সরেজমিনে বন্যা পরিদর্শন সেচমন্ত্রীর, কী নির্দেশ প্রশাসনকে, দুর্গতদের কী বার্তা
উত্তরবঙ্গে অতিবৃষ্টির জেরে গত চারদিন বন্যা পরিস্থিতি সাংঘাতিক রূপ নিয়েছে। জল নামতে শুরু করায় নিচের তিন জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে শুরু করে।
উত্তরবঙ্গের বন্যা পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে উত্তরবঙ্গের সাত জেলার বন্যায়। প্রায় ১৫ লক্ষ মানুষ এই বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে নবান্ন সূত্র জানানো হয়েছে। এদিন বন্যা নিয়ে নবান্নে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়। সেখানেই বন্যার খতিয়ান তুলে ধরেন আধিকারিকরা। অন্যদিকে সেচমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনে যান এদিন। সরেজমিনে উপস্থিত থেকে বন্যা পরিস্থিতির মোকাবিলায় তদারকি করেন প্রশাসনিক কাজে।
উত্তরবঙ্গে অতিবৃষ্টির জেরে গত চারদিন বন্যা পরিস্থিতি সাংঘাতিক রূপ নিয়েছে। জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহারের জল নামতে শুরু করায় নিচের তিন জেলা অর্থাৎ দুই দিনাজপুর ও মালদহে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হতে শুরু করে। এলাকার সমস্ত নদীই বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে, তাল মিলিয়ে ভাঙছে নদী বাঁধ।

এলাকার সমস্ত রাস্তাই প্রায় জলের তলায়। এমনকী জাতীয় সড়কের উপর দিয়েও বইছে নদী। ভাঙছে রাস্তা, একের পর এক ব্রিজও ভেঙে পড়েছে। ফলে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে তিন জেলায়। উত্তরবঙ্গের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন কলকাতার। শুধু সড়কপথেই নয়, রেলপথেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বহু মানুষ আটকে পড়েছেন স্টেশনে স্টেশনে। বাসস্ট্যান্ডেও লম্বা লাইন। মানুষ ফিরতে পারছেন না, পৌঁছতে পারছেন না গন্তব্যেও।
এই প্রতিকূল অবস্থায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে সেচমন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় ছুটে গিয়েছেন বন্যাবিধ্বস্ত দক্ষিণ দিনাজপুরে। দক্ষিণ দিনাজপুরের জেলা সদর বালুরঘাটও জলমগ্ন। ২৫ বছর পর রেকর্ড বন্যায় শহরবাসী জলবন্দি হয়ে পড়েছেন। এদিন রাজীববাবু এলাকায় গিয়ে প্রশাসনিক বৈঠক করেন। প্রতিটি কোণায় কোণায় ত্রাণ পৌঁছনোর নির্দেশ দেন। কোনও গাফিলতি তিনি রেয়াত করবেন না বলেও জানান।
বালুরঘাটে পৌঁছে তিনি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে ত্রাণ তুলে দেন বন্যাকবলিত মানুষজনের হাতে। বলেন, 'মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে আমি আপনাদের পাশে দাঁড়াতে এসেছি। সরকার আপনাদের পাশে আছে। ত্রাণ পেতে কোনও সমস্যা হবে না।' তখন অভিযোগ ওঠে, মাথা গোঁজবার সহায় সম্বলটুকুও তাঁদের নেই। সব কেড়ে নিয়েছে সর্বনাশা বন্যা। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে একটা ত্রিপলও তাঁদের জোটেনি।
সেচমন্ত্রী এই অভিযোগ শোনার পর বলেন, 'এত বড় বন্যা হয়েছে যে, সড়ক যোগাযোগ, রেল যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে প্রত্যন্ত এলাকাগুলিতে ত্রাণ নিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে সবরকমের চেষ্টা করা হচ্ছে যাতে সবার হাতে ত্রাণ পৌঁছয়।' তিনি আধিকারিকদের নির্দেশ দেন, 'যাঁরা ত্রাণ পাননি, তাঁদের জন্য আগে ত্রাণের বন্দোবস্ত করতে।'












Click it and Unblock the Notifications