ভোট কৌশলীর চাকরির বাইরে প্রথম পদক্ষেপ প্রশান্ত কিশোরের, মমতাকে অ্যাডভান্টেজ
ভোট কৌশলীর চাকরির বাইরে প্রথম পদক্ষেপ প্রশান্ত কিশোরের, মমতাকে অ্যাডভান্টেজ
ভোটের লড়াইয়ে কৌশল বানানোতে তিনি সিদ্ধহস্ত। প্রচার পরিকল্পনাতেও তাঁর জুড়ি মেলা ভার। কিন্তু তিনি যে এর বাইরে সামাজিক কাজেও হাত পাকিয়েছেন, তা হাতে-কলমে করে দেখিয়ে দিলেন তৃণমূলের ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোর। বুঝিয়ে দিলেন মানুষের পাশে দাঁড়াতে কোনও রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ার প্রয়োজন হয় না।

লক্ষ্যপূরণ তো করলেই, একইসঙ্গে বাজিমাতও করলেন
করোনা ভাইরাসের জেরে দেশজুড়ে লকডাউনের বাজারে তিনি মানুষের মুখে অন্ন তুলে দেওয়ার জন্য দারুন এক কাজ করলেন। দেশের ৩৩টি শহরে তিনি সাড়ে ১৬ লক্ষ মানুষকে খাওয়ালেন ১১ দিন ধরে। লকডাউনের প্রথম পর্বে তিনি তাঁর ‘সব কি রসোই' নিয়ে লক্ষ্যপূরণ তো করলেই, একইসঙ্গে বাজিমাতও করলেন।

জনপ্রতিনিধি না হয়েও মানুষের পাশে, দৃষ্টান্ত
এর আগে কতজন রাজনৈতিক নেতা এই কাজ করতে পেরেছেন, তা নিয়ে তো প্রশ্ন উঠবেই। এই করোনা পরিস্থিতিতে বহু জন প্রতিনিধি যখন ঘরে বসে রয়েছেন, তখন তিনি তাঁর টিমকে নিয়ে ময়দানে নেমে পড়েলন। দুস্থ, গরিব, দিন আনি দিন খাই- এমন মানুষদের পাশে দাঁড়ালেন আদর্শ নেতার মতোই।

চাকরি করেন রাজনৈতিক দলে, এবার মানুষের পাশে
তবু তিনি নেতা নন, আদতে একজন ভোট-কৌশলী। চাকরি করেন কয়েকটি রাজনৈতিক দলে। তাঁর একটা রাজনৈতিক পরিচয় ছিল ঠিকই, তা এখন অতীত। এখন তিনি শুধু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল, অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টির মতো কয়েকটি রাজনৈতিক দলের কৌশলী। চাকরি করেন।

মমতা-কেজরিদের অ্যাডভান্টেজ দিলেন প্রশান্ত কিশোর
কিন্তু সেই ক্ষেত্র থেকেও যে মানুষের পাশে দাঁড়ানো যায়, তা দেখালেন প্রশান্ত কিশোর। শুধু সদিচ্ছা থাকলেই কাজ করা যায়। মমতার দলের হয়ে কাজ করা প্রশান্ত কিশোর এই মুহূর্তে এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন। রাজনীতির অলিন্দে থেকে অনেকে যা পারেননি, তিনি তা করলেন। একইসঙ্গে মমতা-কেজরিদের অ্যাডভান্টেজ দিলেন।

রাজনীতির বাইরেও একটা জগৎ রয়েছে প্রশান্ত কিশোরের
এভাবে্ই পিকে বুঝিয়ে দিয়েছেন, রাজনীতির বাইরেও তাঁর একটা জগৎ রয়েছে। তিনি সামাজিক কাজেও কর্তব্য পরায়নতা ও দায়বদ্ধতার পরিচয় স্থাপন করতে পারেন। এভাবেই বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভোট কৌশলী বুঝিয়ে দিলেন তাঁর সামাজিক গুরুত্বও। তিনি যে শুধু রাজনীতির অলিন্দেই কৌশলী নন, তিনি যে সমাজের কাজেও পারদর্শী, তার নিদর্শন রাখলেন।

দেশের ৩৩টি শহরে চালু ‘সব কি রসোই’ পরিষেবা
প্রথমার্ধে দেশের ২০-২৫টি শহরে এই ‘সব কি রসোই' নিয়ে হাজির হয়েছিল আই প্যাক। ৩৮টি রান্না ঘর ও ৫৪টি খাদ্য সরবরাহকারী সংস্থার সঙ্গে হাত মিলিয়ে তা শুরু হয়েছিল। পরে ৩৩টি শহরে চালু করা হয় ‘সব কি রসোই' পরিষেবা। যুক্ত করা হয় ১১৩১টি খাদ্য সরবরাহকারী সংস্থাকে।












Click it and Unblock the Notifications