সৌমিত্র ফের বিপাকে বিজেপিতে, দিলীপের কাছে মহিলাদের চিঠিতে কীসের নালিশ
বাংলার ভোটে পর্যুদস্ত হওয়ার পর থেকেই বিজেপিতে কোন্দল লেগেই রয়েছে। রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর সবথেকে বেশি সমালোচনা হয়েছে বোধহয় বিজেপি যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতি সৌমিত্র খাঁকে কেন্দ্র করে।
বাংলার ভোটে পর্যুদস্ত হওয়ার পর থেকেই বিজেপিতে কোন্দল লেগেই রয়েছে। রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর সবথেকে বেশি সমালোচনা হয়েছে বোধহয় বিজেপি যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতি সৌমিত্র খাঁকে কেন্দ্র করে। সম্প্রতি তিনি প্রকাশ্যে দিলীপ-শুভেন্দুর কাছে ভুল স্বীকার করেছেন। তারপর ৪৮ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই ফের বিতর্ক শুরু হল সৌমিত্রকে নিয়ে।

সৌমিত্র খাঁয়ের বিরুদ্ধে নালিশ মহিলা সদস্যদের
সৌমিত্র খাঁয়ের বিরুদ্ধে এবার অভিযোগ সরব হলেন যুব মোর্চার রাজ্য কমিটির মহিলা সদস্যরা। অভিযোগ, সৌমিত্র খাঁ তাঁদের কাজ করতে না দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন। রাজ্য কমিটিতে তিনি সদ্য দলে যোগ দেওয়া নেতাদের নিযুক্ত করছেন। এই পরিস্থিতিতে তাঁরা সৌমিত্র খাঁয়ের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করার অনুরোধ করেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে

একনায়কতন্ত্র চালাচ্ছেন সৌমিত্র, অভিযোগ
যুব মোর্চার মহিলা সদস্যদের অভিযোগ, বিজেপির যুব সংগঠনে বর্তমানে একনায়কতন্ত্র চালাচ্ছেন সৌমিত্র খাঁ। তিনি নিজের ইচ্ছামতো সদ্য দলে যোগ দেওয়া নতুন নেতা-নেত্রীদের পদে বসাচ্ছেন। আদি নেত্রীদের তিনি বাদ দিয়ে দিচ্ছেন। যুব মোর্চার হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপ থেকে মহিলা কার্যকর্তাদের সরিয়ে দিচ্ছেন ইচ্ছামতো।

মহিলা নেত্রীরা একযোগে চিঠি লেখেন দিলীপ ঘোষকে
সম্প্রতি এক নেত্রীকে রাজ্য যুব মোর্চার সম্পাদক পদে নিয়োগ করা হয়। তারপর তাঁকে হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে যুক্ত করার নির্দেশ দেন। তারপরই বিতর্ক দানা বাঁধে। সৌমিত্র খাঁয়ের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আদি মহিলা নেত্রীরা একযোগে চিঠি লেখেন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে। তাঁর কাছে যুব মোর্চাকে রক্ষা করার এবং মহিলা সদস্যদের সম্মান রক্ষা করার আর্জি জানানো হয়।

শুভেন্দু-দিলীপের সঙ্গে সন্ধি স্থাপনের পরও বিতর্কে সৌমিত্র
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় রদবদল হয়। সেখানে ঠাঁই হয়নি সৌমিত্রর। তখনই তিনি নিশানা করেন শুভেন্দু অধিকারী ও দিলীপ ঘোষকে। সেই বিতর্ক শেষ হয় অমিত শাহের হস্তক্ষেপে। অমিত-নির্দেশের পরে প্রকাশ্যে শুভেন্দু-দিলীপের সঙ্গে সন্ধি স্থাপন করেন যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতি সৌমিত্র খাঁ।

যুব মোর্চার সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন সৌমিত্র
কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা রদবদলের পর যে কোন্দলের মুখে পড়তে হয়েছিল বিজেপিকে, তার আপাতত ইতি ঘটল। সর্বসমক্ষে সৌমিত্র খাঁ ভুল স্বীকার করে নিলেন শুভেন্দু অধিকারী ও দিলীপ ঘোষের কাছে। ফলে বিজেপির যুব মোর্চার সভাপতি পদ নিয়েও জল্পনার অবসান হয়। উল্লেখ্য, তিনি প্রতিবাদে সরব হয়ে যুব মোর্চার সভাপতির পদ থেকে ইস্তফা দেন।

ক্ষমা চেয়েও আবার বিতর্কের সম্মুখীন সৌমিত্র খাঁ
অমিত শাহের হস্তক্ষেপে বঙ্গ বিজেপিতে কোন্দলের অবসান হয়। সৌমিত্র খাঁকে দিল্লিতে তলব করে বৈঠক করেন অমিত শাহ। তারপরই বরফ গলে। সৌমিত্র খাঁ যুব মোর্চার কার্যকারিণী সভায় সবাইকে অবাক করে দিয়ে বলেন, যুব মানেই লড়াই হবে, মাঝেমধ্যে ভুলও হবে। আমারও কিছু ভুল হয়েছিল। তা শুধরে নিলাম। সৌমিত্র খাঁ বলেন, ফেসবুকে ব্যক্তিগত মত প্রকাশ করাটা আমার ভুল হয়েছিল। সেজন্য সবার কাছে আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি। কিন্তু আবার তিনি বিতর্কের সম্মুখীন হলেন যুব মোর্চার সভাপতি হিসেবে।












Click it and Unblock the Notifications