পাঁচ আসনে এখনও অধরা রফাসূত্র, প্রার্থী তালিকা প্রকাশেও সংযুক্ত মোর্চা নিয়ে প্রশ্নচিহ্ন
প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা ঘোষণাতেই কোথায় যেন ছন্নছাড়া ভাবটা উঠে এল৷ এবারের ভোট নবান্ন দখলের লড়াই৷ কিন্তু গোটা যুদ্ধক্ষেত্রটা যেন পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম৷ বাংলার রাজনীতির হেভিওয়েট তৃণমূল কংগ্রেসের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লড়বেন নন্দীগ্রাম থেকে৷ বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীও হয়ত নন্দীগ্রাম থেকে দাঁড়াবেন৷ আর সেখান থেকেই সংযুক্ত মোর্চা নন্দীগ্রামে কোনও প্রার্থী ঘোষণা করতে পারল না৷ এদিন নন্দীগ্রাম ছাড়াও ছাড়া দাসপুর, পিংলা, কাশীপুর, এগরা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

কংগ্রেস-বামেদের জোট আজ কোনও রূপোলি নায়ককে সামনে আনল না
যদিও বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুর দাবি, তাঁর দুদফায় প্রার্থী ঘোষণা করবেন৷ কিন্তু আজ যখন তৃণমূল নন্দীগ্রামকে সামনে রেখে লড়াইয়ের সুরকে সপ্তমে তুলল তখনই বামেদের এই সিদ্ধান্ত কেমন যেন ম্রিয়মান করে দিল৷ আজ তৃণমূল প্রার্থী ঘোষণার সময় একাধিক রূপোলি মুখকে সামনে আনল৷ টালিগঞ্জের একঝাঁক তারকাকে প্রার্থী করল তারা৷ আর তখনই কংগ্রেস-বামেদের জোট কোনও রূপোলি নায়ককে সামনে আনল না বা আনতে পারল না বা চাইল না৷

মোর্চার ভারসাম্যহীনতা নিয়ে প্রশ্ন
আবার প্রার্থী ঘোষণার সময় বিমান বসুর একটি মন্তব্য নতুন করে সংযুক্ত মোর্চার ভারসাম্যহীনতা নিয়ে প্রশ্নও তুলে দিল৷ বিমান বসু বললেন, এখনও আলোচনার অনেক পথ বাকি রয়েছে৷ অর্থাৎ, কোথায় যেন একটা তাড়াহুড়ো করার ছবিটা ধরা পড়ল৷ এদিন প্রথম প্রার্থী তালিকা ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন না ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের আব্বাস সিদ্দিকি৷ ভাইজানের অনুপস্থিতিতে দলের প্রতিনিধিত্ব করলেন শিমূল সরেন৷

ছিলেন না প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী
এদিন প্রার্থী ঘোষণার সময় উপস্থিত ছিলেন বিমান বসু, নরেন চট্টোপাধ্যায়৷ কংগ্রেসের প্রদীপ ভট্টাচার্য৷ কিন্তু ছিলেন না প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী৷ তেমনই ছিলেন না আব্বাস সিদ্দিকীও৷ যে অধীর এবং আব্বাসের স্নায়ুযুদ্ধ ২৮-এর ব্রিগেডে সংযুক্ত মোর্চার সাফল্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছিল৷ ব্রিগেড শেষের পর আব্বাস সরাসরি আঙুল তুলেছিল প্রদেশ কংগ্রেসের দিকেই৷ রাহুল, সোনিয়াদের সদিচ্ছার কথা জানালেও আব্বাসের কটাক্ষের মুখে পড়তে হয়েছিল অধীরদের৷

ধর্মীয় সংগঠনের সঙ্গে কথা বলতে চান না অধীর!
অন্যদিকে অধীর চৌধুরীও দাবি করেছিলেন কোনও ধর্মীয় সংগঠনের সঙ্গে তিনি কথা বলতে চান না৷ এই বিষয়টির দায়িত্ব দেওয়া ছিল আবদুল মান্নানকে৷ এদিনের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার সময় অনুপস্থিত সেই আবদুল মান্নানও৷ অর্থাৎ সবাইকে নিয়ে চলার কথা বললেও এই সংযুক্ত মোর্চা কতটা সাফল্য পাবে সেই প্রশ্ন প্রথম প্রার্থী তালিকা ঘোষণার দিনই স্পষ্ট হয়ে গেল৷

প্রার্থী তালিকায় সেই অর্থে কোনও চমক ছিল না
শুধু তৃণমূলের মতো প্রার্থী তালিকায় চমক দেখানো দূরের কথা, তরুণ মুখকেও সেভাবে আনতে পারলেন না বাম নেতারা৷ যে সুশান্ত ঘোষের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ছিল সেই সুশান্ত ঘোষ এবং দেবলীনা হেমব্রম ছাড়া আজকের প্রার্থী তালিকায় সংবাদমাধ্যমে সেভাবে চর্চিত মুখ আর কেউ নেই৷ কংগ্রেস কোনও প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করল না৷ পুরোটাই করবে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ৷ নেই আব্বাসের তালিকাও৷ কিন্তু নামে এটি যুক্ত মোর্চার প্রার্থী তালিকা৷ আর বাস্তবে শুধুই বামেদের প্রার্থী তালিকা৷












Click it and Unblock the Notifications