বাংলায় হারের কারণ অনুসন্ধান অমিত শাহের, উঠে আসছে যেসব বিষয়
বাংলায় হারের কারণ অনুসন্ধান অমিত শাহের, উঠে আসছে যেসব বিষয়
বলেছিলেন এবার ২০০ পার। কিন্তু তার ধারে কাছেও পৌঁছতে পারেনি বিজেপি (bjp)। এই ধাক্কাটা অমিত শাহের (amit shah) কাছেও একটা বড় ধাক্কা। তবে বিষয়টি ফেলে রাখার মতো নয়। তাই হারের কারণ খুঁজে বের করতে নেমে পড়েছেন তিনি। অমিত শাহের রাজনৈতিক দফতর থেকে কর্মীরা বিজেপির নিচুতলার কর্মীদের ফোন করে সরাসরি হারের কারণ অনুসন্ধান শুরু করেছেন।

প্রথমসারির নেতাদের হারের কারণ নিয়ে খোঁজ
সূত্রের খবর অনুযায়ী, অমিত শাহের তরফ থেকে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে কেন বিজেপির প্রথমসারির যেমন বাবুল সুপ্রিয়, লকেট চট্টোপাধ্যায়, স্বপন দাশগুপ্ত, অনির্বান গাঙ্গুলির মতো প্রার্থীরা হেরে গেলেন। এব্যাপারে বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

সাংগঠনিত দুর্বলতা, আত্মতুষ্টি
সূত্রের আরও খবর, শুরুতেই হারের কারণ হিসেবে বিজেপির সাংগঠনিক দুর্বলতার কথা উঠে এসেছে। পাশাপাশি বিজেপির রাজ্য তথা জেলার নেতাদের আত্মতুষ্টির কথাও উঠে এসেছে, নিচুতলার কর্মীদের সঙ্গে কথোপকথনে। এছাড়াও নিজেদের শক্তির থেকেও কেন্দ্রের ওপরেই বেশি নির্ভর করেছিলেন বিজেপির রাজ্য নেতারা। জানা গিয়েছে, অনেক জায়গায় বুথস্তরের সংগঠন এতটাই খারাপ ছিল যে, বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটার স্লিপটাও বিলি করতে পারেনি বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব।

আদি-নব্য দ্বন্দ্ব
এর পাশাপাশি আদি-নব্যের দ্বন্দ্বের কথাও নাকি উঠে এসেছে হারের কারণ অনুসন্ধানে। খুব তাড়াতাড়ি অনেক কম সময়ে তৃণমূলের অনেক নেতা বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। সেক্ষেত্রে এইসব নেতাদের হাতে সংগঠনের রাশ ছেড়ে দিতে চাননি অনেক পুরনো নেতা। তবে যাঁরা গত কয়েক মাসে তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন, তাঁদের কাছ থেকে কারণ জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।

দেওয়া যায়নি বুথ এজেন্ট, কাউন্টিং এজেন্ট
সূত্রের আরও খবর ভোটের দিন অনেক জায়গাতেই শুধু কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তার ওপরে ভরসা করেছিল বিজপি। কেননা পর্যাপ্ত বুথ এজেন্ট পাওয়া যায়নি। একজনকে পাওয়া গেলেও তার রিলিভার পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে গণনার দিনও সঠিক ভাবে কাউন্টিং এজেন্ট পায়নি গেরুয়া শিবির। যার সুযোগ নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ফলে যেসব জায়গায় তৃণমূলের জেতার কথাই নয়, সেসব জায়গাও তাদের দখলে চলে গিয়েছে। পাশাপাশি কিছু জায়গায় গণনায় হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সময় বিজেপির এজেন্টদের ভয় দেখিয়ে বের করে দেওয়ার অভিযোগ পেয়েছে। পরে দেখা গিয়েছে এইসব কেন্দ্র তৃণমূল অনেক বেশি ব্যবধানে জিতে গিয়েছে।

রিপোর্ট নেওয়া হচ্ছে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের থেকেও
শুধু নিচুর তলার কর্মীদের থেকেই নয়, আলাদা করে বিধানসভার দায়িত্বে থাকা নেতাদের থেকেও কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে। স্থানীয় নেতাদের পাশাপাশি বাইরের রাজ্যের নেতাদেরও বিধানসভা ভিত্তিক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়েও খোঁজ
ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়েও খোঁজ খবর করছেন অমিত শাহ। কেননা বিজেপির অভিযোগ ভোটের ফল ঘোষণার দিন থেকে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় আক্রান্ত নেতা থেকে কর্মী সবাই। বিভিন্ন জায়গায় প্রার্থীর বাড়িতেও হামলা হয়েছে। যাদবপুরের প্রার্থী রিঙ্কু নস্করের বাড়িতে লুট করা হয়েছে। টাকা-পয়সা ছাড়াও ফ্যানও খুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন হেরে যাওয়া প্রার্থী। এইসব হামলার কারণ কী তাও জানতে চাওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।












Click it and Unblock the Notifications