'খেলা' ঘোরাতে কি শুরু করেছেন আব্বাস! মিমকে সঙ্গে রেখে কোন অঙ্কে বাম-কংগ্রেসকে পাশে পেতে চান পীরজাদা
'খেলা' ঘোরাতে শুরু করেছেন আব্বাস! মিমের সঙ্গ ধরেই কোন শর্তে বাম-কংগ্রেসকে পাশে পেতে চান পীরজাদা
বিহার ভোটের ফলাফল প্রকাশের পরই দৃপ্ত কণ্ঠে অধীর চৌধুরী বলেছিলেন, আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল এআইএমআইএম মূলত বাহিরের 'ভোট কাটওয়া'। পাল্টা কংগ্রেসকে তোপ দিতেও ছাড়েননি আসাদ। ফ্ল্যাশব্যাকের সেই পর্বের পর এবার আসা যাক 'বর্তমান' এ। রাজ্যরাজনীতির ঘূর্ণিপাকে এবার সেই আসাদের সঙ্গেই অধীরকে এক শিবিরে রাখার হাতছানি আসতে শুরু করেছে। সৌজন্যে ফুরফুরা-রাজনীতি। 'আনন্দবাজার'-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমনই তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

আব্বাস শিবির এড়িয়ে যাচ্ছে কংগ্রেসকে!
জোটের জট ছাড়াতে যখন বাম ও কংগ্রেস মুখোমুখি বসে রণনীতি ঠিক করতে যাবে, তখনই ফের একবার চাগাড় দিচ্ছে আব্বাস ফ্যাক্টর। 'আনন্দবাজার ডিজিটাল' এর খবর অনুযায়ী , ফুরফুরা শরিফে মঙ্গলবার আব্বাস সিদ্দিকির সঙ্গে বৈঠক করতে যান কংগ্রেসের পক্ষ থেকে আবদুল মান্নান। তবে সেই সময় ভাইজান ফুরফুরায় ছিলেন না। কৌশলে তিনি মান্নানকে এড়িয়ে গিয়েছেন বলে রাজনৈতিক সূত্রের খবর। আর সেই জায়গা থেকে শুরু হয়েছে নতুন সমীকরণ নিয়ে জল্পনা।

'ভোট কাটওয়া' ফ্যাক্টর ও বাম কংগ্রেস
বাংলার ভোট রাজনীতির নিরিখে আব্বাসকে সঙ্গে পেতে চেয়েছে বাম ও কংগ্রেস শিবির। আব্বাসকে নিয়ে বরাবরই গড়রাজি হয়নি বামেরা। তবে কংগ্রেসের হাইকমান্ডের থেকে গ্রিন সিগন্যাল আসার অক্ষেপায় ছিলেন অধীররা। আর তা আসতেই আব্বাসের সঙ্গে ধাপে ধাপে বৈঠক করেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী। এপর্যন্ত ঘটনার গতি ঠিকই ছিল। কিন্তু বাধ সাধতে শুরু করলেন খোদ আব্বাস।

মিমকে সঙ্গে নিয়ে চলতে চান আব্বাস!
আব্বাস জানিয়েছেন, মিমকে সঙ্গে নিয়েই তিনি বাম কংগ্রেসের সঙ্গে কৌশলগত চ্যালেঞ্জের পথে হাঁটতে চান। এমনই প্রতিবেদন রয়েছে 'আনন্দবাজার ডিজিটাল' এ। এদিকে, হায়দরাবাদের এআইএমআইএম কার্যত বাম ও কংগ্রেস দুই পক্ষেরই চক্ষুশূল। সেই জায়গা থেকে অনেকেই মনে করছেন রাজ্যরাজনীতিতে জোটের খেলা সম্ভবত ঘুরিয়ে দিতে চলেছেন একা আব্বাস।

