সরকারী দফতর গুলিতে এবার ‘ইন্টার্নশিপের’ সুযোগ পেতে চলেছে রাজ্যের পড়ুয়ারা
সরকারী দফতর গুলিতে এবার ‘ইন্টার্নশিপের’ সুযোগ পেতে চলেছে রাজ্যের পড়ুয়ারা
পশ্চিমবঙ্গের কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া পড়াশোনার সঙ্গে সঙ্গে সরকারি বিভিন্ন বিভাগ গুলিতেও এবার ইন্টার্নশিপের সুযোগ পেতে চলেছেন। সূত্রের খবর, চলতি সপ্তাহেই উত্তরবঙ্গ সফরে থাকাকালীন এই প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য রাজ্যের মুখ্য সচিব রাজীব সিনহাকে ইতিমধ্যেই নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মঙ্গলবার উত্তরকন্যায় একটি প্রশাসনিক বৈঠকে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে এমনটাই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। উত্তরবঙ্গ সচিবালয়ে বসে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'সরকার ঠিক করেছে এখন থেকে রাজ্যের পড়ুয়াদের বিভিন্ন সরকারি দফতরে ইন্টার্ন হিসাবে নেওয়া হবে। দুই তিন বছর সরকারি বিভাগগুলিতে কাজ করার ফলে পড়ুয়াদের অভিজ্ঞতাও যেমন বাড়বে পাশাপাশি এটা তাদের বায়োডাটাকেও আরও সমৃদ্ধ করবে। ’ তৃণমূল সূত্রে খবর, যুব-সমাজের পাশাপাশি ব্যাপী ছাত্র-ছাত্রীদের সামগ্রিক উন্নতির কথা মাথায় রেখে একাধিক নতুন পরিকল্পনার ব্যাপারেও এদিনের বৈঠকে আলোচনা হয়।
অন্যদিকে এদিনের বৈঠক-সভায় উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদেরও উপস্থিত থাকতেও দেখা যায়। পরিকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি, ছাত্রীদের জন্য হোস্টেলের আসন সংখ্যা বৃদ্ধি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ উপাচার্য নিয়োগ সহ একগুচ্ছ দাবিদাওয়াও তারা এদিন পেশ করেন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। পড়ুয়াদের সঙ্গে কথোপকথন চলাকালীন হঠাৎই সরকারি দফতরে পড়ুয়াদের ইন্টার্নশিপ সম্পর্কে সরকারের প্রস্তাবের কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী।
অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকেই এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ' ইতিমধ্যেই একাধিক রাজ্যে সরকারি দফতর গুলিতে পড়ুয়াদের ইন্টার্নশিপের প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। এর ফলে ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ যেমন কিছুটা সুরক্ষিত হবে তেমনই ইন্টার্নশিপ শেষে তারা একটা সরকারি সার্টিফিকেটও পাবে।’ প্রাথমিক ভাবে এই প্রকল্প শুধুমাত্র রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয় গুলির পড়ুয়াদের কথা মাথায় রেখেই শুরু করা হবে বলেও জানান তিনি।
তৃণমূল সুপ্রিমোর এই ঘোষণার পরই খুশির হাওয়া বইতে শুরু করে ছাত্র-যুবদের মধ্যে। উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়েরই ছাত্রী অনন্যা সরকার মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার বর বলেন, 'সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য এটি সত্যিই একটি ভাল প্রস্তাব। আমরা সাধারণত এই ধরণের সরকারি সুযোগ পাই না।’
যদিও 'ইন্টার্ন শিক্ষকের’ পর এবার ইন্টার্ন সরকারি কর্মচারী নিয়োগ প্রসঙ্গেও মমতাকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিরোধীরা। ২০২১শের ভোটের আগে রাজ্যের যুব-সমাজের ভোটব্যঙ্ক সুরক্ষিত রাখতেই সরকারের এই সিদ্ধান্ত বলে মত বিরোধী শিবিরের একাংশের।












Click it and Unblock the Notifications