সহজ আসনে কোনও দলবদলুকে ঠাঁই দেবে না বিজেপি

সহজ আসনে কোনও দলবদলুকে ঠাঁই দেবে না বিজেপি

এমনটাই তো হওয়া কথা ছিল। হ্যাঁ, এমনটাই হওয়ার কথা ছিল। দলবদলুদের সম্পর্কে বিজেপির সিদ্ধান্ত তাদের নিজেদেরই ক্ষমতা ও যোগ্যতা প্রমাণ করে দলে নিজের গুরুত্ব বাড়াতে হবে। সেজন্য দলবদলু সবাইকেই যে প্রার্থী করা হবে তা কিন্তু নয়। কিছু লোককে প্রার্থী করা হবে ঠিকই, তবে যেসব আসনে বিজেপি তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী সেসব আসলে তাদের ঠাঁই হবে না। যেসব আসনে জেতার সম্ভাবনা প্রায় নেই অথবা খুবই ক্ষীণ, সেই সব আসনেই লড়ে জিতে আসতে হবে এই সব দলবদলুদের। ফলে দলে নেওয়ার সময় যে রকম গুরুত্ব দিয়ে তাদের নেওয়া হয়েছে ভোটের লড়াইয়ে তাদের সেই গুরুত্ব দিচ্ছে না বিজেপি। গত বিধানসভা নির্বাচনে বহু আসনে দলের লোকদের প্রার্থী না করে বাইরে থেকে লোক নিয়ে গিয়ে প্রার্থী করা ভালোভাবে নেয়নি দলীয় সদস্যরা। অন্তর্ঘাত করে নিজেরাই হারিয়ে দিয়েছে দলের প্রার্থীকে। মারধর করে ভোট করতে দেওয়া হয়নি তাকে। রূপা গাঙ্গুলিকেও হেনস্থা হতে হয়েছিল। সেই আসনে তৃণমূল ড্যাং ড্যাং করে জিতে গিয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখেই এবার আগেভাগে এই রকম সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে তাদের।

আদি নব অতিনব্য

আদি নব অতিনব্য

বিজেপি কর্মী সমর্থকদের এখন তিনটে ভাগ। প্রথম দল আরএসএস করা আদি বিজেপি। যারা দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে এই পার্টিটা করে আসছে। তাদের সংখ্যা অবশ্য এই মুহূর্তে খুব বিরাট কিছু নয়। দ্বিতীয় সারিতে আছে যারা, তারা নব বিজেপি। ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদির উত্থানের পর দলের পতাকাতলে এসে জমায়েত হয়েছে। তারা এসেছে কিছুটা ধর্মীয় আবেগ আর কিছুটা রাজনীতি করে কামিয়ে নেওয়ার আশায়। তাদের জন্যই পার্টির কিছুটা বাড়বাড়ন্ত হয়েছে। আর ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে বামপন্থী ভোটারদের সৌজন্যে এ রাজ্যে হঠাৎ কিছু আসন পেয়ে যায় বিজেপি। তাতে অনেকেরই মনে হয় এ রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলেও আসতে পারে। তাই ভেবে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা এই দলে ভিড়তে শুরু করে। অন্যান্য দল থেকে কিছু হলেও সিংহভাগই তৃণমূলের। দলে তাদের নাকি অস্তিত্ব বিপন্ন। পায়ের তলায় একটা শক্ত রাজনৈতিক জমি দরকার। কংগ্রেস এবং বামেরা নিজেরাই এখন হেরো পার্টি। বিজেপিই তাদের কাছে আলোর রেখা। পার্টির সংগঠনও এখন তেমন জোরদার নয়। অতএব ওই দলে গেলে সিট বাঁধা। সবটা এত সহজ ব্যাপার নয়। অনেকে এমনটা যে হবে আঁচ করতে পেরে আর ও পথে পা মাড়ায়নি। অনেকে গিয়েও ফিরে এসেছে। আর যারা থেকে গিয়েছে জানি না তাদের শেষ পর্যন্ত পস্তাতে হবে কিনা। বিজেপি তো ছলে বলে কৌশলে যুদ্ধ জেতার আশায় দল ভাঙানোর খেলায় নেমেছে।

