WB Bye-Elections 2024: দক্ষিণবঙ্গে চারে চার! ভোট বাড়াল তৃণমূল, ক্ষয়িষ্ণু বিজেপি, হাড়োয়ায় রেকর্ড
WB Bye-Elections 2024: প্রত্যাশিতভাবেই রাজ্যের উপনির্বাচনে ছয়ে ছয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের। দক্ষিণবঙ্গের চারটি আসনও ধরে রাখল শাসক দল।
হাড়োয়ায় জয়ের ব্যবধান সবচেয়ে বেশি। প্রতিটি আসনেই ভোট বেড়েছে তৃণমূলের। ছাব্বিশে রাজ্যে ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন দেখা বিজেপির ভোট কমল সর্বত্র। একনজরে দেখে নেওয়া যাক চার আসনে কেমন ফল:

নৈহাটি
নৈহাটি বিধানসভা উপনির্বাচনে তৃণমূলের সনৎ দে জয়লাভ করলেন ৭৮৭৭২ ভোটে। তাঁর জয়ের ব্যবধান ৪৯২৭৭। বিজেপির রূপক মিত্র পেলেন ২৯,৪৯৫টি ভোট। সিপিআই (এম-এল) লিবারেশনের দেবজ্যোতি মজুমদার ৭৫৯৩টি এবং কংগ্রেসের পরেশনাথ সরকার পেলেন ৩৮৮৩ ভোট।
নৈহাটি বিধানসভা উপনির্বাচনে তৃণমূলের ঝুলিতে গিয়েছে ৬২.৯৭ শতাংশ ভোট, বিজেপি পেয়েছে ২৩.৫৮ শতাংশ। সিপিআই (এম-এল) লিবারেশন পেল ৬.০৭ শতাংশ ভোট, কংগ্রেস ৩.১ শতাংশ ভোট।
২০১৬ ও ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে নৈহাটি থেকে তৃণমূলের পার্থ ভৌমিক (বর্তমানে ব্যারাকপুরের তৃণমূল সাংসদ) জিতেছিলেন। ২০২১ সালে তাঁর জয়ের মার্জিন ছিল ১৮,৮৫৫। তৃণমূল পেয়েছিল ৫০ শতাংশ ভোট, বিজেপি পায় ৩৮ শতাংশ। সেবার বিজেপির ভোট ৩৫.৮৬ শতাংশ বাড়লেও তৃণমূলের কমেছিল ৭.৩৯ শতাংশ।
হাড়োয়া
এবারের উপনির্বাচনে হাড়োয়ায় তৃণমূলের জয়ের মার্জিন সবচেয়ে বেশি। ১,৫৭,০৭২টি ভোট পেলে টিএমসির সেখ রবিউল ইসলাম জিতলেন ১ লক্ষ ৩১ হাজার ৩৮৮ ভোটে। এআইএসএফের পিয়ারুল ইসলাম দ্বিতীয় স্থানে, তিনি ভোট পেলেন ২৫,৬৮৪টি।
বিজেপির বিমল দাস ১৩,৫৭০ ও কংগ্রেসের হাবিব রেজা চৌধুরী ৩,৭৬৫টি ভোট পেলেন। তৃণমূল এখানে পেল ৭৬.৬৩ শতাংশ ভোট। আইএসএফ ১২.৫৩ শতাংশ, বিজেপি ৬.৬২ শতাংশ ও কংগ্রেস ১.৮৪ শতাংশ ভোট। ২০২১ সালের তুলনায় তৃণমূলের ভোট ১৯.২৯ শতাংশ বাড়ল। আইএসএফের কমল ৯.২ শতাংশ, বিজেপির ১০.৩১ শতাংশ।
