শোভনের তৃণমূলে ফেরার পথে কাঁটা বিছিয়ে দিলেন পার্থ! জল্পনার পারদ তুঙ্গে
দিন পাঁচেক আগে পার্থ চট্টোপাধ্যায় হঠাৎ বলে বসেন, শোভন তৃণমূলেই আছেন, কবে সক্রিয় হন সেটাই দেখার। এদিন সেই পার্থরই এক সিদ্ধান্তে শোভনের রাজনৈতিক ভাগ্য নিয়ে উঠে পড়ল প্রশ্ন।
শোভন চট্টোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ভাগ্য পেন্ডুলামের মতো দুলছে। একবার এদিক, একবার ওদিক। দিন পাঁচেক আগে তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় হঠাৎ বলে বসেন, শোভন তৃণমূলেই আছেন, কবে সক্রিয় হন সেটাই দেখার। তারপরই জল্পনার পারদ চড়েছিল তাঁর তৃণমূলে যোগদান নিয়ে। এদিন পার্থর এক সিদ্ধান্তে শোভনের রাজনৈতিক ভাগ্য নিয়ে উঠে পড়ল প্রশ্ন।

শোভনের ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা
মিল্লি আল আমিন কলেজ থেকে বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করার পরই জল্পনার পারদ চড়তে থাকে। শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় তাঁকে আশ্বাস দিয়েছিলেন সমস্ত সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। তার ১২ দিনের মাথায় পদত্যাগপত্র গ্রহণ করে নেন। কেন পার্থ চট্টোপাধ্যায় এতদিন পর ইস্তফা গ্রহইণ করলেন, তা নিয়ে জল্পনায় উঠে এসেছে সেই শোভনের ভবিষ্যৎ নিয়েই নানা কথা।

শোভনের তৃণমূলের ফেরার পথে বাধা
রাজনৈতিক মহল মনে করছে, পার্থর এই সিদ্ধান্ত শোভনের তৃণমূলের ফেরার পথে বাধার পাহাড় তৈরি করল। ভাইফোঁটায় কালীঘাটে দিদির বাড়িতে যাওয়ার পর শোভনের তৃণমূলে ফের নিয়ে যখন জল্পনা তুঙ্গে উছেঠিল, এদিন পার্থর এক সিদ্ধান্ত সেই জল্পনায় জল ঢেলে দিয়েছে।

শোভন-বৈশাখীর তৃণমূলে ফেরার পথ বন্ধ!
শোভন-বৈশাখী বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরও বৈশাখীকে সমানে আশ্বাস দিযে গিয়েছিলেন পার্থ। বলেছিলেন, মিল্লি আল আমিন কলেজের সমস্যার সমাধান করে দেবেন তিনি। ইস্তফা দেওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। সম্মান নিয়েই তিনি শিক্ষকতা করতে পারবেন। তারপর দীর্ঘ দিন কেটে গিয়েছে। এবার পার্থ কিছু না জানিয়েই ইস্তফা গ্রহণ করে নিলেন। তাতেই শোভন-বৈশাখীর তৃণমূলে ফেরার পথ বন্ধ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

দিন পাঁচেক আগে শোভনকে নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দাবি
অথচ তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় এক প্রশ্নের উত্তরে দিন পাঁচেক আগে শোভনকে নিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দাবি করেন। তিনি বলেন, শোভন যে দল ছেড়েছে, তা তিনি এখনও লিখিতভাবে জানাননি। তাই আমরা ধরে নিচ্ছি, শোভন তৃণমূলেই আছেন। এখন দেখুন তিনি কবে সক্রিয় হন। শোভনকে নিয়ে এহেন মন্তব্য ফের নতুন করে ভাবাতে শুরু করে রাজনৈতিক মহলকে।

যোগ দেওয়ার পরই বিজেপির সঙ্গে দূরত্ব
শোভন ভাইফোঁটার দিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যাওয়ার পরই বিজেপি কার্যত হাল ছেড়ে দিয়েছিল শোভনকে নিয়ে। দিলীপ ঘোষ তো তাঁকে কুড়িয়ে পাওয়া টাকার সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। তবে শোভন তৃণমূলে ঘরওয়াপসি করেননি অফিসিয়ালি। শোভন তিনমাস আগে বিজেপিতে গেলেও তিনি সক্রিয় হননি। বরং দিন দিন বিজেপির সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়েছেন।

বৈশাখী এতদিন পর পদ হারাতে জল্পনা
এরই মধ্যে তাঁর ও তাঁর বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়ের কিছু পদক্ষেপ তাঁদের তৃণমূলে ফেরার জল্পনা বাড়িয়ে তুলেছিল। ভাইফোঁটায় দিদির বাড়ির পর সরকারি অনুষ্ঠানেও দেখা যাচ্ছিল তাঁদের। তারপর পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ওই মন্তব্য। কিন্তু কী এমন হল বৈশাখী এতদিন পর পদ হারাল। তা নিয়ে রীতিমতো বিস্মিত শোভন-বৈশাখী দুজনেই।

বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরও থিতু নন শোভন
উল্লেখ্য, তৃণমূলে ন-মাস অজ্ঞাতবাসে কাটিয়ে ঘটা করে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন শোভন ও বৈশাখী। দিল্লিতে গিয়ে বান্ধবী বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে শোভন মুকুল রায়-কৈলাশ বিজয়বর্গীয়র উপস্থিতিতে বিজেপির পতাকা হাতে তুলে নিয়েছিলেন। তখন থেকেই বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তারপর কলকাতায় ফিরে দিলীপের সংবর্ধনা মঞ্চে ডাল-ভাত বিতর্ক মাত্রা ছাড়ায়। এমনকী শোভন-বৈশাখী এরপর বিজেপি ছাড়ার বার্তাও দেন।












Click it and Unblock the Notifications