মমতার কামব্যাক বিজেপির ‘ভুলে’র সুযোগ সদ্ব্যবহারে! তিনে তিন করে ধন্যবাদ শাহকে
তৃণমূল হাতে স্বর্গ পেয়ে গেল বিজেপির ভুল ইস্যু বাছাইয়ের ফলে। বিজেপি যখন এনআরসি ইস্যুতে তৃণমূলকে মাত দিতে চাইছিল, তখন তা-ই কাঁটা হয়ে দেখা দিল বিজেপির কাছে।
লোকসভা ভোটে বিরাট ধাক্কা খেয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাবমূর্তিই প্রশ্নের মুখে পড়ে গিয়েছিল, হারার আতঙ্ক গ্রাস করেছিল তৃণমূলীদের। এই অবস্থায় তৃণমূল হাতে স্বর্গ পেয়ে গেল বিজেপির ভুল ইস্যু বাছাইয়ের ফলে। বিজেপি যখন এনআরসি ইস্যুতে তৃণমূলকে মাত দিতে চাইছিল, তখন তা-ই কাঁটা হয়ে দেখা দিল বিজেপির কাছে।

এনআরসির অ্যান্টি-ক্যাম্পেনিংয়ে ফায়দা
বিজেপিকে মাত দিতে এনআরসি ইস্যুতেই অ্যান্টি-ক্যাম্পেনিংয়ে ফায়দা তুলে নিল তৃণমূল। একেবারে ধরাশায়ী বিজেপি। নিজেদের পাতা ফাঁদে নিজেরা জড়িয়েই গোহারা হল বিজেপি। বিজেপি রাজ্য সভাপতির গড়ে প্রেস্টিজ ফাইটে হার মানতে হয়েছে বিজেপিকে। আর এনআরসি নিয়ে প্রচার করে ধরাশায়ী হয়েছে করিমপুর ও কালিয়াগঞ্জে।

তিনে তিন করার পর ধন্যবাদ
সেই কারণেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তিনে তিন করার পর ধন্যবাদ দিয়েছেন বিজেপি সভাপতিকে। অসমে এনআরসির পর থেকেই বিজেপি প্রচার শুরু করেছিল ক্ষমতায় এলে বাংলাতেও এনআরসি হবে। অমিত শাহ সংসদে দাঁড়িয়েও বলেছেন গোটা দেশেই এনআরসি হবে, বাংলাও বাদ যাবে না। বিজেপি নেতাদের এনআরসি মন্তব্যকে পাথেয় করেই কিস্তিুমাত করে দেয় তৃণমূল।

সুযোগ কাজে লাগিয়ে জয় হাসিল
বিজেপি বোঝাতে পারেনি মানুষকে। এনআরসির ভয়ঙ্করতাই মানুষকে ভীত-সন্ত্রস্ত করে তুলেছে। আর সেই সুযোগটাই নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল কংগ্রেস এনআরসির ভয়াবহতা প্রচার করেই কিস্তিমাত করে গিয়েছে। বিজেপির এনআরসি বার্তা কোনও একটি বিশেষ সম্প্রদায়কে বারবার টার্গেট করেছে। তৃণমূল সেই সুযোগটাও কাজে লাগিয়েছেন।

হিন্দু বাঙালিদেরও দুরবস্থার চিত্র তুলে
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর প্রশান্ত কিশোরের নির্দেশে তৃণমূল প্রচার চালিয়ে গিয়েছে এনআরসির ভয়ঙ্করতাকে নিয়ে। এতদিনের সাধের ভিটে ছেড়ে পরিবার থেকে আলাদা করে দেওয়ার চক্রান্ত বলে দেখিয়েছে তৃণমূল। অসমে যা হয়েছে, সেই বাস্তব চিত্র তুলে ধরে বুঝিয়েছেন মানুষকে। মানুষও দেখেছে অসমে হিন্দু বাঙালিদেরও দুরবস্থার চিত্র।

এনআরসি হলে রক্ষে নেই, প্রচারে ঝড়
তৃণমূল প্রমাণ করতে পেরেছে, শুধু মুসলিমরাই নন, এনআরসি হলে রক্ষে নেই হিন্দুদেরও। তাঁদেরও ঘর ছেড়ে পরিবার-পরিজন ছেডে় ডিটেনশন ক্যাম্পে কাটাতে হবে। বিজেপি এলে রাজ্যে নেমে আসবে আঁধার। রাজ্যবাসীকে সেই অন্ধকারে ডুবে মরতে হবে। বাংলার মানুষ কি তাই চান! এই বার্তাতেই মানুষ ঘুরে গিয়েছেন।

প্রবল শক্তিধর মমতার কামব্যাক
লোকসভায় সাফল্য পাওয়ার পর উপনির্বাচনে বিজেপির হারের জন্য দায়ী বিজেপি সভাপতি অমিত শাহও। আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়েই লোকসভায় বিপুল ভোটে পিছিয়ে থেকেও উপনির্বাচনে অসাধারণ কামব্যাক করতে সমর্থ হল তৃণমূল কংগ্রেস। মমতা-ঝড়ে ম্লান হয়ে গেল গেরুয়া শিবির। করিমপুর কেন্দ্রটি ধরে রাখার পাশাপাশি কালিয়াগঞ্জ ও খড়গপুরও বাম-কংগ্রেস ও বিজেপির কাছ থেকে ছিনিয়ে নিল তৃণমূল। এই জয়ের পর এবং প্রবল শক্তিধর হিসেবে ফিরে আসার জন্য বিজেপিকে বিশেষ করে অমিত শাহকে ধন্যবাদ দেন মমতা।












Click it and Unblock the Notifications