হাড়োয়ায় ২০১৬ ও ২০২১ সালে জেতেন তৃণমূলের হাজি নুরুল ইসলাম। চলতি বছর তিনি বসিরহাটের সাংসদ হন। তিনি প্রয়াত হলেও বসিরহাটে লোকসভা ভোট হয়নি। হাড়োয়ায় ২০২১ সালে তাঁর জয়ের মার্জিন ছিল ৮০,৯৭৮। তৃণমূল ভোট পেয়েছিল ৫৭.৩৪ শতাংশ, আইএসএফ ২১.৭৩ শতাংশ, বিজেপি ১৬.৯৩ শতাংশ।
মেদিনীপুর
মেদিনীপুর বিধানসভা উপনির্বাচনে তৃণমূলের সুজয় হাজরা ৩৩ হাজার ৯৯৬ ভোটে জয়লাভ করলেন। তিনি পেলেন ১,১৫,১০৪টি ভোট। বিজেপির শুভজিৎ রায় (বান্টি) ৮১,১০৮টি ভোট পেয়েছেন। সিপিআইয়ের মনি কুন্তল খামরাই ১১,৮৯২টি এবং কংগ্রেসের শ্যামল কুমার ঘোষ ৩৯৫৯টি ভোট পেলেন।
এখানে তৃণমূলের প্রাপ্ত ভোট ৫৩.৪৪ শতাংশ, বিজেপির ৩৭.৬৫ শতাংশ, সিপিআইয়ের ৫.৫২ শতাংশ ও কংগ্রেসের ১.৮৪ শতাংশ। ২০১১ সাল থেকে এই আসনটি জিতে আসছে তৃণমূল। উপনির্বাচনে সেই ধারা অব্যাহত থাকল।
২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে মেদিনীপুর থেকে জেতেন জুন মালিয়া, যিনি মেদিনীপুরের সাংসদ হওয়ায় উপনির্বাচন হলো। তিনি জিতেছিলেন ২৪,৩৯৭ ভোটে। তৃণমূল পেয়েছিল ৫০.৭২ শতাংশ ভোট, বিজেপি ৪০.৫১ শতাংশ। ফলে দেখা যাচ্ছে তৃণমূলের ভোট বাড়ল, কমল বিজেপির। সিপিআইয়ের ভোট বেড়েছে ০.০৯ শতাংশ।
তালড্যাংরা
তালড্যাংরায় বিধানসভা উপনির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী ফাল্গুনী সিংহবাবু জিতলেন ৩৪ হাজার ৮২ ভোটে। তিনি পেলেন ৯৮,৯২৬টি ভোট। বিজেপির অনন্যা রায় চক্রবর্তী পেলেন ৬৪,৮৪৪টি ভোট। সিপিআইএমের দেবকান্তি মহান্তি পেলেন ১৯৪৩০টি ভোট। কংগ্রেসের তুষারকান্তি সন্নিগ্রাহী ২৮২২টি ভোট পেলেন।
এই আসনে তৃণমূলের প্রাপ্ত ভোট ৫২.০৭ শতাংশ, বিজেপির ৩৪.১৩ শতাংশ, সিপিআইএমের ১০.২৩ শতাংশ এবং কংগ্রেসের ১.৪৯ শতাংশ। ২০১৬ ও ২০২১ সালে এই আসনটিতে বিধানসভা নির্বাচনে জেতে তৃণমূল। ২০২১ সালে তৃণমূলের অরূপ চক্রবর্তী (বর্তমানে বাঁকুড়ার সাংসদ) জিতেছিলেন ২৩,১৮৯ ভোটে।
সেবার তৃণমূল পেয়েছিল ৪৬.১ শতাংশ ভোট, বিজেপি পায় ৩৯.৯ শতাংশ ভোট। সিপিআইএম পেয়েছিল ১১.৬ শতাংশ ভোট। উপনির্বাচনে ৫.৯৮ শতাংশ ভোট বাড়ল তৃণমূলের। বিজেপির ভোট কমল ৫.৭৬ শতাংশ, সিপিআইএমের কমেছে ১.৩৮ শতাংশ।












Click it and Unblock the Notifications