নয়া বিজ্ঞপ্তি ঘিরে বিতর্ক, শুক্রবার কলকাতায় কমিশনের দফতর ঘেরাও কর্মসূচি শিক্ষকদের

ভোটার তালিকা সংশোধনের সময়সীমা বাড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন। আর এর জন্য এই কাজে নিযুক্তদের কাজের সরময়সীমা বাড়়ানোর বিজ্ঞপ্তিও জারি হয়েছে।

ভোটার তালিকা সংশোধনের সময়সীমা বাড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন। আর এর জন্য এই কাজে নিযুক্তদের কাজের সরময়সীমা বাড়়ানোর বিজ্ঞপ্তিও জারি হয়েছে। রাজ্য নির্বাচন কমিশনের এহেন বিজ্ঞপ্তিতেই এখন ক্ষোভ ছড়িয়েছে শিক্ষকদের মধ্যে। যার ফলে শুক্রবার কলকাতায় ফের রাজ্য নির্বাচন কমিশন ঘেরাও-এর ডাক দিয়েছে শিক্ষক ঐক্য মুক্ত মঞ্চ।

রাজ্য নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে ফের ক্ষোভ

মাস খানেক আগেই ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজে শিক্ষকদের নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক ছড়ায়। বহু শিক্ষক একটানা ২ মাস এই কাজ করতে আপত্তি জানিয়েছিলেন। অনেক শিক্ষকের আবার আপত্তি ছিল যে তাঁরা শিক্ষাদানের সময় নির্বাচন কমিশনের কাজ করবেন না। বহু শিক্ষক-শিক্ষিকা অভিযোগ করেন যে তাঁরা শারীরিকভাবে সুস্থ না হওয়ার সত্ত্বেও জোর করে ভোটার তালিকার সংশোধনের কাজে নিয়োগ করা হয়েছে। বহু স্থানেই নির্বাচন কমিশনের কর্তা-ব্যক্তিদের সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বাত-বিতণ্ডা লেগে গিয়েছিল। এক বিডিও এবং এসডিও-র বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং শিক্ষকদের সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগ ওঠে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত ছিল যে মামলা গড়িয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টে। শেষমেশ আদালত জানিয়ে দিয়েছিল শিক্ষকদের শিক্ষাদানের সময় ভোটের কাজে লাগানো যাবে না, ছুটির দিনে কীভাবে কাজ হবে- তার পদ্ধতি ও শর্ত-কেও স্পষ্ট করার। ভোটের কাজে নিয়োগের নয়া বিজ্ঞপ্তিও জারি করতে রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছিল আদালত।

শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অভিযোগ ছিল রাজ্য নির্বাচন কমিশন সেই নয়া বিজ্ঞপ্তি প্রকাশই করেনি। পরে একটা সহাবস্থান বজায় রেখে ভোটের কাজ করেন শিক্ষক-শিক্ষিকারা। কিন্তু, নতুন করে ভোটের কাজের সময়সীমা বাড়ানো এবং এতে নিযুক্তদের কাজের সময়কে বৃদ্ধি করা নিয়ে ফের ক্ষিপ্ত অধিকাংশ শিক্ষক-শিক্ষিকা। শিক্ষক ঐক্য মুক্ত মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক মইদুল ইসলাম জানিয়েছেন, 'ভোটের কাজে শিক্ষকদের ব্যবহার করা যাবে না, এই নির্দেশিকা বহুদিন আগেই কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক ও সুপ্রিম কোর্ট দিয়েছে, কিন্তু কার্যক্ষেত্রে তা কোনওভাবেই মানা হচ্ছে না। নির্বাচন কমিশন সদ্য প্রকাশ করা বিজ্ঞপ্তি-তে শিক্ষকদের কথা লেখা না থাকলেও বিডিও, এসডিও-দের মাধ্যমে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ফোন করা হচ্ছে। ভোটের কাজে বারবার শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উপর কেন কোপ পড়বে। তাই শুক্রবার ফের রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দফতর-এর সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।'

রাজ্য নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তিতে ফের ক্ষোভ

শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বিএলও, ডিও মামলায় কলকাতা হাইকোর্টে আইনজীবী ছিলেন ফিরদৌস শামিম। ওয়ানইন্ডিয়া বাংলা-কে তিনি জানিয়েছেন, 'শিক্ষাদানের সময় শিক্ষকদের ভোটের কাজে ব্যবহার না করার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। এটা লঙ্ঘন হলে যে কোনও শিক্ষক ফের আদালতের শরণাপন্ন হতেই পারেন।' সিপিএম বিধায়ক তথা বিধানসভায় বামফ্রন্টের মুখ্য-সচেতক সুজন চক্রবর্তী জানিয়েছেন, 'আদালতের আদেশনামাকে মান্যতা দিয়েই ভোটের কাজ করতে হবে কমিশনকে। শিক্ষাদানের সময়কে মান্য করেই শিক্ষকদের ভোটের কাজে লাগানো উচিত।'

রাজ্য নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজের সময় বৃদ্ধি নিয়ে যে নয়া বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে তাতে জানানো হয়েছে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত এই কাজ চলবে। ৪ নভেম্বর-কে স্পেশাল ক্যাম্পেন ডে হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। শিক্ষকদের অধিকার নিয়ে বারবার-ই সরকার এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলির সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছে শিক্ষক ঐক্য মুক্তি মঞ্চ। ভোটার তালিকা সংশোধনে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বিএলও এবং ডিও মামলায় তারাই নেতৃত্ব দিয়েছিল। দিন কয়েক আগে প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য নিয়ে রাজপথে আন্দোলনেও নামে শিক্ষক ঐক্য মুক্ত মঞ্চ। শহিদ মিনারের তলায় তাদের করা সমাবেশে বিজেপি-কংগ্রেস-বামফ্রন্টের-এর রাজ্য নেতারা পর্যন্ত হাজির হয়েছিলেন। যাঁদের মধ্যে ছিলেন সুজন চক্রবর্তী, নরেন চট্টোপাধ্যায়, দিলীপ ঘোষ, অধীর চৌধুরীরা। উপস্থিত হয়েছিলেন বিভিন্ন শিক্ষাবিদ। এঁদের মধ্যে ছিলেন এককালে তৃণমূলপন্থী বলে পরিচিত শিক্ষাবিদ বিমলশঙ্কর নন্দও। এছাড়়াও ছিলেন প্রাক্তন বিচারপতি অশোরকুমার গঙ্গোপাধ্য়ায়ও। সুতরাং, বলতে গেলে এক সপ্তাগের মধ্যেই ফের একবার শিক্ষকদের অধিকার নিয়ে আন্দোলনে রাজপথে নামছে শিক্ষক ঐক্য মুক্ত মঞ্চ।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+