স্যালারি অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলা বন্ধ করতেই ইডির হাতে ধরা পড়ল কেন্দ্র সরকারের কেরাণী
স্যালারি অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলা বন্ধ করতেই ইডির হাতে ধরা পড়ল কেন্দ্র সরকারের কেরাণী
কেন্দ্র সরকারের স্বাস্থ্য প্রকল্পে সামান্য কেরাণির কাজ করত সে। আর্থিক তদন্তকারি সংস্থা তার কাছ থেকেই ১.৭ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করল। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে কলকাকায়। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টোরেট (ইডি) জানিয়েছে স্নেহাশিস কর ও তার পরিবারের কাছ থেকে ১.৭ কোটি টাকার সম্পত্তি পাওয়া গিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অসমর্থিত সম্পত্তির মামলায় অর্থ তছরূপ প্রতিরোধ ২০০২ সালের আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

কেন্দ্র সরকারের কেরাণীর কাছে দু’টি ফ্ল্যাট, গাড়ি
জানা গিয়েছে, স্নেহাশিস বহুমাস তাঁর স্যালারি অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তোলেনা, এরপরই সে ইডির সন্দেহের তালিকায় আসে। এই বাজেয়াপ্ত সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, ডাক বিভাগের অ্যাকাউন্ট, এলআইসি পলিসি, একটি গাড়ি ও কলকাতায় দু'টি ফ্ল্যাট। ইডি এ প্রসঙ্গে বলে, ‘দু'টি ফ্ল্যাটের মধ্যে একটি ফ্ল্যাট স্নেহাশিস করের ও অন্য ফ্ল্যাটের মালিক তার ভাই। যদিও দু'টি ফ্ল্যাটই স্নেহাশিস কেনে কিন্তু পরে দ্বিতীয় ফ্ল্যাটটি সে তার ভাইয়ের নামে করে দেয় উপাহার হিসাবে দিয়ে।'

অর্থের উৎস জানাতে পারেনি অভিযুক্ত
সিবিআই এই স্নেহাশিষ করের বিরুদ্ধে এফআইআর করে। স্নেহাশিস কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্য প্রকল্পের অ্যাডিশনাল ডিরেক্টরের দপ্তরে উচ্চবিভাগের কেরাণী। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে সে তার পদের অপব্যবহার করে ৫৩.৭৩ লক্ষ টাকার অসমর্থিত সম্পত্তি তৈরি করেছে। জানা গিয়েছে যে ১৯৮১ সালে স্নেহাশিস কর কেন্দ্র সরকারের প্রকল্পে একজন ঠিকা কর্মী হিসাবে যোগ দেয় ও ১৯৮২ সালে নার্সিং পরিচারক হিসাবে নিয়মিত কর্মী হয়। ২০১৭ সাল পর্যন্ত সে উচ্চস্তরের কেরাণী পদে যুক্ত ছিল। তার স্যালারি অ্যাকাউন্ট ছাড়াও স্নেহাশিস করের অন্য ব্যাঙ্ক ও ডাক বিভাগে অ্যাকাউন্ট রয়েছে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে। ওই অ্যাকাউন্টগুলিতে সে মোটা টাকা ডিপোসিট করত। যদিও এই বিপুল পরিমাণ অর্থের সূত্র কোথা থেকে এসেছে সে বিষয়ে কিছুই জানাতে পারেনি অভিযুক্ত। ইডি জানিয়েছে যে কেন্দ্র সরকারের ওই কর্মীর বেশ কিছু ফিক্সড ডিপোজিট ও তার ও পরিবারের সদস্যদের নামে বেশ কিছু বিনিয়োগ রয়েছে।

অভিযুক্ত বেতনের টাকা তুলত না বহু মাস
ইডি বলেছে, ‘এমনকি তিনি কলকাতায় দুটি ফ্ল্যাট এবং গাড়ি, গয়না ইত্যাদির মতো অন্যান্য সম্পদের আকারে স্থাবর সম্পত্তি অর্জন করেছেন। তদন্তকারিরা প্রকাশ করেছে যে সে বেশ কিছু মাস তার স্যালারি অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলছিল না এবং বেআইনি অর্থ দিয়ে সে তার সংসার ও অন্যান্য খরচ বহন করছিল।'












Click it and Unblock the Notifications