গুরুং মোচড়ে বদলেছে পাহাড়ি হাওয়া! উত্তরের হারানো জমি কি ফিরে পাবেন মমতা?
কয়েকদিন আগেই পূর্ণাঙ্গ প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। তাতে পাহাড়ের তিনটি আসন গোর্খা জনমুক্তি মোর্চাকে ছাড়ার ঘোষণা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। লোকসভায় হাতছাড়া হওয়া পাহাড় বিজেপি থেকে ছিনিয়ে নিতেই এই অঙ্ক কষেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর তার জন্য বিমল গুরুঙের উপর থেকে সব মামলা প্রত্যাহারের প্রক্রিয়াও শুরু করে রাজ্য। আর এই গুরুং ফ্যাক্টরকে কাজে লাগিয়েই বাজিমাত করতে চাইছে তৃণমূল।

গুরুং ফ্যাক্টর ঘওরাতে পারে রাজনৈতিক সমীকরণ
লোকসভা নির্বাচনে বিমল গুরুং পদ্মে ঝুঁকলেও অনিথ থাপা ছিলেন জোড়া ফুলের সমর্থনেই। তাতেও অবশ্য পাহাড়ে জয় অধরাই থেকে গিয়েছিল তৃণমূলের। দার্জিলিং লোকসভা আসনের অন্তর্গত সবকটি আশনেই বিজেপির প্রার্থী রাজু বিস্ত এগিয়ে ছিল বহু ভোটে। এবার সেই গুরুং মমতাপন্থী। আর তাই পাহাড়ের তিন আসন ছেড়ে দিয়ে তৃণমূল গোর্খা অধ্যুষিত আরও বেশ কয়েকটি আসনে তাদের সমর্থন চাইছে। যা ঘুরিয়ে দিতে পারে উত্তর বঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রকে।

বিমল গুরুং বিজেপির বিরোধিতা করবেন
এই আবহে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে পাহাড়ে বিমল গুরুং বিজেপির বিরোধিতা করবেন। ফলে সেখানে দার্জিলিং লোকসভা আসনের সাতটি আসনের মধ্যে দু'টির বেশিতে জয় পাওয়া যাবে না বলেই মনে করছে বিজেপি। আলিপুরদুয়ারের কালচিনি বিধানসভা এলাকাতেও গুরুংয়ের প্রভাব কাজ করবে। তবে বিজেপির আশা, জলপাইগুড়ির নাগরাকাটায় গুরুং-প্রভাব সে ভাবে কাজ করবে না। সদ্য নাগরাকাটার তৃণমূল বিধায়ক শুক্রা মুন্ডা বিজেপিতে যোগ দেওয়ায় ওই আসনটি নিয়ে আশাবাদী বিজেপি।

গুরুঙের বিরুদ্ধে ইউএপিএ ধারাতে মামলা
২০১৭ সালে পাহাড়ে বিমল গুরুঙের নেতৃত্বে আন্দোলন শুরু হলে সরকারি দফতরে অগ্নিসংযোগ, পুলিশের উপর হামলা, গাড়ি ভাঙচুর, পুলিশকর্মীর হত্যা, দার্জিলিং ও কালিম্পঙের নানা জায়গা বিস্ফোরণ ঘটানো-সহ ৭০টি জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা করা হয়। পাশাপাশি ইউএপিএ ধারাতেও মামলা দায়ের করে রাজ্য সরকার।

একাধিক গোর্খার নেতা পলাতক ছিলেন
সেই সময় থেকেই বিমল গুরুং সহ একাধিক গোর্খার নেতা পলাতক ছিলেন৷ তারপর ২০১৯ লোকসভা ভোটের আগে দিল্লিতে প্রকাশ্যে আসেন বিমল গুরুং৷ তারপর আবারও অন্তরালে চলে যান গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার নেতা৷ এর ১ বছরের বেশি সময় পর গতবছর অক্টোবর মাসে কলকাতায় এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের প্রতি সমর্থনের কথা ঘোষণা করেন বিমল গুরুং।

'কেন্দ্রের বিজেপি সরকার কথা রাখেনি'
গুরুং জনসমক্ষে এসেই বলেছিলেন, কেন্দ্রের বিজেপি সরকার কথা রাখেনি। এই অবস্থায় তাঁরা ২০২১ এর নির্বাচনে তৃণমূল নেত্রীকে জয়ী করার জন্য কাজ করবেন। তারপর থেকেই মনে করা হচ্ছিল, ইউএপিএ সহ রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা বিমল গুরুং এবং তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে ধাপে ধাপে প্রত্যাহার করতে পারে রাজ্য সরকার। সেই সম্ভাবনাকে সত্যি করতে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে রাজ্য প্রশাসন।












Click it and Unblock the Notifications