'আমার অনেক ক্ষতি করেছে, কোনও সম্পর্ক নেই', জীবনকৃষ্ণের গ্রেফতারির পর মুখ খুললেন বাবা
কু পুত্র। প্রকাশ্যে ছেলের বিরুদ্ধে রাগ-ক্ষোভ-অভিমান উগরে দিলেন বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ দাসের বাবা। ছেলে মুর্শিদাবাদের বড়ঞার বিধায়ক হলেও বাবা কিন্তু থাকেন কেষ্টর গড় বীরভূমে। সাঁইথিয়ায় বাড়ি তাঁর। সেখানেই ব্যবসা করেন। ছেলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তিনি।
বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ দাসকে আজ সকালে গ্রেফতার করে সিবিআই। ইতিমধ্যেই ৪ দিনের হেফাজতে পেয়েছে তাঁকে। ছেলের গ্রেফতারিতে বিন্দুমাত্র বিচলিত নন তাঁর বাবা। উল্টে ছেলের বিরুদ্ধে সব অভিযোগ-রাগ উগরে দিয়েছেন তিনি। দিনভর দফায় দফায় সংবাদ মাধ্যম হাজির হয়েছিল তাঁর বাড়িতে।

যে সংবাদ মাধ্যমই তাঁর বাড়িতে গিয়েছে। সেই সংবাদ মাধ্যমই তাঁর বিরুদ্ধে সব ক্ষোভ উগরে দিয়েছে। তিনি তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেছেন, বিধায়ক হলেও ছেলে তাঁদের কোনও দিন কোনও সাহায্য করেনি। উল্টে ব্যবসার অনেক ক্ষতি করে দিয়েছে। ভয় দেখাত। এমনকী মারধরও করত বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
জীবনকৃষ্ণ মা এবং বোনও একই কথা বলেছেন। তাঁরাও বলেছেন জীবন কৃষ্ণর সঙ্গে কোনও যোগাযোগই তাঁদের নেই। দীর্ঘ সময় ধরে তাঁদের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই। টিভিতেই তাঁরা সব দেখতে পাচ্ছেন। এমনকী তাঁর বোনও দাদার সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই বলেই দাবি করেছেন। তিনি বলেছেন টিভিতে দেখে লজ্জা লাগছে ঠিকই কিন্তু কোনও সম্পর্কই তাঁদের সঙ্গে জীবনকৃষ্ণের ছিল না।

কেষ্টর সহযোগী ছিলেন বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। গরুপাচার কাণ্ডে অনুব্রত মণ্ডলের গ্রেফতারির পর থেকেই সিবিআইয়ের স্ক্যানারে ছিলেন তিনি। নিয়োগ দুর্নীতির পাশাপাশি গরুপাচার কাণ্ডেও যোগ ছিল তাঁর। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন বীরভূমেও বিপুল সম্পত্তি রয়েছে জীবনকৃষ্ণর। নিয়োগ দুর্নীতিতে প্রায় ৩০০ কোটি টাকার দুর্নীতি করেছেন তিনি। তাঁর দুর্নীতি ছাপিয়ে গিয়েছে কুন্তল-অয়নের দুর্নীতিকেও
জীবনকৃষ্ণের বাড়ি থেকে তিন ব্যাগ নথি উদ্ধার করেছে সিবিআই। ৬৬ ঘণ্টা ধরে তল্লাশি চালানো হয়েছে তার বাড়িতে। পুকুরের জল ছেঁচে ফেলে দিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে তার দুটো মোবাইল। পয়লাবৈশাখের দিন থেকে সিবিআই তাঁকে জেরা করছে। জেরা করার সময় বাথরুম যাওয়ার নাম করে নিজের মোবাইল দুটি বাড়ির পুকুরে ফেলে দিয়েছিলেন তিনি। তারপরে বুল্ডোজার এনে পাম্প এনে জল পরিষ্কার করে কাদামাটি ঘেঁটে বের করা হয় মোবাইল ফোন দুটি।












Click it and Unblock the Notifications