বিজেপির বি টিম তকমা, মিম ও আইএসএফ
বিহার ভোট মিটতেই বিজেপি বিরোধী শিবির মিমকে বিজেপির বি টিম বলে আখ্যা দেয়। এদিকে বাংলার ভোটে বারবার বঙ্গ বিজেপি প্রধান দিলীপ ঘোষের মুখে মিমের বিপক্ষে গিয়ে কোনও বক্তব্য উঠে আসেনি। এমন এক পরিস্থিতিতে যে অধীর চৌধুরী মিমকে ভোট কাটওয়া আখ্যা দিয়েছিলেন, তাঁর সঙ্গেই আসাদকে এক শিবিরে থাকতে হলে, তা সোনিয়া শিবিরের পক্ষে অস্বস্তি হবে। অন্যদিকে বামেরাও মিমকে চাইছে না সাম্প্রদায়িকতা ও মেরপকরণের রাজনীতির প্রেক্ষাপটে। এদিকে, আব্বাস সিদ্দিকির ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্টের চেয়ারম্যান নৌসাদ বলছেন, 'ভারতীয় রাজনীতির অতীত ইতিহাসে দেখা যাবে , কংগ্রেসও এমন দলের সঙ্গ জোট করেছে যাদের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করার অভিযোগ ছিল। এখন তো মহারাষ্ট্রে কংগ্রেস আবার শিবসেনার হাত ধরে সরকার গড়েছে।'

কেরল ফ্যাক্টর, মেরুকরণের রাজনীতি ও বাম ভোট
মূলত ধর্মের বিভেদে ভোট, সাম্প্রদায়িকতা, মেরপকরণের রাজনীতির বিরুদ্দে সরব হয়ে বামেরা একুশের ভোটে সরব হতে শুরু করেছে। এদিকে বাংলায় বিধানসভা ভোটে বামেদের স্টান্স যখন মেরুকরণের ভোটব্যাঙ্ক বিরোধী, তখন বাম দুর্গ কেরলে সাম্প্রদায়িক এক দলের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছে কেরল সিপিএম। এদিকে, কংগ্রেসের সঙঅগে মুসলিম লিগের সমাঝোতা কেরলে নজর কাড়ছে। সেই জায়গা থেকে কেরলে মুসলিমদের একটা অংশ আবার মিমকে ভোটের অপশান হিসাবে পেতে চাওয়ার ডাক দিয়েছে। এমন এক জায়গা থেকে বামেদের খোঁচা দিয়ে আব্বাস সিদ্দিকির ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের চেয়ারম্যান নৌসাদ সিদ্দিকি বলেছেন, ' সিপিএমের সঙ্গেও তো অন্য রাজ্যে মুসলিম লিগের জোট রয়েছে।'

'বাম কংগ্রেস, আব্বাসের জোট বাঁধলে তৃণমূল তিন নম্বরে'
এদিকে আব্বাসের সঙ্গে কংগ্রেস ও বামেদের জোট নিয়ে মুখ খুলেছেন বিজেপি নেতা অর্জুন সিং। তিনি বলেছেন, বামেদের সঙ্গে কংগ্রেসের জোটের মধ্যে যদি আব্বাসরা যোগ দেন তাহলে তৃণমূল তিন নম্বরে নেমে যাবে। উল্লেখ্য, বাংলায় ২৪.৬ মিলিয়নের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ককে নিশানা করে রাজ্য ২০২১ এ তোলপাড়। যে ভোটব্যাহ্ক মমতাকে ২০১৯ এ খানিকটা স্বস্তি লোকসভা ভোটে দিয়েছে, তারা কি এবার রাজীতির ঘূর্ণাবর্তে গেরুয়া শিবিরের ঘর ভরাবে? এমন তর্ক বিতর্ক ও আলোচনার মধ্যেই বাম কংগ্রেস জোটের মধ্যে আব্বাস উদ্দিন সিদ্দিকি 'খেলা' সত্যিই ঘুরিয়ে দিতে পারেন কি না, সেদিকে তাকিয়ে রাজ্য রাজনীতি।
{quiz_509}












Click it and Unblock the Notifications