অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সোনারপুরে আক্রান্ত, তৃণমূল সাংসদের ওপর জুতো ও ডিম বৃষ্টি
দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে এক আক্রান্ত দলীয় কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার পথে তীব্র বিক্ষোভের মুখোমুখি হলেন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বাইক থেকে তাঁকে টেনে নামিয়ে মারধর করা হয়, যার ফলে তাঁর পোশাক ছিঁড়ে যায়। জনতার প্রবল রোষের মুখে অভিষেক জেদ ধরে বলেন, "ওরা আমায় মারতে চায়! মেরে দিক! আমি এখান থেকে যাব না।"
পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত ছিল যে গাড়ি ছেড়ে বাইকে চড়ে গন্তব্যে পৌঁছনোর চেষ্টা করেন অভিষেক। বিক্ষোভকারীরা তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ও জুতো ছুঁড়তে শুরু করলে তিনি নিরাপত্তার জন্য হেলমেট পরতে বাধ্য হন। এই বিশৃঙ্খলার মাঝেও তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন, ঘোষণা করেন, "সঞ্জুর বৃদ্ধ বাবা-মাকে ছেড়ে কোথাও যাব না। পুলিশ যতক্ষণ না আসবে এখানেই থাকব।"

জনতার প্রবল বিক্ষোভ ও আক্রমণের মাঝেই অভিষেক অবশেষে দলীয় কর্মীর বাড়িতে পৌঁছন। পরে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা তাঁকে ওই বাড়ি থেকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারকার্য চলাকালীনও একদল উত্তেজিত জনতা তাঁর পিছু ধাওয়া করতে থাকে। গলিপথের দু'দিক থেকে ও আশপাশের বাড়ির ছাদ থেকেও ক্রমাগত 'চোর চোর' স্লোগান ওঠে।
সোনারপুরে বিজেপি কর্মীর বাড়ি থেকেই অভিষেক তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমার মাথা দু'টুকরো হয়ে যেত আজকে। আমার সঙ্গে দু'তিনজন মহিলা সহকর্মী এসেছেন, তাঁদের লাথি মেরে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হচ্ছে। এটা বাঙালির সংস্কৃতি?" তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, "আমার দলের একজন কর্মী মারা গিয়েছে। আমি সেই বাড়িতে দেখা করতে আসতে পারি না?"
নিজের আঘাতের কথা তুলে ধরে অভিষেক জানান, "আমার চোখে সাত বার অস্ত্রোপচার হয়েছে, ইট-পাটকেল ছুড়েছে। চশমার অবস্থা দেখুন।" এই হামলার পিছনে বিজেপির হাত থাকার অভিযোগ তুলে তিনি প্রশ্ন করেন, "বিজেপি যদি এর সাথে জড়িত না থাকে, তবে পদক্ষেপ কেন নিচ্ছে না?" এরপর তিনি হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।












Click it and Unblock the Notifications