তৃণমূলের অন্দরে 'একনায়কতন্ত্রের' আস্ফালনের অভিযোগ! ভোটের আগে ফাটল চওড়া হচ্ছে উত্তরবঙ্গের একাংশে
ধীরে ধীরে জোরালো হচ্ছে তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহীদের কণ্ঠ।২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে যেখানে রাজ্য নেতৃত্ব ক্রমেই মেপে পা ফেলছে, সেখানে নিচু তলায় সরগম সেভাবে একই সুরে লাগছে না! অন্তত কোচবিহারের মিহির গোস্বামী, মীর হুমায়ুন কবীর, পরিমল বর্মণদের ঘিরে এমনই খবর উঠে আসছে। কোচবিহারে ভোটের আগে ক্রমেই দলের অন্দরে ক্ষোভের চিত্র একনজরে দেখে নেওয়া যাক।

দ্বন্দ্ব ক্রমেই জটিল হচ্ছে!
জেলা কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে , এলাকার বিধায়ককে অজ্ঞাতে রেখে কোনও বৈঠক করা যাবে না। অথচ সেই নির্দেশ পালন না করেই কোচবিহারে পঞ্চায়েত প্রধানদের নিয়ে বৈঠকের কথা বিধায়ককে জানানো হয়নি। এমন দাবি করেছেন জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক খোকন মিঞা। তাঁর দাবি, বিধায়কে অন্ধকারে রেখে যেভাবে জেলার নিচু তলার এমন বৈঠক চলছে ,তাতে অনেকেই ঘোলা জলে মাছ ধরার চেষ্টা করছেন। গোটা ঘটনাকে তিনি ' একনায়কতন্ত্র' বলে দাবি করেছেন।

'জেলা নেতৃত্ব ... বিপদ আসন্ন'
কার্যত জেলা নেতৃত্বকে নিয়ে তিনি হুঁশিয়ারির সুরে জানান, জেলা নেতৃত্ব যদি এখনই এমন পরিস্থিতি না থামিয়ে রাখে, তাহলে 'অচিরেই বিপদে পড়তে হবে' বলে জানান খোকন মিঞা। উল্লেখ্য, দলে ইতিমধ্যেই বিধায়ক মিহির গোস্বামী বিদ্রোহের সুরে সাংগঠনিক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। আর তারপর 'অচিরেই বিপদ' বার্তার মধ্যে দিয়ে খোকন মিঞা কোন বার্তা দিতে চাইছেন, তা নিয়ে রয়েছে জল্পনা।

বিধায়ক পদ ছাড়ার জল্পনা!
কোচবিহারের রাজনীতিতে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে, মিহির গোস্বামী এবার বিধায়ক পদ ছাড়তে চাইছেন। এই খবর রটানর পর থেকেই, তাংর মোবাইল বন্ধ বলে জানিয়েছে বাংলার এক প্রথম সারির সংবাদপত্র। এদিকে, দিনহাটার মীর হুমায়ুন কবীর ও কোচিবাহর ২ ব্লকের পরিমল বর্মণও দলের মধ্যে নেতৃত্বের দিকে আঙুল তুলতে শুরু করেছেন বলে খবর।

তির কার দিকে?
মনে করা হচ্ছে, গোটা পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে, তাতে কোচবিহারে দলের জেলা সভাপতি পার্থপ্রতিম রায়কে নিশানা করেই খোকন মিঞা সপর চড়াচ্ছেন। যদিও বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় বসার বার্তা দিয়েছেন পার্থপ্রতিম। তবে এই নিয়ে তিনি বিশেষ মুখ খুলতে রাজি নন।

কী ঘটেছে কোচবিহারে?
তৃণমূলের দিনহাটা ২ ব্লক ও কোচবিহার ২ ব্লকের প্রাক্তন সভাপতি মীর হুমায়ুন কবীর ও পরিমল বর্মণকে দলের অন্দরে নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ চড়াতে শুরু করেছেন। এরপর খোকন মিঞা , যিনি পদাধীকার বলে জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক, তিনি কিছুদিন আগেই বড়সড় সভা করে দলের নব নিযুক্ত জেলাসভাপতি পার্থপ্রতিম রায়কে সংবর্ধনা দেন। সেই পার্থপ্রতিমের বিরুদ্ধেই সুর চড়ছে বলে আঁচ পাওয়া যাচ্ছে উত্তরবঙ্গ তৃণমূলের অন্দরে।












Click it and Unblock the Notifications