পরীক্ষা দিয়ে যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে

পরীক্ষা দিয়ে যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে

ঢাক-ঢোল পিটিয়ে ব্যাপক গুরুত্ব দিয়ে অনেককেই বিজেপিতে নেওয়া হল। ব্যস ওই পর্যন্তই। তাদের যে তারপরও খুব গুরুত্ব দেওয়া হবে এমনটা কিন্তু হয়নি হচ্ছে না। তৃণমূলের মহা হেভিওয়েট মুকুল রায়কে যখন দলে নেওয়া হয়েছিল তখন তখন এমন একটা ভাব দেখানো হয়েছিল যে মুকুল রায়কে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে এ রাজ্যে ক্ষমতা দখল করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। মুখে অনেক কিছু বলা হলেও কাজে তেমন কিছু করা হয়নি। দলেও কোন গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়নি। এতদিন কেটে যাওয়ার পর অল্প কিছুদিন আগে তাঁকে দলের অনেকের মধ্যে একজন সহ সভাপতি করা হয়েছে। দু'বছর ধরে দলে পড়ে থাকলেও ভোটের মুখে এসে শোভন চ্যাটার্জিকে কিছুটা মাঠে নামানো হয়েছে। আর হইহই করে দলে নেওয়া হয়েছিল শুভেন্দুকে। মনে হয়েছিল মমতা ব্যানার্জিকে টক্কর দেওয়ার মতো একটা লোক পেয়ে গেছে তারা। কিন্তু কদিন যেতে না যেতেই তারও গুরুত্ব হ্রাস হয়েছে। চার্টার্ড প্লেন পাঠিয়ে রাজীব ব্যানার্জি, প্রবীর ঘোষাল, রথীন চক্রবর্তী, বৈশালী ডালমিয়াকে তুলে নিয়ে গিয়ে দলে যোগ দেওয়ানো হয়েছিল। কিন্তু কোথায় তাঁরা। আশার ছলনে ভুলি যারা দল ভেঙে বিজেপিতে গিয়ে ভিড়েছিল তাদের অনেকেরই ত্রাহি মধুসূদন অবস্থা বলে শুনতে পাচ্ছি। আমও গেল ছালাও গেল। বিজেপির সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের এবার কঠিন আসনে জিতে আসতে হবে।

৭৫ থেকে ৮০টা আসন পেতে পারে বিজেপি

৭৫ থেকে ৮০টা আসন পেতে পারে বিজেপি

আমার এখনও ধারণা তৃণমূল এবারের নির্বাচনে দু'শোর বেশি আসন পেতেই পারে। অবস্থা খুব খারাপ হলে ১৭০ থেকে ১৮০ অবশ্যই। বাম কংগ্রেস জোট খুব বেশি হলে ৪৫ থেকে ৫০টা সিট পাবে। বিজেপি খুব বেশি হলে ৭০ থেকে ৮০টা সিট পেতে পারে। ওদের নিজেদের ধারণা সেটাই। ৭৫ থেকে ৮০টা আসনে ওদের সম্ভাবনা আছে বলে মনে করে। লড়ার জন্য সহজ আসন। সেই আসনগুলি তারা নিজেদের নিষ্ঠাশীল বিশ্বাসী এবং দীর্ঘদিনের লড়াকু কর্মীদের দাঁড় করাতে চায়। দল বদলুদের লড়তে হবে সেই আসনগুলিতে, যে আসনগুলিকে বিজেপি সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে মনে করে। অতএব পরীক্ষা দাও, নিজের ক্ষমতায় আসনটা বের করে নিয়ে এসো।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+