছিল ২০০৬ সালের স্লোগান। কিন্তু সিঙ্গুর, নন্দীগ্রামের জেরে সেই স্লোগান ধাক্কা খেয়েছিল। সেই স্লোগান এবার ব্যবহার করা প্রসঙ্গে পার্টি চিঠিতে বলা হয়েছে, বামফ্রন্ট সরকারের ভূমি সংস্কার এ অন্য জনকল্যাণমুখী নীতির কারণে সংখ্যালঘু, আদিবাসী ও অন্য প্রান্তিক অংশের মানুষের সমর্থন পাওয়া যাবে। নন্দীগ্রামের সময়ের ঘটনাবলীর সময়ে কৃষি আমাদের ভিত্তি ও শিল্প আমাদের ভবিষ্যত স্লোগান মানুষকে জমি অধিগ্রহণের সময়কালের কথাই মনে করিয়ে দিয়েছে। যার জেরে গ্রামীণ মানুষ বামফ্রন্ট থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে পার্টি চিঠিতে।

কৃষক সমাজের সঙ্গে বিচ্ছিন্নতা গভীরতর
পার্টি চিঠিতে বলা হয়েছে, বর্তমান সময়ের গভীর কৃষিসংকট, কৃষি আইন বাতিল, ন্যূনতম সহায়কমূল্য প্রাপ্তির ন্যায্য অধিকার, কৃষকদের জমি অধিগ্রহণ বিশেষ করে জমির মাফিয়াদের হিংস্র আক্রমণের বিরুদ্ধে যে কৃষক আন্দোলন চলছে, সেই পরিস্থিতিতে জমি অধিগ্রহণের যে কোনও কথা কৃষক সমাজের সঙ্গে দলের বিচ্ছিন্নতাকে গভীরতর করেছে বলে স্বীকার করে নেওয়া হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications