রাজ্যের বকেয়া ৫ হাজার কোটি টাকা এখনই মিটিয়ে দিন! নির্মলাকে কড়া চিঠি অমিত মিত্রের
করোনার দ্বিতীয় ওয়েভে কাবু গোটা দেশ। যার রেশ পড়েছে বাংলাতেও। একদিকে সংক্রমণ ঠেকানো বড় চ্যালেঞ্জ অন্যদিকে রাজ্যের মানুষকে বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর উপর বাংলাতে আছড়ে পড়
করোনার দ্বিতীয় ওয়েভে কাবু গোটা দেশ। যার রেশ পড়েছে বাংলাতেও। একদিকে সংক্রমণ ঠেকানো বড় চ্যালেঞ্জ অন্যদিকে রাজ্যের মানুষকে বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর উপর বাংলাতে আছড়ে পড়েছে ইয়াস। ক্ষতিগ্রস্থ বাংলার একাধিক অঞ্চল।
একের পর এক ধাক্কায় বেহাল রাজ্যের অর্থনীতি। ক্রমশ চাপ বাড়ছে। এই অবস্থায় কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীকে কার্যত কড়া ভাষায় চিঠি দিলেন অর্থমন্ত্রী অমিত মিত। বকেয়া পাওয়া চেয়ে এই চিঠি মন্ত্রীর।

সীতারমণকে চিঠি দিয়ে অমিত মিত্রের বকেয়া দাবি
একদিকে করোনা পরিস্থিতি অন্যদিকে ইয়াস। দুইয়ের উপর চাপ বেড়েছে রাজ্য সরকারের উপর। এই অবস্থায় পশ্চিমবঙ্গের পাওনা প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা চাইলেন অমিত মিত্র। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মল সীতারমণকে চিঠি লিখে বকেয়া মেটানোর দাবি রাজ্যের অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র। যদিও এখনও বকেয়া মেটানোর বিষয়ে কিছুই জানানো হয়নি কেন্দ্রের তরফে। অন্যদিকে এই বিষয়ে একাধিক বার রাজ্যের বকেয়া মেটানোর দাবিতে কেন্দ্রের কাছে সোচ্চার হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এবার কেন্দ্রের উপর চাপ বাড়ালেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী।

অমিতের প্রশ্ন!
শুক্রবার নির্মলা সীতারমণকে চিঠি দিয়ে অমিত মিত্র প্রশ্ন তোলেন যে কোভিড ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের আবহে কেন্দ্র গত ১০ মাস ধরে (এপ্রিল, ২০২০ থেকে জানুয়ারি, ২০২১) কেন রাজ্যের পাওনা টাকা আটকে রেখেছে। পযাপ্ত অর্থের অভাবে মহামারী ও ত্রাণ বিলিতে রীতিমতো সমস্যায় পড়তে হচ্ছে রাজ্য প্রশাসনকে। ফলে পাওনা ৪ হাজার ৯১১ কোটি টাকা যেন এখনই মিটিয়ে দেওয়া হয়। নির্মলা সীতারমনকে লেখা চিঠিতে কড়া ভাবেই এই টাকা মেটানোর কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি, জিএসটির ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সময়সীমা আরও অন্তত পাঁচ বছর বাড়িয়ে দেওয়ারও দাবি করেছেন অমিত মিত্র। তাড়াহুড়ো করে জিএসটি চালু করেছিল কেন্দ্র। কিন্তু তারপরই এসে পড়েছে বিশ্বব্যাপী মহামারী। কাজেই জিএসটি ক্ষতিপূরণের বিষয়টি হিসেব মতো পাঁচ বছরে স্থিতিশীল হয়নি। তাই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ২০২২ সালের জুলাই মাসের পরেও আরও অন্তত পাঁচ বছর জিএসটি ক্ষতিপূরণের সময়সীমা বাড়িয়ে দেওয়ার দাবি তোলেন তিনি।

১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করে কেন্দ্রীয় সরকার
ইয়াসে ক্ষতিগ্রস্ত ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডের জন্য ১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করে কেন্দ্রীয় সরকার। ৫০০ কোটি টাকা সঙ্গে সঙ্গে দেওয়া হয় ওড়িশাকে। ক্ষয়ক্ষতি খতিয়ে দেখার পর বাকি ৫০০ কোটি টাকা দেওয়া হবে বাংলা ও ঝাড়খণ্ডকে। ইয়াস-পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এমনটাই ঘোষণা করেণ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শুধু তাই নয়, বাংলার প্রয়োজনে আরও সাহায্য করা হবে বলে জানিয়ে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তবে সেই ক্ষয়ক্ষতি কেন্দ্রীয় টিম খতিয়ে দেখার পরেই দেওয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

আসছে কেন্দ্রীয় টিম
সেই মতো ইয়াস দাপটে বিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শনে রাজ্যে আসছে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দল। আগামী রবিবার থেকে বুধবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করবেন কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিরা। জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় দলটিতে থাকছেন সাতজন সদস্য। ঘূর্ণিঝড়ের দাপটে বিধ্বস্ত পাথরপ্রতিমা, দীঘা, গোসাবা, মন্দারমণি যাবেন কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিরা। জায়গাগুলি পরিদর্শন শেষে দিল্লিতে রিপোর্ট পাঠাবেন তাঁরা। এই বিষয় ইতিমধ্যে নবান্নের কাছে খবর পাঠিয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। যদিও সেই টিমের সঙ্গে রাজ্যের তরফে কেউ থাকবে কিনা তা এখনও জানানো হয়নি। আর এই টিম আসার খবরের পরেই বকেয়া চেয়ে চিঠি রাজ্যের অর্থমন্ত্রীর।












Click it and Unblock the Notifications