মুকুল-ঘনিষ্ঠ বিধায়করাই কেন ব্রাত্য বিজেপিতে! একুশের আগে প্রশ্ন রাজ্য রাজনীতিতে
মুকুল-ঘনিষ্ঠ বিধায়করাই কেন ব্রাত্য বিজেপিতে! একুশের আগে প্রশ্ন রাজ্য রাজনীতিতে
মুকুল রায় বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই ধীরে ধীরে ভাঙছিল তৃণমূল। ২০১৯-এর লোকসভা ভোটের আগে ও পরে তিনি তৃণমূল ভেঙে তাঁর অনুগামীদের নিয়ে গিয়েছিলেন বিজেপিতে। একুশের আগেও মুকুল রায়ের সেই খেলা অব্যাহত থেকেছে। তবে হঠাৎ করেই সুর কেটেছে ঠাকুরনগরে অমিত শাহ আসার আগে থেকেই!

নাগরিকত্ব নিয়ে অমিত-বাণী শুনতে চেয়েছিলেন মতুয়ারা
মতুয়া ভোট নিয়ে বিজেপি চিন্তিত। ২০১৯-এ মতুয়াদের নাগরিকত্ব প্রদানের অঙ্গীকার করে বিজেপি ক্ষমতায় এসেছিল। কিন্তু সেই নাগরিকত্ব প্রদানের কোনও লক্ষণ নেই একুশের বিধানসভা ভোটের আগে। এই অবস্থায় অমিত শাহের বাণী শুনতে চেয়েছিলেন মতুয়ারা। সেজন্যই সভার আয়োজন করেন মতুয়া সঙ্ঘাধিপতি বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুর।

মমতাকে প্রণামের পর বৈঠকে, শাহের সভায় ঢুকতে বাধা
আর এই বনগাঁ লোকসভার অধীন ঠাকুরনগরে যখন অমিত শাহ আসছেন, তার দুদিন আগেই বনগাঁ উত্তরের বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস বিধানসভার গিয়ে প্রণাম করে বসলেন তৃণমূল সুপ্রিমো তথা তাঁর প্রাক্তন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তারপর তাঁদের মধ্যে বৈঠকও হলও, জল্পনার পারদও চড়ল। তার ফলশ্রুতিতে অমিতের সভায় ডাক পেলেন না বিশ্বজিৎ। ঢুকতেও বাধা পেলেন।

শান্তনু ঠাকুরের সঙ্গে বিশ্বজিৎ দাসের হৃদ্যতা তৈরি হয়নি
এই বিশ্বজিৎ দাস ছিলেন মুকুল রায় ঘনিষ্ঠ নেতা। মমতার দলেও মুকুল-ঘনিষ্ঠ হিসেবে তাঁর সুখ্যাতি ছিল, আর বিজেপিতে গিয়েও তিনি মুকুল ঘনিষ্ঠ থেকেছেন। বনগাঁর সাংসদ তথা সঙ্ঘাধপতি শান্তনু ঠাকুরও মুকুল রায়ের সুপারিশে বিজেপিতে এসেছিলেন। কিন্তু শান্তনু ঠাকুরের সঙ্গে বিশ্বজিৎ দাসের হৃদ্যতা তৈরি হয়নি, দুজনে বনগাঁর জনপ্রতিনিধি হওয়া সত্ত্বেও।

মুকুল-ঘনিষ্ঠ দুই বিধায়ক ডাক পাননি অমিতের সভায়
এদিকে মুকুল-ঘনিষ্ঠ বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস একা নন, আরও এক মুকুল ঘনিষ্ঠ বিধায়ক দুলাল বরও আমন্ত্রণ পাননি ঠাকুরনগরের সভায়। তিনিও অযাচিত হয়ে এসেছিলেন অমিত শাহের সভায়। বিশ্বজিৎ দাসকে নিরাপত্তারক্ষীরা বাধা দেওয়ার তার প্রতিবাদও করেন। এর ফলে বিজেপির গোষ্ঠী কোন্দল প্রকাশ্যে চলে আসে খোদ অমিত শাহের সভায়।

প্রার্থী তালিকায় মুকুল রায়ের হস্তক্ষেপ চাইছে না বিজেপি
এখন প্রশ্ন মুকুল ঘনিষ্ঠ নেতারাই কেন বিজেপিতে ব্রাত্য থাকছেন। কেন তাঁরা আর সেভাবে কল্কে পাচ্ছেন না বিজেপির অন্দরে। তবে কি মুকুল রায় তাঁর ঘনিষ্ঠ নেতাদের এনে দল বাড়ালেও, বিজেপি এবার ভিন্ন পথে হাঁটতে চাইছেন? আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী তালিকায় মুকুল রায় হস্তক্ষেপ করুন চাইছে না তারা?

মুকুলের জায়গা ছাড়ার বার্তার পরই অনুগামীরা জল্পনায়
মুকুল রায় সম্প্রতি প্রকাশ্য জনসভায় বলেছিলেন, তিনি জায়াগা ছেড়ে দিচ্ছেন। নতুনদের জন্য জায়গা ছেড়ে দিতে হয়। আর কখন জায়গা ছাড়তে হয়, তা শিখতেও হয়। তিনি জানেন কখন জায়গা ছাড়তে হয়। তাঁর সেই জায়গা ছাড়ার বার্তার পর থেকেই তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া দুই বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস ও সুনীল সিংকে নিয়ে জল্পনা বাড়তে শুরু করে।

বিশ্বজিতের সমর্থনে মুকুল রায় ঘনিষ্ঠ আরও এক বিধায়ক
সুনীল সিংকে নিয়ে জল্পনা আপাতত স্তিমিত থাকলেও, বিশ্বজিৎ দাসকে নিয়ে জল্পনার ঘনঘটা ফের শুরু হল অমিত শাহের সভার আগে। সভার পর বিশ্বজিৎ দাস সরবও হলেন। শান্তনু ঠাকুরের বিরুদ্ধে সমালোচনাও করলেন। আর বিশ্বজিতের সমর্থনে এগিয়ে এলেন মুকুল রায় ঘনিষ্ঠ আর এক বিধায়ক দুলাল বর। তিনিও কংগ্রেস থেকে তৃণমূল হয়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন মুকুল রায়ের হাত ধরে।

দলের সাংসদ শান্তনুকে তোপ মুকুল-ঘনিষ্ঠ বিধায়কের
বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুরের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে বনগাঁ উত্তরের বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস অভিযোগ করেন, মতুয়াদের নিয়ে রাজনীতি করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবারের সভার পরে মতুয়ারা অনেক প্রশ্ন করেছেন, কিন্তু তিনি উত্তর দিতে পারেননি। শান্তনু ঠাকুরকে যাঁরা ভোট দিয়েছিলেন তাঁরা তো সবাই নাগরিক। আর তাঁরা যদি নাগরিক না হন তাহলে সাংসদ পদটিই তো অবৈধ। বিশ্বজিতের অভিযোগ, শান্তনু ঠাকুর মতুয়াদের নিয়ে রাজনীতি করছেন, দলকেও ব্ল্যাকমেল করছেন। সাংসদ নিজের স্বার্থ নিয়ে্ই ভবাছেন, মতুয়াদের কথা ভাবছেন না।












Click it and Unblock the Notifications