রাজ্যে আর কতদিন বাম-কংগ্রেস জোট, শীর্ষ নেতৃত্বের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে জল্পনা
রাজ্যে আর কতদিন বাম-কংগ্রেস জোট, শীর্ষ নেতৃত্বের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে জল্পনা
রাজ্যে বাম-কংগ্রেসের (left congress) জোট কি ভাঙনের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে? বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে সেই জল্পনা উঠতে শুরু করেছে। সিপিএম (cpim) রাজ্য সম্পাদক জানিয়েছিলেন, তাঁরা নিজেদের থেকে কোনও জোট ভাঙতে যাবেন না। তবে বিভিন্ন ঘটনাক্রম বলে দিচ্ছে, অচিরেই এই জোট ভাঙতে চলেছে।

ভবানীপুরে প্রার্থী নয়, বলেছিলেন অধীর
ঘোষণা না হলেও, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় ভবানীপুর থেকে পদত্যাগের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই যে ওই কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হচ্ছেন, তা ধরেই নিচ্ছে রাজনৈতিক মহল। এরই মধ্যে এই মাসের শুরুতেই অধীর চৌধুরী জানিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রার্থী দিতে চান না তারা। সেই কথা তিনি হাইকমান্ডকেও জানিয়েছেন। তবে এব্যাপারে হাইকমান্ড এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেয়নি। বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে জোটের প্রার্থী ছিল কংগ্রেসের। ফলে এই ঘোষণার পরেই প্রশ্ন ওঠে, তাহলে কি মমতার পাশেই যেতে শুরু করল কংগ্রেস।

শুধুমাত্র বামেদের জোট তৈরির দাবি ফরওয়ার্ড ব্লকের
নির্বাচনের আগে কংগ্রেস ও আইএসএফ-এর সঙ্গে জোট নিয়ে মৃদু আপত্তি ছিল ফরওয়ার্ড ব্লকের। নির্বাচনের ফল শূন্য আসার পরেই ফরওয়ার্ড ব্লকের দাবি মানুষ কংগ্রেস ও আইএসএফ-এর সঙ্গে জোটকে মেনে নেয়নি। কংগ্রেস ও আইএসএফ-এর সঙ্গে জোট ছিন্ন করে বামফ্রন্টের বাইরে থাকা বামদলগুলিকে নিয়ে জোট করতে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি দিয়েছেন, ফরওয়ার্ড ব্লকের রাজ্য সম্পাদক নরেন চট্টোপাধ্যায়।

১৯৭১-এর ঘটনা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট
১২ জুন বাম নেতৃত্ব বিশেষ করে সিপিএম-এর তরফে করা একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে জল্পনা ছড়িয়েছে। সেখানে ১৯৭১ সালে ১২ জুনের কথার উল্লেখ করা হয়েছে। নন্দীদ্রামের জোট প্রার্থী মীনাক্ষী মুখার্জি পোস্টে উল্লেখ করেছেন, ১৯৭১ সালের ১২ ই জুন সাঁই বাড়ির কুখ্যাত গুন্ডা নব সাঁই এর নেতৃত্বে কংগ্রেসী ঘাতক বাহিনী খণ্ডঘোষের থানার গোটা আহ্লাদিপুর গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়ে খুন করে ৪ জন কমরেডকে। শহীদ দিবসে ৪ বীর শহীদকে শ্রদ্ধা জানাই। লাল সেলাম শহীদ কমরেড সৈয়দ মির্জ্জা,আনসার মির্জ্জা, শিবুরাম, শরৎ দলুই।
এই একই বিষয়ে অপর একটি পোস্ট করেছেন রাজ্য থেকে রাজ্যসভায় সিপিএম সদস্য বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তাঁর করা পোস্টেও ১৯৭১-এর ঘটনা নিয়ে কংগ্রেসি গুণ্ডাদের কথা বলা হয়েছে। তবে বিকাশ ভট্টাচার্য ওই পোস্টে কার লেখা শেয়ার করেছেন, তাও জানিয়েছেন। প্রসঙ্গত বিকাশ ভট্টাচার্য শুধু সিপিএম সদস্য নন, তিনি আইনজীবীও। তার জন্যই আজ সারদা-নারদার মামলায় কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি তদন্ত করছে। এছাড়াও তার সঙ্গে আব্দুল মান্নানের সম্পর্কও খুবই ভাল।

পাল্টা পোস্ট কংগ্রেস অনুগামীদের
এই পোস্টের পাল্টা কংগ্রেস অনুগামীদের তরফে বিকাশ ভট্টাচার্যের অবস্থান নিয়ে কটাক্ষ করা হয়েছে। একাধিক পোস্টে বলা হয়েছে যে বিকাশ ভট্টাচার্য কংগ্রেসি গুণ্ডাদের কথা বলছেন, তাঁদের দয়াতেই তো তিনি রাজ্যসভায় গিয়েছেন। এটা কি তাঁর অফিসিয়াল স্টেটমেন্ট, সেটা কি রাজ্য সিপিএম নেতৃত্ব জানে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। আবার কেউ কেউ বলছেন, বিকাশ ভট্টাচার্য কি রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে ইস্তফা পত্র পাঠানোর ড্রাফট রেডি করে ফেলেছেন?
পরিস্থিতি পর্যালোচনা রাজনৈতিকমহলের একাংশ বলছেন, সিপিএম-এর তরফ থেকেই এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে, যাতে কংগ্রেস যদি জোট ছেড়ে যাওয়ার কথা ঘোষণা করে, তাহলে জোট ভাঙার দায় তাদের আর নিতে হবে না।












Click it and Unblock the Notifications